ঢাকার বনশ্রীতে নিহত ভাই-বোনের লাশ-331022 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


ঢাকার বনশ্রীতে নিহত ভাই-বোনের লাশ জামালপুরে দাফন

জামালপুর প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৩৬



ঢাকার বনশ্রীতে নিহত ভাই-বোনের লাশ জামালপুরে দাফন

ঢাকার বনশ্রীতে নিজ বাসভবনে খুন হওয়া বড় বোন শিশু নুসরাত জাহান অরনি(১২) এবং ছোট ভাই শিশু আলভি আমান(৬) এর লাশ জামালপুর পৌর গোরস্থানে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত রবিবার তারা খুন হয়।  

নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুদ্বয়ের পিতা আমান উল্লাহ এবং মাতা মাহফুজা মালেক জেসমিনের স্থায়ী নিবাস জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রায়েরপাড়া গ্রামে। আবার জামালপুর জেলা শহরের ইকবালপুর এলাকায় তাদের বাসাবাড়ি রয়েছে। জামালপুরের দুটি বাসাবাড়ি রেখেও ব্যবসায়িক কারণে আমান উল্লাহ দীর্ঘদিন যাবত স্ত্রী ও সন্তান দ্বয়কে নিয়ে ঢাকা রামপুরা বনশ্রীর ৪ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন। তাদের বড় সন্তান নুসরাত জাহান অরনি ঢাকা সিদ্ধেশ্বরী এলাকার ভিখারুন্নেছা নুন স্কুল এন্ড কলেজে ৭ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করত। ছোট সন্তান আলভি আমান হলি ক্রিসেন্ট স্কুলে শিশু শ্রেণিতে পড়ত। প্রতিদিনের ন্যায় রবিবার বিকালে শিশু ভাই-বোনদ্বয় নিজ বাসায় দুইজন গৃহ শিক্ষিকার কাছে পড়াশুনা করছিল। তখন শিশু দুটির মা মাহফুজা মালেক জেসমিন পার্শ্বের কক্ষেই ঘুমাচ্ছিলেন। সন্ধ্যায় মা মাহফুজা মালেক জেসমিন ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার দুই সন্তান ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। পরে শিশু দুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন এবং ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা আজ মঙ্গলবার লাশ দুটি নিহতদ্বয়ের পিতা আমান উল্লাহর জামালপুরের বাসায় এনে জামালপুর পৌর গোরস্থানে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডাঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস এর দেওয়া ময়নাতদন্ত রিপোর্টের তথ্য সুত্রে জানা গেছে, শিশুদ্বয়কে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ডাক্তারের তথ্যানুযায়ী নিহত শিশুদ্বয়ের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন ছিল। অরণীর চোখে রক্ত জমাট ও গলায় আঘাত এবং আলভি আমানের পায়ে ও গলায় আঘাত ছিল।

নিহত শিশুদ্বয়ের পিতা আমান উল্লাহ জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্টের তথ্য সুত্রে তিনি জেনেছেন তার শিশু সন্তান দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে আমান উল্লাহ তার সন্তানদ্বয়কে হত্যার কোন কারণ বলতে পারেনি। এছাড়াও কোন বিষয়ে কারো সাথেই আমান উল্লাহ’র কোন প্রকার শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না বলেও তিনি দাবি করেছেন। এদিকে এ ব্যাপারে নিহতদ্বয়ের মা মাহফুজা মালেক জেসমিন এর সাথে চেষ্টা করেও সাক্ষাতকার বা কোন বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আমান উল্লাহর জামালপুর শহরের ইকবালপুর এলাকার বাসভবন থেকে নিহতদ্বয়ের লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।

মন্তব্য