kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চাঁদপুরে মেঘনায় দু’মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ মার্চ, ২০১৬ ২১:৫৯



চাঁদপুরে মেঘনায় দু’মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মার্চ-এপ্রিল এ দুই মাস জাটকাসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। জাতীয় মাছ ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরের ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীতে দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়।


২০০৬ সাল থেকে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের বিস্তীর্ণ নদীসীমাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ইলিশের পোনা জাটকা নিধন প্রতিরোধকল্পে চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার নদীতে মার্চ-এপ্রিল এ দু’মাস ধরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মৎস্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে চাঁদপুরের নদীসীমানা হচ্ছে ৬০ কিলোমিটার।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান জানান, চাঁদপুরে মেঘনায় মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত রয়েছে ৩৬ হাজার ৫শ’ ৩৫ জন জেলে। এসব জেলেদের মধ্যে ২৮ হাজার ৯শ’ ৬৭ জেলেকে নিষিদ্ধ সময়ে ৪০ কেজি করে ৪ মাস চাল দেয়া হবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিনা এলাকার জেলে আবুল কাশেম ও মো. হারুন বলেন, আমাদের মাঝে দুই মাস ইলিশ অভয়াশ্রমকালীন সময়ে যেই পরিমাণ চাল দেয়ার কথা তা ঠিকমতো বিতরণ করা হয় না। অধিকাংশ সময় নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে ৫ বা ১০ কেজি করে চাল কম দেয়া হয়।
জেলে ওসমান ও খলিল বলেন, জেলেদেরকে নিষিদ্ধ সময়ে পুরোপুরি মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে হলে ঘোষণা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ ৪০ কেজি করে চাল দেয়ার পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান জানান, অভিযানকালে যদি কেউ মাছ ধরে বা জাল ফেলে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে জেল খাটা, জাল পুড়িয়ে দেয়া ও ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এসব জরিমানা এক বা একাধিকও হতে পারে।
জেলা মৎস্য অফিস জানায়, মেঘনায় নিষিদ্ধ সময়ে ১ হাজার ২শ’ ৬০ জন জেলেকে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে রিকশা, ভ্যান, হাঁস-মুরগী ও সেলাই মেশিন প্রদান করা হবে। আগামীতে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা হবে।
মৎস্য কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান জানান, জেলেরা যাতে নির্দিষ্ট সময়ে পদ্মা-মেঘনায় মাছ শিকার করতে না পারে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই কর্মকর্তার দাবি, জেলেদের মাঝে নিয়ম অনুযায়ী সঠিক মাপে চাল দেয়া হচ্ছে। এরপরও কারো অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


মন্তব্য