kalerkantho


কাল চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৩:২৯



কাল চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী

৮ ফেব্রুয়ারি চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী। এই উপলক্ষে ওই দিন বাদ আসর মাদারীপুর শহরের মসজিদগুলোতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটি থেকে স্নাতক উত্তীর্ণের পর থেকেই শিল্পী আনোয়ার হোসেনের নানা বৈচিত্র্যময় ছবি এঁকেছেন। ক্যানভাস হিসেবে দিয়াশলাইয়ের খাপের কাঠের অংশের ওপর নৌকা এবং অনিবার্যভাবে ব্যতিক্রমভাবে নদীর দৃশ্যও চিত্রায়িত করেন। এ ছাড়া তিনি ছবির উপকরণ হিসেবে আঠা, গাছের পাতা, ছাল, মাছের কাটা, হাড়, টুকরা কাপড় ইত্যাদি ব্যবহার করতেন।

আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের সাড়া জাগানো 'দি ফাদার' ছবির মুখ্য ভূমিকায় অভিনয়কারী তৎকালীন ইউএনডিপি’র ঢাকাস্থ অফিসের এক কর্মকর্তা মার্কিন নাগরিক জন অ্যাডাম নেপিয়ার ওই সিনেমায় কাজী আনোয়ার হোসেনের বেশ কিছু ছবি ব্যবহার করেন। আমেরিকায় ফেরার সময়ে শিল্পীর ছবিও সঙ্গে করে নিয়ে যান।

১৯৮৮ সালের বন্যার ছবি এঁকে একক চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। সেই ছবি বিক্রির টাকা বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসনে সহায়তা করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশে বিদেশে ২২টিরও বেশি একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছে তাঁর ছবি। রক্ষিত হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরসহ দেশের অনেক আর্ট গ্যালারিতে।

তাঁর ছেলে কাজী আশিকুর হোসেন অপু জানান, তার বাবার ছবির বিশিষ্ট সংগ্রাহকদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, নেপালের রাজা, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত, যুগোস্লোভিয়ার বিশ্ব নেতা মার্শাল টিটো, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন, সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন।

শিল্পীর ছেলে আরো জানান, স্বাধীনতার পর ভারতের প্রয়াত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশে সফরে এলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্পীর হাতে আঁকা একটি ছবি উপহার দেন। যা বর্তমানে নয়া দিল্লির মর্ডান আর্ট গ্যালারিতে শোভা পাচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই শিল্পীকে আদর করে নৌকা আনোয়ার বলে ডাকতেন। তার নির্দেশেই তিনি সারাজীবন নৌকার ছবি এঁকে গেছেন।

২০০৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রংতুলি হাতে নিয়েই তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত-অনুরাগীদের রেখে মারা যান।

৮ ফেব্রুয়ারি এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার কাজীবাড়ির নিজ বাসভবনসহ জেলা শহরের মসজিদগুলোতে বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন তার বড় ছেলে কাজী আশিকুর হোসেন অপু।



মন্তব্য