• ই-পেপার

গোপালগঞ্জে কলেজছাত্রীকে এসিড নিক্ষেপ

মিরসরাই

পাহাড়ের চূড়া থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পাহাড়ের চূড়া থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পাহাড়ের চূড়া থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের (৮০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাদী ফকিরহাট বাজারের পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি পাহাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা পাহাড়ের চূড়ায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে মিরসরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ব্যক্তি একজন ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। উদ্ধারকালে তার শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। তবে সুরতহালে শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মিরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে।’

রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে যুবক নিহত

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে যুবক নিহত

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত অনিক দড়িগাঁ এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে এবং নাজিম উদ্দিনের অনুসারী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আলাল মুন্সির অনুসারীরা। এর জেরে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায়। ভোর থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় চলা সংঘর্ষ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) এবং অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা (৬০)। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আলাল মুন্সি ও নাজিম উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মামুন মিয়া নামে এক প্রবাসী নিহত হন। নিহত মামুন নাজিম উদ্দিনের অনুসারী ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরেই মঙ্গলবার দুই পক্ষের মধ্যে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, বর্তমানে এলাকায় গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা পলাতক।

রায়পুরা থানা পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ জানান, পূর্ববিরোধের জেরে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কক্সবাজার

নিখোঁজের ৪৫ ঘণ্টা পর ডোবা থেকে ৭ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
নিখোঁজের ৪৫ ঘণ্টা পর ডোবা থেকে ৭ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ৪৫ ঘণ্টা পর ওয়াহিদুল ইসলাম (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাতটার দিকে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ফজুমিয়াজির চরের পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশু পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের মো. তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ভাসমান অবস্থায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ওই ডোবা থেকে সকাল ৯টার দিকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, শিশু ওয়াহিদুল নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মরদেহ পরিত্যক্ত ডোবার ময়লা পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এই কারণে মরদেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 

শিশুর বাবা ইজিবাইক (টমটম) চালক তৌহিদুল ইসলাম লিটন জানান, তার সন্তান মাইজপাড়া নূরানী মাদরাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। রবিবার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাদরাসায় পড়াশোনা শেষ করে বাড়ি ফেরার সময়ই নিখোঁজ হয় সে। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হলেও তার হদিস মিলছিল না। ৪৫ ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে স্থানীয় লোকজন পাশের চার নম্বর ওয়ার্ডের ফজুমিয়াজির চরের পরিত্যক্ত ডোবার ময়লা পানিতে ওয়াহিদুলের মরদেহ ভাসতে দেখে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মাসুদ জানান, এ ঘটনায় পরিবারসহ এলাকাবাসীর সন্দেহ অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক। আশা করছি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ শিশুর প্রতি বর্বরোচিত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তপূর্বক গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে। 

কক্সবাজার জেলা পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিত দাস বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।’

নেটওয়ার্কের সন্ধানে আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন শিক্ষক

অনলাইন ডেস্ক
নেটওয়ার্কের সন্ধানে আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন শিক্ষক
সংগৃহীত ছবি

অনলাইনে হাজিরা দিতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেটওয়ার্কের খোঁজে পাহাড়ের চূড়ার এক আমগাছে উঠে অবস্থান নেন এক শিক্ষক। রাঙামাটি জেলার সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ওই শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ আবু তাহের।

সরকার সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ৯টার মধ্যে স্কুলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের হাজিরা খাতার ছবি অনলাইনে (হোয়াটসঅ্যাপ) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করতে হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করবেন। পর্যায়ক্রমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিদিনের তথ্য পৌঁছাবে।

সোমবার ওই শিক্ষক অনলাইনে হাজিরা দিতে গিয়ে নেটওয়ার্কের খোঁজ করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে এক আমগাছের ডালে অবস্থান নিতে বাধ্য হন।

প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, অনলাইনে শিক্ষক হাজিরা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার স্কুলটি পাহাড়ের প্রায় তিন-চার শ ফুট নিতে অবস্থিত। সকালে স্কুলে এসে ছাদ থেকে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সেখানে নেটওয়ার্ক পাননি। পরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও নেটওয়ার্ক খুঁজে পাননি। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের ডালে উঠে কোনোরকম নেটওয়ার্ক পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা খাতার ছবি পাঠান।

তিনি আরো জানান, চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে গাছে উঠতে হয়েছে, নইলে তার পরিবারের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে যেত।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি স্কুলের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। ২৮টি স্কুলের ৮৩ জন শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, ‘সমতলের শিক্ষকরা অনলাইন হাজিরা সহজে দিতে পারলেও পাহাড়ি এলাকায় এটি অনেক কঠিন। রাঙামাটি জেলার অনেক জায়গায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি বিদ্যুৎও পৌঁছায়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এমনকি জেলা সদরের অনেক এলাকায়ও ঠিকমতো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।’ তাই পাহাড়ি এলাকার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭০৮টি স্কুলের মধ্যে প্রথম দিন (সোমবার) ৫৩৮টি স্কুলের শিক্ষক হাজিরার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১৭০টি স্কুল মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) কফিল উদ্দিন বলেন, আপাতত নির্দেশনা অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় আছে, সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো এসএমএসে সম্ভব, সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি এলাকাগুলোর তালিকা ঢাকায় পাঠানো হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গোপালগঞ্জে কলেজছাত্রীকে এসিড নিক্ষেপ | কালের কণ্ঠ