kalerkantho


শিবচরে মাঝ নদীতে ফেলা হচ্ছে ড্রেজিংকৃত বালু

শিবচর প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৪ ১৬:৫৯



শিবচরে মাঝ নদীতে ফেলা হচ্ছে ড্রেজিংকৃত বালু

অব্যাহত পলি পড়ে ডুবোচর ও নাব্যতা সংকটে মৃতপ্রায় আড়িয়াল খাঁ নদের জীবন ফিরিয়ে আনতে শুরু হওয়া ড্রেজিং কার্যক্রমে সফলতা নিয়ে চরম সংশয় দেখা দিয়েছে। কর্তব্যরত বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তাদের গাফলতিতে ড্রেজিংকৃত বালু মাঝ নদীতে ফেলায় এ সংশয় দেখা দিয়েছে।

ড্রেজিংয়ের গতি নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে একাধিক সুত্র মারফত জানা যায়, প্রতিবছর আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙনে আড়িয়াল খাঁ নদের উৎসমুখ ফরিদপুরের সদরপুরের পেয়াজখালী থেকে শিবচর হয়ে নদের প্রায় শত কিলোমিটারে অসংখ্য ডুবোচর উঠে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। এতে নৌচলাচল ব্যাহত ছাড়াও নদের ডলফিন, কুমিরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। এমনকি নদের অনেক স্থান শুকিয়ে যাওয়ায় পায়ে হেঁটেই পার হওয়া যেত। নদটির প্রাণ ফিরিয়ে আনতে গত ১৮ অক্টোবর থেকে বিআইডব্লিউটিএ-এর ১৪-১৮৪ নামক একটি ড্রেজার ড্রেজিং কাজ শুরু করে। উৎসমুখ থেকে শিবচর হয়ে ৮০ কিলোমিটার নৌপথ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে চলবে ড্রেজিং কার্যক্রম। ১২০ ফুট প্রশস্থে ও ১০ ফুট গভীর করে ড্রেজিং হওয়ার কথা। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান প্রকল্পটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১২ নৌরুট প্রকল্পের আওতাভুক্ত। ড্রেজিং কার্যক্রম শুরুর পর নদটির তীরবর্তী মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার ঘটে। কিন্তু এক মাস না পেরোতেই আশা নিরাশায় রুপ নেয়। শুরুতেই ড্রেজিংকৃত বালু শিবচর অংশের হাজি শরীয়তউল্লাহ সেতু এলাকায় নদীর মাঝেই ফেলায় প্রকল্পটির সফলতা নিয়ে চরম সংশয় দেখা দিয়েছে। এখনো নদীতে পলি ফেলায় আবারো পলি আগের স্থানসহ মাঝনদীর গভীর স্থানগুলো ভরাট হচ্ছে। বিষয়টি তদারকির জন্য বিআইডব্লিউটিএ-এর দুই উপসহকারী প্রকৌশলী থাকলেও তাদের চাকরির বয়স মাত্র ৬ মাস হওয়ায় অনভিজ্ঞতার কারণে তাদের সামনেই চলছে মাঝ নদী ভরাট কার্যক্রম। অথচ অপসারণকৃত বালুগুলো নদীতীরবর্তী এলাকায় আলাদা স্থানে সংরক্ষণ করার কথা বলে জানিয়েছেন খোদ বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে ড্রেজিং বিভাগে কর্মরত বিআইডাব্লিউটিএ-এর কারিগরি সহকারী (সিভিল) রাসেল ভূইয়া বলেন, নদীতীরবর্তী স্থানে আলাদা জায়গা করে পলি ফেলার নিয়ম। যেহেতু ওটা নদীর পার তাই ফেলছি। ড্রেজিং বিভাগে আরেক কর্মরত বিআইডব্লিউটি-র উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সৈয়দ রফিকুল হায়দার বলেন, সামনে গিয়ে আমরা আলাদা জায়গা করে বালু অপসারণ করা হবে। আপাতত এভাবে ফেলা হচ্ছে।
অন্যদিকে ভিন্নমত পোষণ করে বিআইডাব্লিউটি-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মাশুকুল আলম বলেন, অপসারণকৃত বালুগুলো নদীতীরবর্তী এলাকায় আলাদা স্থানে ফেলা হবে। পলি নদীতে ফেলানো হবে না। ড্রেজিং কার্যক্রম আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে চলছে।


মন্তব্য