সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. বাকী মির্জা হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১) আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় দেন। একই আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. শামসুজ্জোহা (শাহানশাহ) এ তথ্য জানান।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার খাগা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন কিরণ ও শহরের জানপুর মহল্লার জেল হকের ছেলে ও ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি জাকারিয়া মাসুদ ওরফে জাকারিয়া।
মামলার বরাত দিয়ে অ্যাডভোকেট মো. শামসুজ্জোহা (শাহানশাহ) বলেন, ২০১১ সালের ১৫ এপ্রিল রাতে সিরাজগঞ্জ কোর্ট ভবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত সরকারি ব্যাচেলর কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলার ৮ নম্বর কক্ষে ডা. বাকী মির্জাকে হাত-পা বেঁধে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল লতিফ মির্জা বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তকালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আসামি আনোয়ার হোসেন কিরণ ও রুহুল আমিন বাবু ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে রুহুল আমিন বাবু মারা গেলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
অ্যাডভোকেট মো. শামসুজ্জোহা বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিচারক আনোয়ার হোসেন কিরণ ও জাকারিয়া মাসুদ ওরফে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আনোয়ার হোসেন কিরণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জাকারিয়া মাসুদ ওরফে জাকারিয়া পলাতক রয়েছেন। হাজতবাসকালীন দণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
শামসুজ্জোহা আরো বলেন, মামলার অপর আসামি ডা. আব্দুল লতিফ হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন করায় তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম স্থগিতাদেশ দিয়ে অপর আসামিদের জন্য মামলার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। এ কারণে ডা. আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে মামলা নিস্পত্তির এই পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগের ওই আদেশ ভ্যাকেট করলে ডা. আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আলোচ্য মামলাটি পুনরায় চালুপূর্বক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেছেন।





