• ই-পেপার

গাজায় শিশু হত্যার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে শিশুদের মানববন্ধন

কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করে ছুরি নিয়ে থানায় স্কুলছাত্র

থানার সামনে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ

ভোলা প্রতিনিধি
কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করে ছুরি নিয়ে থানায় স্কুলছাত্র
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভোলার লালমোহনে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করে ছুরি নিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেছে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্র। ছুরিকাঘাতের সময় কলেজছাত্রের সঙ্গে থাকা মো. আরমান ও মো. আশরাফ নামের আরো দুই কলেজছাত্র আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বণির্ভর সড়ক সংলগ্ন বালুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে।   

মৃত কলেজছাত্রের নাম মো. ইব্রাহিম খলিল নয়ন (১৮)। তিনি লালমোহন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিনের ছেলে ও লালমোহন ডা. আজহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর হত্যাকারীর নাম আব্দুল্লাহ আল মানিক। সে উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ফুলবাগিচা এলাকার মো. আলাউদ্দিনের ছেলে এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে দিকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বণির্ভর সড়ক এলাকায় স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ আল মানিকের সঙ্গে কলেজছাত্র ইব্রাহিম খলিল নয়নের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় মানিক ইব্রাহিম খলিল নয়নকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কলেজছাত্র মো. আরমান ও মো. আশরাফ। এ সময় তাদেরও এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে মানিক। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম খলিল নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া মো. আরমান ও মো. আশরাফের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর স্কুলছাত্র মানিক হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি নিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করে।

এ ঘটনায় দুপুর ৩টার দিকে ইব্রাহিম খলিলের সহপাঠীরা লালমোহন থানার সামনে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত আটক রয়েছে। 

সত্যজিৎ কুমার ঘোষ আরো বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে আরো যারা জড়িত রয়েছে, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।


 

এইচএসসির প্রথম দিনে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ১২৭ পরীক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
এইচএসসির প্রথম দিনে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ১২৭ পরীক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র পরীক্ষায় বিভাগের চার জেলার ৯৬টি কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ১২৭ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। তবে কোনো পরীক্ষার্থী বা পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীনের সই করা দৈনন্দিন তথ্য বিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়।

তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডের অধীন ৯৬টি কেন্দ্রে মোট ৫৭ হাজার ১৭৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬ হাজার ৪৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ১২৭ জন। অনুপস্থিতির হার ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিলেট জেলার ৩৭টি কেন্দ্রে ২৫ হাজার ১৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭৩ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এ জেলায় অনুপস্থিতির হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

হবিগঞ্জ জেলার ২০টি কেন্দ্রে ১০ হাজার ১৮০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩৯ জন অনুপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিতির হার ছিল ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

মৌলভীবাজার জেলার ১৭টি কেন্দ্রে ১১ হাজার ৩২৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫৮ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এ জেলায় অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ২৮ শতাংশ।

সুনামগঞ্জ জেলার ২২টি কেন্দ্রে ১০ হাজার ৬৫০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫৭ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এ জেলায় অনুপস্থিতির হার ছিল ২ দশমিক ৪১ শতাংশ।

শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, প্রথম দিনের পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী বা পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়নি। জেলা প্রশাসকদের পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

২০২৭ সালের মধ্যে ফোল্ডেবলসহ ৫টি নতুন আইফোন আনতে চায় অ্যাপল

অনলাইন ডেস্ক
২০২৭ সালের মধ্যে ফোল্ডেবলসহ ৫টি নতুন আইফোন আনতে চায় অ্যাপল
ছবি : রয়টার্স

আগামী ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে অন্তত পাঁচটি নতুন আইফোন বাজারে আনার পরিকল্পনা করেছে অ্যাপল। একই সঙ্গে ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা যায় এমন আইফোনের উৎপাদনও বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়।

নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নতুন মডেলের আইফোন বাজারে আনবে অ্যাপল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোল্ডেবল আইফোনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ কোটি ইউনিট করেছে কম্পানিটি। আগে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখ ইউনিট ধরা হয়েছিল।

প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আসা নতুন মডেলগুলোর জন্য প্রায় ৮ কোটি ফোনের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে অ্যাপল।

ধারণা করা হয়, ২০২৬ সালে অ্যাপলের মোট আইফোন উৎপাদন ২২ কোটির বেশি হবে। 

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস এবং ইয়াংজি মেমোরি টেকনোলজিস থেকে চীনে বিক্রি হওয়া আইফোনের জন্য মেমোরি চিপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে অ্যাপল বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি কোম্পানিটি।

নিক্কেই এশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে আইফোন ১৮ এবং নতুন আইফোন এয়ার মডেলও বাজারে আনতে পারে অ্যাপল।

বিশ্বজুড়ে যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের মধ্যেও নতুন পণ্যের মাধ্যমে বাজারে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে চায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

বগুড়ার নিমেরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অপসারণ হয়নি

বগুড়া অফিস
বগুড়ার নিমেরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অপসারণ হয়নি
৪ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা বগুড়ার সোনাতলায় জোড়গাছা ইউনিয়নের নিমেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বগুড়ার সোনাতলায় জোড়গাছা ইউনিয়নের নিমেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন ৪ বছর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও আজও তা অপসারণ করা হয়নি। ফলে যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে নিমেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে এলজিইডি একটি ভবন নির্মাণ করে। ভবনটি নির্মাণের মাত্র ৩২ বছরের মাথায় ওই ভবনের ছাদের প্লাস্টার ধসে পড়ছে। এমনকি বৃষ্টি এলেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার জন্য ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি পত্র এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বরাবরে দাখিল করেন। এর পরপরই ওই বিভাগ ভবনটি যাচাই করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। বর্তমানে ওই ভবনের দরজা-জানালা নেই। স্কুল ছুটির পর পুরো স্কুল ক্যাম্পাসটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া সন্ধ্যার পর ওই পরিত্যক্ত ভবনে নেশাখোর ও জুয়াড়ুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। স্কুল সময়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ওই ভবনের পরিত্যক্ত শ্রেণিকক্ষে খেলাধুলায় মেতে ওঠে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের পাঠদানের জন্য ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছেন।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০২২ সালে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ৪ কক্ষ বিশিষ্ট পূর্ব-পশ্চিম দক্ষিণ দুয়ারী ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও আজ অবধি তা অপসারণ করেনি। ফলে তৈরি হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বারবার আবেদন নিবেদন করেও কোনো ফল হয়নি। ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মিত হয়েছিল।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনায়েতুর রশীদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘নিভৃত পল্লী এলাকার ওই প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এলজিইডিকে বলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি তিনি অত্র উপজেলায় যোগদান করেছেন। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গাজায় শিশু হত্যার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে শিশুদের মানববন্ধন | কালের কণ্ঠ