• ই-পেপার

নূর হোসেনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চলছে

সাভারে বজ্রপাতে ক্ষেতের মালিকসহ ৩ কৃষক নিহত

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ
সাভারে বজ্রপাতে ক্ষেতের মালিকসহ ৩ কৃষক নিহত
প্রতীকী ছবি

ঢাকার সাভারে কৃষিজমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ক্ষেতের মালিকসহ তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বনগাঁ ইউনিয়নের কোন্ডা গ্রামের বাজারপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, সাভারের বলিয়ারপুর পাঁচানি পাড়া গ্রামের মৃত বুদ্দু মিয়ার ছেলে দ্বীন ইসলাম ওরফে কুদি বেপারী (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গিরাই গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে দুলাল (৬০) এবং রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর গ্রামের আদু প্রামাণিকের ছেলে হক আলী প্রামাণিক (৬২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোন্ডা বাজারপাড়া এলাকায় একটি লাল শাকের ক্ষেত চাষাবাদ করছিলেন দ্বীন ইসলাম। শাক তোলার কাজে তিনি সকালে হেমায়েতপুর থেকে চারজন কৃষিশ্রমিক নিয়ে আসেন। বিকেলের দিকে আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করলে শ্রমিকদের মধ্যে দুজন কাজ ছেড়ে চলে যান। তবে দ্বীন ইসলামসহ তিনজন মাঠে কাজ চালিয়ে যান।

এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই দুই কৃষকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ক্ষেতের মালিক দ্বীন ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

সাভার ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমরান হোসেন জানান, বজ্রপাতের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে অসহায়-দরিদ্রদের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
বৃষ্টি উপেক্ষা করে অসহায়-দরিদ্রদের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ
ছবি: কালের কণ্ঠ

নদীর উত্তাল স্রোতে যখন একের পর এক ভেঙে যাচ্ছে বসতভিটা।  আকাশ ভরা বৃষ্টি আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শত শত মানুষের।  তখনই মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ। প্রকৃতির বৈরীতাকে উপেক্ষা করে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ যেন বিপর্যস্ত জীবনে এনে দিয়েছে আশার আলো।

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা এলাকায় যমুনার পাড়ে  ভাঙন কবলিতদের মাঝে আজ রবিবার বিকালে  দ্বিতীয় দিনের মতো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে এবিজি  গ্রুপ। বৃষ্টি ও কাদাময় প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও এই মানবিক আনভীর বসুন্ধরা  গ্রুপের পক্ষ থেকে  দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী  সহায়তা। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,  আজ রবিবার দুপুরের পর থেকে মানিকগঞ্জের শিবালয়ে টানা বৃষ্টি শুরু হয়।  বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ এসএ জিন্নাহ কবিরের  দিক নির্দেশনায় এবিজি গ্রুপের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ভাঙণ কবলিতদের মাঝে হাজির হন তার নেতা কর্মীরা। এসময় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের ঝিকুটিয়া গ্রামের যমুনার পাড়ে ভাঙণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে দ্বিতীয় দিনেরমত অর্ধ শতাধিক দুর্তগ পরিবারের মাঝে চাল,ডাল, তেল, লবনসহ খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। সঙ্কট মুহুর্তে এ খাদ্য সহায়তা পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন সুবিধা ভোগীরা। অনেকেই এবিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইম সোবহান আনভীরের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকেন। এসময় প্রত্যক পরিবারকে ২৫ কেজি চাল, দুই লিটার সোয়াবিন তেল, মুশুড়ির ডাল, লবনসহ প্রয়োজনীয়  খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহবায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু উপস্থিত থেকে এবিজি গ্রুপের পক্ষ থেকে অসহায়দের মাঝে এ  খাদ্য সহায়তা তুলে দেন। এসময় তিনি বলেন, ‘আনভীর বসুন্ধরা ( এবিজি) গ্রুপ শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানই নয়। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় দুর্য়োগের সময় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। মানিকগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবিরের অনুরোধে  শিবালয়,ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা- যমুনার ভাঙণের স্বীকার ক্ষতিগ্রস্ত ১২ শত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা তুলে দেওয়ার কর্মসুচি নেন।গতকাল পাটুরিয়া ঘাটের কাছে এ খাদ্য সহায়তা কর্মসুচির উদ্বোধন করেন এমপি জিন্নাহ।  তার ধারাবাহিকতা আজকে তেওতা ইউনিয়নে এ সহায়তা দেওয়া হলো।  বৃষ্টি উপেক্ষা করে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে এ খাদ্য সহায়তা পান তার জন্য আমি ও আমার নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে হাজির হয়েছি। পর্য়ায়ক্রমে বাকি উপজেলাগুলোতেও গিয়ে আমরা বাকি পরিবার গুলোর সহায়তা প্রদান করবো।

খাদ্য সামগ্রী পাওয়া কয়েকজন কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের এই বিপদের সময়ে এবিজি গ্রুপ খাদ্য সামগ্রী দিলো আল্লাহ তাকে আরো সম্মান দিবেন। তার জন্য দোয়া করি।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুদ্দিনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জন্ম-মত্যু নিবন্ধন : বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও গলাচিপার ইজাজুল হক

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
জন্ম-মত্যু নিবন্ধন : বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও গলাচিপার ইজাজুল হক
সংগৃহীত ছবি

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে চলতি বছরের মে মাসে বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক। বিভাগের ৬টি জেলার ৪২টি উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে উপজেলাটি। শূণ্য থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের উপর এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের হল রুমে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। এ সময় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক জুয়েল রানাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মে মাসে গলাচিপা উপজেলার জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২৮টি। তবে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জন হয়েছে ৪২৯টি। মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৬টি। অর্জিত হয়েছে ২১৯টি। শতাংশের হিসাবে এ উপজেলায় জন্ম নিবন্ধনের কাজ হয়েছে ১০০ শতাংশ। মৃত্যু নিবন্ধনের কাজ হয়েছে ১৮৯ শতাংশ। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে গড়ে কাজ হয়েছে ১৪৫ শতাংশ। যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে শীর্ষ স্থানে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ‘একটি পুরস্কার পাওয়া মানে দায়িত্ব আরো বেড়ে যায়। বিষয়টিতে আমি আনন্দিত। সত্যিকার অর্থে, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’
 

গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় সাইফুল্লাহ বারী (২২) নামের এক ছাত্রশিবির নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সালাউদ্দিন নামের আরেক শিবিরকর্মী আহত হয়েছেন। 

রবিবার (২১ জুন) দুপুর ৩টার দিকে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ’র সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আশরাফ আলী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

নিহত সাইফুল্লাহ বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও শিমুল তাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি রংপুর ধাপ সাতদরগা কামিল আলিয়া মাদরাসার অনার্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। 

সাঘাটা থানার ওসি মাহবুব আলম ও বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবদুল কাইয়ুম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, রবিবার দুপুরে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. মোখলেসুর রহমান মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিন প্রতিবাদ জানান। স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যায়। 

ঘটনার ১০ মিনিট পর বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পরিকল্পিতভাবে মুকুল, তার সহোদর পলাশ ও সহযোগী আশরাফ আলী সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাইফুল্লাহকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত সালাউদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল ও তার ছোট ভাই পলাশ, আশরাফসহ যুবদলের অনেকে জড়িত ছিল।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বলেন, ম্যানিজিং কমিটি নিয়েই এই বিরোধ বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অন্য কোন রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। 

এ ব্যাপারে সাঘাটা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আহমদ কবীর শাহিন বলেন, এই ঘটনাটি একটি স্কুলসংক্রান্ত। ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া কারই উচিত নয়। অপরাধী প্রমাণিত হলে দলীয় বিবেচনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধীদের আটকে পুলিশি অভিযান চলছে।