kalerkantho


'নিখোঁজ শব্দের খোঁজে'

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কোকা-কোলার নতুন উদ্যেগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৮:১৫



আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কোকা-কোলার নতুন উদ্যেগ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে মাসব্যাপী 'নিখোঁজ শব্দের খোঁজে' ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ, এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী; লেখক ও ঔপন্যাসিক আনিসুল হক; কোকা-কোলা বাংলাদেশ লি.-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাদাব খান, কোকা-কোলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পার্টনাররা।

বাংলা ভাষার কিছু শব্দ এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। যেগুলো আগে কথায় এবং লেখায় ছিল বহুল ব্যবহৃত। সেই শব্দগুলোকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতে এবং ব্যবহারে উৎসাহিত করতে মাসব্যপী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে কোকা-কোলা বাংলাদেশ। শনিবার সকালে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে 'নিখোঁজ শব্দের খোঁজে' শীর্ষক এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। 

বাংলা ভাষায় কিছু শ্রুতিমধুর ও সমৃদ্ধ শব্দ সময়ের প্রবাহে এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। সেই শব্দগুলো ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং চর্চা বৃদ্ধি করা এই কার্যক্রমের প্রধান উদ্দেশ্য। কোকা-কোলা এই উদ্যোগের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া শব্দ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করবে। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে শব্দগুলোকে জনপ্রিয় করে তুলতেই এই আয়োজন। পুরো কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করবেন বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী এবং জনপ্রিয় লেখক ও ঔপন্যাসিক আনিসুল হক।

কার্যক্রম চলাকালে কোকা-কোলার বোতলে অব্যবহৃত বাংলা শব্দগুলো অর্থসহ দেখা যাবে, যেগুলো একসময় আমাদের লেখা ও কথার নিয়মিত অংশ ছিল। অনুশীলনের অভাবে সময়ের প্রবাহে আজ যে শব্দগুলো প্রচলিত নয়। শোভাযাত্রা, প্রচারপত্র, দেয়াল লিখন এবং কুইজসহ আরো অনেক আয়োজন থাকবে। এ ছাড়াও এই কার্যক্রমের জন্য একটি ওয়েবসাইট www.coca-cola.com.bd/21 চালু করা হয়েছে। সেখানে বাংলা শব্দ নিয়ে মজার খেলা ও কুইজের আয়োজন থাকবে যেখানে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং পুরস্কার জিততে পারবেন। নিখোঁজ শব্দের এই ভাণ্ডারকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্যে অংশগ্রহণকারীদের ওয়েবসাইটটিতে হারিয়ে যাওয়া বা কম ব্যবহৃত বাংলা শব্দগুলো জমা দেওয়ার জন্যে উৎসাহিত করছে কোকা-কোলা। কার্যক্রমের শেষ প্রান্তে ওয়েবসাইটে জমা হওয়া নিখোঁজ শব্দগুলোকে জড়ো করে একটি বই প্রকাশ করা হবে এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে। এ ছাড়াও অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮-এ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রয়েছে কোকা-কোলা'র স্টল। যেখানে হারিয়ে যাওয়া শব্দ নিয়ে বিভিন্ন খেলা এবং নিখোঁজ বাংলা শব্দ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে।

বাংলা ভাষা নিয়ে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তিন দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করা হবে। এই উৎসবে হারিয়ে যাওয়া শব্দ নিয়ে থাকছে কুইজ, নিখোঁজ শব্দ জমা দেওয়ার খেলা এবং উৎসব শেষ হওয়ার দিন থাকছে মঞ্চ নাটক। ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তন ও শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চায়ন করা হবে হারিয়ে যাওয়া বাংলা শব্দ নিয়ে রচিত একটি নাটক।

অনুষ্ঠানে কোকা-কোলা বাংলাদেশ লি.-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাদাব খান বলেন, বিগত তিন বছর আমরা মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রচারণার আয়োজন করি এবং আপনাদের সকলের কাছ থেকে অনেক উৎসাহ পেয়েছি। এ বছর আমরা বাংলা ভাষার হারিয়ে যাওয়া শব্দকে আমাদের তরুণদের সামনে তুলে ধরে আবার সেগুলোকে সবার মাঝে ফিরিয়ে আনার জন্য আয়োজন করেছি, 'নিখোঁজ শব্দের খোঁজে' হাতে থাকুক কোকা-কোলা, চলুক নিখোঁজ শব্দের খোঁজ।

তিনি বলেন, এ দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ তরুণ এবং এই তরুণের হাত ধরেই বাংলাদেশ তার ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করবে। আর তাই তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতেই কোকা-কোলা এই উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের পণ্যগুলো তরুণরা সব সময় পছন্দ করে এবং কোকা-কোলা ব্র্যান্ডটি সব সময় পেয়েছে তাদের ভালোবাসা। বর্তমানে যে সকল মাধ্যমে তরুণদের পদচারণা ও উপস্থিতি রয়েছে, সে সকল মাধ্যমেই এ ক্যাম্পেইনটি চালিত হবে। এবং আমরা আশাবাদী যে তাদের অংশগ্রহণে এই নিখোঁজ শব্দের খোঁজে ক্যাম্পেইনটি ব্যাপ্তি পাবে এবং হারানো বাংলা শব্দগুলো হয়তো আমরা আবার ফিরে পাব আমাদের প্রতিদিনের জীবনে।

কোকা-কোলা বাংলাদেশ 
কোকা-কোলা বাংলাদেশের মূল পণ্য কোকা-কোলা, ডায়েট কোক, স্প্রাইট, ফান্টা, কিনলে পানি, কিনলে সোডা, কোকা-কোলা জিরো, স্প্রাইট জিরো, এবং রিমঝিমের মাধ্যমে কোকা-কোলা বাংলদেশ হাজারো ভোক্তাকে সতেজ করে। এই কম্পানি সরাসরি ৫০০র চেয়ে বেশি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয় এবং পরোক্ষভাবে ৫০০০ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়। কোকা-কোলা কম্পানি কমিউনিটিকে শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম এর সাথে যুক্ত আছে, যেমন 'এভরি ড্রপ ম্যাটারস' এবং 'ওয়াশ'। এই দুটো সংস্থাই পানি, স্বাস্থ্যজ্ঞান, স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং বৃষ্টির পানি হারভেস্ট করার পরিকল্পনা দেশের বিভিন্ন স্কুলে প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করে। 'সাপোর্ট মাই স্কুল' নামের একটি অনন্য প্রোগ্রাম কোকা-কোলা বাংলাদেশ চালিয়েছে যেটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সুসাস্থ্যকর, অ্যাকটিভ এবং হাসিখুশি স্কুল। এই ক্যাম্পেইন মূল লক্ষ্য হচ্ছে সচেতনতা তৈরি করা এবং ওই সকল সমস্যা চিহ্নিত করা যে সকল কারণে শিশুদের স্কুল আসা থেকে বিরত থাকতে হয়।

 


মন্তব্য