kalerkantho


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি:

বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি' বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:৪১



বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি' বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

আজ ১০ ফাল্গুন ১৪২৩/২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বুধবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২২তম দিন।

মেলা শুরু হয় বিকেল ৩:০০টায় এবং চলে রাত ৮:৩০ পর্যন্ত। আজ নতুন বই এসেছে ৮২টি এবং ৪১টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় 'বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি : বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক জিনাত হুদা অহিদ।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মোঃ আবুল কাসেম এবং ড. শাহিনুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রাবন্ধিক বলেন, শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের এবং জাতিগঠনের চাবিকাঠি। এটি মানবচরিত্র গঠনের হাতিয়ার। মানবশক্তিকে মানবসম্পদে রূপায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে শিক্ষার ক্ষেত্রকে করা হয়েছে বিস্তৃত।

আমাদের দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি বলেন, শিক্ষা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার একটি বাহন, সামাজিক সংহতি বিনির্মাণ ও সুরক্ষার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক দর্শন, বাঙালি জাতীয়তাবোধ, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আলোকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে আমূল পরিবর্তন করা প্রয়োজন।  

আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থিতি এখন একটি বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে এর গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে পাঠ্যসূচিতে বাঙালি জাতীয়তাবোধ, সংস্কৃতি, ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ এবং দেশজ ও সমকালীন বিশ্বের সাম্প্রতিক চিন্তাধারার সংযোগ সাধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

সভাপতির বক্তব্যে আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উপস্থিতি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রেক্ষিতে খুবই জরুরি। দেশের সামগ্রিক শিক্ষাকাঠামোয় জাতীয় মূল্যবোধ ও মননের ছাপ না থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি শিক্ষা উন্নয়নের কোন সূচক হতে পারে না। এদিকে খেয়াল রেখে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাব্যবস্থার সর্বক্ষেত্রে জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সকলের সচেতন ও সক্রিয় পদক্ষেপ প্রয়োজন।  

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল অধ্যাপক শফিউল আলমের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন গেন্ডারিয়া কিশলয় কচিকাঁচার মেলার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া, তপন মাহমুদ, শামা রহমান, মহিউজ্জামান চৌধুরী, নীলোৎপল সাধ্য এবং শিখা আহমাদ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন এনামুল হক ওমর (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), ডালিম কুমার বড়ুয়া (কী-বোর্ড) এবং নাজমুল আলম খান (মন্দিরা)।


মন্তব্য