kalerkantho

বাংলাদেশ রেলওয়ে নেবে ৩৮৯ কর্মী

বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল/রাজশাহী) নিয়োগসংক্রান্ত দুটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে ২ পদে মোট ৩৪১ জন, আরেকটিতে ৭ পদে মোট ৪৮ জন নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়। আরো জানাচ্ছেন ফরহাদ হোসেন

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



বাংলাদেশ রেলওয়ে নেবে ৩৮৯ কর্মী

পাস নম্বর পাওয়ার জন্য একজন প্রার্থীকে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। ‘অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার টাইপিংয়ের ব্যাবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে

পদ ও যোগ্যতা

৬ মার্চ বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল/রাজশাহী কর্তৃক প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে (ইত্তেফাক, পৃষ্ঠা-২) ‘মাতৃভাষা শিক্ষক’ পদে ৯ জন এবং ‘অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদে ৩৩২ জন কর্মী নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়। মাতৃভাষা শিক্ষক পদে আবেদনের জন্য বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি বা সমমান পাস হতে হবে। অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে এইচএসসি বা সমমান পাস হলেই আবেদন করা যাবে।

অন্যদিকে একই দপ্তর থেকে পৃথক আরেকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (যুগান্তর, ৭ মার্চ, পৃষ্ঠা-১৩) প্রকাশিত হয়। এ বিজ্ঞপ্তি মতে, ৭ পদে মোট ৪৮ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। টিএক্সআর পদে নেবে ৭ জন। এ পদে আবেদন করতে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পাস থাকতে হবে। টিকিট কালেক্টর গ্রেড-২ পদের (২ জন) জন্য এইচএসসি বা সমমানের পাশাপাশি হতে হবে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। প্রার্থীর উচ্চতা অন্তত ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি থাকতে হবে।

পার্সেল সহকারী গ্রেড-২ (৮ জন) ও স্টোর মুন্সি (৬ জন) পদে এইচএসসি বা সমমান পাস হলেই আবেদন করা যাবে। ট্রেসার পদের (১৪ জন) এইচএসসি বা সমমান পাসসহ ট্রেসার ট্রেডে সার্টিফিকেট থাকতে হবে। টাইম কিপার পদে নিয়োগ পাবে ৫ জন। যোগ্যতা এইচএসসি বা সমমানের পাস। আমিন পদের (৬ জন) ক্ষেত্রে প্রার্থীর এইচএসসি বা সমমানের পাসসহ সার্ভে ট্রেডের সার্টিফিকেট থাকতে হবে।

এসব পদে ‘সাধারণ কোটা’র প্রার্থীর বয়স (২৪ মার্চ ২০১৯ তারিখে) হতে হবে ১৮ থেকে ৩০-এর মধ্যে। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, এতিম ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

 

আবেদন যেভাবে

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট (www.railway.gov.bd) থেকে চাকরির আবেদন ফরম ও পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে হবে। এর পর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের তিন কপি ছবি প্রিন্ট করা আবেদন ফরম ও প্রবেশপত্রের নির্ধারিত স্থানে যুক্ত করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০ টাকা ট্রেজারি চালানের (কোড নম্বর ১-৫১৩১-০০০০-২০৩১) মাধ্যমে জমা দিতে হবে এবং চালানের মূলকপি ও ডাকটিকিটসহ আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা লেখা দুটি খাম আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজসহ আবেদন আগামী ২৪ মার্চ ২০১৯ তারিখে অফিস চলাকালে ‘চিফ পার্সোনেল অফিসার (পশ্চিম), বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহী’ ঠিকানায় পৌঁছাতে হবে। আবেদন খামের বাঁ দিকের ওপরের অংশে পদের নাম ও প্রার্থীর নিজ জেলার নাম লিখতে হবে। সরকারি সংস্থা/আধা সরকারি সংস্থায় কর্মরত প্রার্থীদের আবেদন সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।

 

বাছাই প্রক্রিয়া

নিয়োগ পরীক্ষা চট্টগ্রাম ও রাজশাহী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল/রাজশাহীর চিফ পার্সোনেল অফিসার মো. শাহীদুল ইসলাম জানান, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীদের জন্য লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র ইস্যু করা হবে। লিখিত পরীক্ষার তারিখ, সময়, পরীক্ষার কেন্দ্রসহ যাবতীয় তথ্য প্রবেশপত্রে দেওয়া থাকবে। শাহীদুল ইসলাম আরো জানান, ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে লিখিত (এমসিকিউ ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন) পরীক্ষায় ৬০ নম্বর ও মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বর থাকবে। পাস নম্বর পাওয়ার জন্য একজন প্রার্থীকে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার টাইপিংয়ের ব্যাবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

 

পরীক্ষার বিষয়

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মচারী নিয়োগবিধি অনুসারে রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি রাজস্ব খাতে এসব পদে লোকবল নিয়োগ করা হবে। সরকারি অন্যান্য দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার মতোই লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। নম্বর বিভাজনের ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ে ১৫ নম্বরের প্রশ্ন করা হয়। তবে কর্তৃপক্ষ নম্বর বিভাজনে পরির্বতন আনতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকা রেলওয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বসতে হবে মৌখিক পরীক্ষায়। মৌখিক পরীক্ষার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, চারিত্রিক সনদ, মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা সংশ্লিষ্ট সনদ, পোষ্য কোটা সনদসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সব সনদের মূলকপি সঙ্গে রাখতে হবে।

 

পরীক্ষার প্রস্তুতি

বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহী অফিসের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাগর আহমেদ জানান, বাংলা বিষয়ে বাংলা সাহিত্যের পদ্য এবং গদ্য অংশ ও ব্যাকরণ অংশ থেকে বেশি প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। ব্যাকরণ অংশে বাগধারা, শূন্যস্থান পূরণ, কারক, সন্ধিবিচ্ছেদ, সমাস, এককথায় প্রকাশ ইত্যাদি বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। গদ্য-পদ্য অংশে লেখক-কবিদের নাম, পরিচিতি বিভিন্ন অংশ থেকে প্রশ্ন করা হয়।

ইংরেজি বিষয়ে গ্রামার অংশের মধ্যে Articles, Right Forms of Verbs, Spelling, Changing Verbs, Transformation of Sentences, Translation ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

গণিত অংশে বীজগণিতের মান নির্ণয়, সেট ও পাটিগণিতের সরল, সুদকষা, লসাগু, গসাগু, শতাংশ ইত্যাদি অংশ থেকে প্রশ্ন করা হয়। সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে দৈনন্দিন বিজ্ঞান, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অংশ থেকে প্রশ্ন করা হয়। এসব বিষয়ে ষষ্ঠ-দশম শ্রেণির পাঠ্য বই থেকে প্রশ্ন করা হয়। বাজারে অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদসহ রেলওয়ে নিয়োগের প্রস্তুতির বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড পাওয়া যায়। নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বইগুলো বেশ কাজে দেবে। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র ঘাঁটলেও ধারণা পাওয়া যাবে। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর নিজের সম্পর্কেই সাধারণত প্রশ্ন করা হয়। অনেক সময় সাধারণ জ্ঞানের ওপরও প্রশ্ন করা হয়। টিকিট কালেক্টর পদের ক্ষেত্রে শারীরিক যোগ্যতা দেখা হবে। পদ অনুসারে কাজ ও দায়িত্ব পালনে প্রার্থীর মনোভাব কতটা ইতিবাচক, তা-ও যাচাই হতে পারে।

 

বেতন-ভাতা

নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুসারে মাসিক বেতন পাবেন। মাতৃভাষা শিক্ষক ৯৭০০-২৩৪৯০ টাকা এবং অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৯৩০০-২২৪৯০ টাকা বেতন পাবেন। টিএক্সআর ১১৩০০-২৭৩০০ টাকা, টিকিট কালেক্টর গ্রেড-২ এবং পার্সেল সহকারী গ্রেড-২ পদে ৯৭০০-২৩৪৯০ টাকা বেতন দেওয়া হবে। স্টোর মুন্সি, ট্রেসার, টাইম কিপার ও আমিন পদের জন্য বেতন ৯৩০০-২২৪৯০ টাকা (১৬তম গ্রেড)। এর সঙ্গে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তো থাকছেই।

মন্তব্য