kalerkantho


চলতি বিশ্ব

ইরানে ইসলামী বিপ্লবের ৪০ বছর

তামান্না মিনহাজ   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ইরানের ইসলামী বিপ্লবের ৪০তম বর্ষপূর্তি হলো ১১ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও গত চার দশকে শিয়াপন্থী দেশটি পিছিয়ে পড়েনি। বরং অর্থনীতি ও অঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের দিক থেকে তেলসমৃদ্ধ দেশটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের শেষ ভাগে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইরানের বিপ্লব। বিপ্লবের আগে ইরানের শাসক ছিলেন শাহ রেজা পাহলভি। তাঁর স্বজন-বন্ধুদের বৃত্তের মধ্যেই ইরানের পুরো শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল। সে সময় ইরানে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে তীব্র বৈষম্য তৈরি হয়। শাহর অর্থনৈতিক নীতি ও স্বৈরাচারী শাসন পদ্ধতিতে পুরো দেশ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। ওই সময়ই প্যারিসে বসবাসকারী শিয়াপন্থী ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি আন্দোলনের ডাক দেন। তিনি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি দেশে ঐতিহাসিক ধর্মীয় মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দেন। তাঁর আহ্বান ইরানিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে ইরানজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। প্রায় এক বছর ধরে আন্দোলন ও ধর্মঘটে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে ওঠার পর ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে দেশ ছাড়েন শাহ রেজা পাহলভি। তিনি আর কখনোই ইরানে ফিরে আসেননি। দেশ ছাড়ার সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহপুর বখতিয়ারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে যান। ওই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরলে খোমেনিকে ব্যাপক গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি ইরানের সেনাবাহিনীও খোমেনির প্রতি সমর্থন জানায়। তেহরানের প্রধান রেডিও স্টেশন থেকে বিপ্লবের বিজয় ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বখতিয়ার পদত্যাগ করলে দুই মাসের মাথায় এক নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন খোমেনি। তিনি ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাঁকেও আজীবন ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা করা হয়।

 



মন্তব্য