kalerkantho

কংগ্রেসের পালে প্রিয়াঙ্কা হাওয়া

তামান্না মিনহাজ   

৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কংগ্রেসের পালে প্রিয়াঙ্কা হাওয়া

কংগ্রেসের কর্মীদের বহুদিনের দাবি—প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দিক। অবশেষে সেই পথে হাঁটলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধী দম্পতির কন্যা প্রিয়াঙ্কা। ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ দিয়েছেন তিনি। ভারতে লোকসভা নির্বাচন আসন্ন। এ সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান নিঃসন্দেহে বড় চমক। ইন্দিরা গান্ধীর নাতনি তথা নেহরু পরিবারের এ সদস্যের যোগদানে কংগ্রেস লাভবান হবে, তা বলাই বাহুল্য।

 

প্রিয়াঙ্কা কথন

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর জন্ম ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে। দিল্লির বিখ্যাত মডার্ন স্কুলে পড়ালেখা করেছেন। মনোবিজ্ঞানে স্নাতক করেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএসএস অ্যান্ড মেরি কলেজ থেকে। বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষায় করেছেন মাস্টার্স। ১৯৯৭ সালে প্রিয়াঙ্কা তাঁর ছোটবেলার বন্ধু রবার্ট ভদ্রকে বিয়ে করেন। রবার্ট দিল্লির সুপরিচিত ব্যবসায়ী। তাঁদের দুই সন্তান। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, প্রিয়াঙ্কা নিজেও মনে করেন, তিনি দেখতে ইন্দিরা গান্ধীর মতো। দাদির মতোই চুল, খাড়া নাক। স্বল্পভাষী হলেও যখন কথা বলেন, সাধারণ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। আমেথি আর রাইবেরিলিতে নির্বাচনী প্রচারের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। শোনা যায়, ভাই রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে প্রিয়াঙ্কার।

 

ভাঁজ পড়বে মোদির কপালে

চলতি বছরেই অনুষ্ঠেয় লোকসভা নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর রাজনীতিতে যোগদান। এখন পর্যন্ত তিনি রাজনীতিতে অতিথির ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু এবার হতে যাচ্ছেন কংগ্রেসের মুখ্য চালিকাশক্তি। এ মুহৃর্তে প্রিয়াঙ্কাকে উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কংগ্রেসের রাজনীতিতে এসেছিলেন তাঁর বাবা রাজীব গান্ধী ও ভাই রাহুল গান্ধী। প্রিয়াঙ্কার ক্ষেত্রে এটা ভাবা ভুল হবে যে তিনি উত্তর প্রদেশের ওই গণ্ডিতেই নিজেকে আবদ্ধ রাখবেন। তিনি বরং কংগ্রেসের রাজনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন এবং তাঁর কাছেই ‘সর্বভারতীয় প্রচারাভিযানের’ দাবি উঠতে পারে।

প্রিয়াঙ্কা নানা কারণে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্বেগের কারণ। প্রথমত, প্রিয়াঙ্কার ক্যারিসমেটিক অস্বীকার করার জো নেই। নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর উপস্থিতি কংগ্রেসের ভোট বাড়াবে এবং যাঁরা রাহুলের কারণে দ্বিধাগ্রস্ত, তাঁরাও এবার কংগ্রেসের দিকে তাকাবেন। দ্বিতীয়ত, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তাঁর বড় ভাই ও দলের সভাপতির কাছে খুবই বিশ্বস্ত। সব সময় তিনি তাঁর ভাইকে সৎপরামর্শই দেবেন। তৃতীয়ত, ভারতের গ্রামগুলোতে এখনো সাবেক ক্যারিসমেটিক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভক্তকুল বেশি। দাদির বৈশিষ্ট্যগুণের কারণে সেই ভোট এবার টানবেন প্রিয়াঙ্কা।

 

প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো কী ভাবছে

বিজেপি মনে করে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর আগমনের গুরুত্ব নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্তব্য করেছেন, কংগ্রেসে পরিবারই দল। রাহুল গান্ধী ব্যর্থ হয়েছেন। এবার প্রিয়াঙ্কা এসেছেন, তিনি ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে তাঁর মেয়ে আসবে। এভাবেই চলতে থাকবে।

কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া, পরিবার সম্পর্কে বিজেপি কী বলবে! মোদি নিজেই নিজের স্ত্রীকে অস্বীকার করেছেন, তাঁদের তো পরিবারই নেই।

সিপিএম অবশ্য প্রিয়াঙ্কাকে স্বাগত জানিয়েছে। দলটি তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানায়, রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে। অল্পবয়স্ক মেয়ে প্রিয়াঙ্কা রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন, আমাদের ওয়েলকাম করা উচিত।

 

উজ্জীবিত কংগ্রেস

ভারতের রাজনীতিতে রাহুল গান্ধীকে দেখা হয় ‘অনিচ্ছুক রাজপুত্র’ হিসেবে। কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা স্বপ্ন নয়, পরিবারতন্ত্রের গ্যাঁড়াকলে পড়েই তাঁর রাজনীতিতে নামা। তাঁর ঘাড়েই আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছিল ১৩৩ বছরের পুরনো ধুঁকতে থাকা কংগ্রেস পার্টিকে। ডুবতে থাকা কংগ্রেসকে টেনে তুলতে রাহুল যথেষ্ট গতি দেখাতে পারেননি। কংগ্রেসের ভেতরে ও বাইরে অনেকের মত ছিল, রাহুলের ছোট বোন প্রিয়াঙ্কা দলকে এগিয়ে নিতে পারবেন। তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে আসায় কংগ্রেস কর্মীরা উজ্জীবিত।

২০১৪ সালের নির্বাচনের পর প্রায় পাঁচ বছর পার হয়ে গেছে। প্রিয়াঙ্কার আগমন কংগ্রেসের জন্য সুখবর বয়ে আনবে—এমন প্রত্যাশা অনেকেরই। তবে কংগ্রেসের ভোটের পালে বাড়তি হাওয়া লাগবে কি না সেটা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।

 

 

মন্তব্য