kalerkantho


পরিবেশবিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে কেন ব্যাংকে চাকরি করতে এসেছি

চাকরির জন্য সাক্ষাত্কার। অম্লমধুর এক অভিজ্ঞতা। রায়হান রহমানকে ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংক প্রিন্সিপাল শাখার সিনিয়র অফিসার মির্জা মো. নাজমুজ্জামান

৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



পরিবেশবিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে কেন ব্যাংকে চাকরি করতে এসেছি

বাবা ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা। চাকরির সুবাদে তিনি বিভিন্ন জায়গায় বদলি হতেন, সঙ্গে আমাদেরও নিয়ে যেতেন। দেখা হয়ে যেত অনেক জায়গা। তখন থেকেই ব্যাংক কর্মকর্তা হতে চেয়েছিলাম। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ পাই। অনার্স শেষ করার পরই চাকরির জন্য বিভিন্ন জায়গায় আবেদন শুরু করি। ছয়টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাইভা দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল।

প্রথম ভাইভা দিয়েছিলাম মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের কেয়ারলাইন অফিসার পদে। অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে ভাইভা দিয়েছি জনতা ব্যাংকে, সিনিয়র অফিসার পদে সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে। এ ছাড়া সহকারী পরিচালক পদে বাংলাদেশ ব্যাংকে এবং ৩১তম বিসিএসে ভাইভা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

প্রতিটি ভাইভা বোর্ডেই কিছু সাধারণ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। যেমন—নিজের নাম, কোথায় পড়াশোনা করেছি, নিজ জেলার বিখ্যাত জিনিসের নাম, প্রখ্যাত ব্যক্তিদের নাম, মুক্তিযুদ্ধ, আগে কোথায় চাকরি করেছি? আমাকে কেন নেওয়া হবে? আমার অনার্সের বিষয় নিয়েও প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রশ্ন করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ভাইভায় বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, পরিবেশদূষণ ও গাছপালা কেটে ফেলার কারণে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সূর্যের তাপ বিকিরিত অবস্থায় যে পরিমাণে পৃথিবীতে আসছে, ঠিক ওই পরিমাণে তাপ পৃথিবী থেকে নির্গমন হচ্ছে না। তাই পৃথিবীর তাপমাত্রা দিনদিন বাড়ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণমেরুর বরফ গলে সমুদ্রের স্বাভাবিক পানির স্তর বাড়ছে। এ কারণে বাংলাদেশের কিছু অংশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান পানির তলদেশে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পরিবেশবিজ্ঞানীরা। আমার উত্তরে বোর্ডের সবাই খুশি হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাইভায় জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আগে কোথাও কাজ করতাম কি না? উত্তরে বলেছিলাম, টিউশনি করাতাম। তখন ইংরেজিতে টিউশনি বানান করতে বলেছিলেন। আমি পেরেছিলাম। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরিটি হয়নি। প্রথম চাকরির স্বাদ পেয়েছিলাম বাংলালিংকে কেয়ারলাইন অফিসার পদে। নামমাত্র কিছু প্রশ্ন করেছিলেন সেখানে। যেমন—কেন কেয়ারলাইনে চাকরি করতে চাই? আমার মধ্যে বিশেষ কী গুন রয়েছে নিয়োগ পাওয়ার জন্য? নিজের মতো করে গুছিয়ে উত্তর দিয়েছিলাম।

৩১তম বিসিএস ভাইভা বোর্ডে আমার সাবজেক্ট নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছিলেন। যেমন—ওজোনস্তর কী, এটি কতটা দরকারি? উত্তরে বলেছিলাম, বায়ুমণ্ডলের অনেক স্তর আছে। ট্রপোস্ফিয়ারের ঠিক পরেই ওজোন গ্যাসের যে স্তর, তাকেই ওজোনস্তর বলে। পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকার জন্য এই ওজোনস্তর অপরিহার্য। কারণ সূর্য থেকে আসা বিভিন্ন ক্ষতিকর রশ্মি, যেমন আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি এতে শোষিত হয়। ফলে শুধু প্রয়োজনীয় আলো বা রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করে। ওজোনস্তর নষ্ট হয়ে গেলে সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকারক রশ্মি সরাসরি মানুষের শরীরে আঘাত হানবে। এটি স্কিন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্ষতির কারণ হবে। বিসিএসে পছন্দের ক্যাডার পাইনি।

সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে ভাইভায় একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে কেন ব্যাংকিং সেক্টরে চাকরি করতে এসেছি? বলেছিলাম, ব্যাংকিং সেক্টরকে পরিবেশবান্ধব করতে চাই। পরিবেশবান্ধব খাত, যেমন—বায়োগ্যাস প্লান্ট, সোলার প্যানেল ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করতে চাই। তা ছাড়া গ্রিন ব্যাংকিংসংক্রান্ত কার্যক্রমেও আমার ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। তাই আমি মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করতে চাই। পরে আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন মাটির উর্বরতা নিয়ে। জানতে চেয়েছিলেন, সমুদ্র বা সুন্দরবন এলাকার লবণাক্ত মাটিতে কেন ফসল হয় না? উত্তর দিয়েছিলাম, গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য মাটিতে নির্দিষ্ট পরিমাণে খাদ্য উপাদান থাকতে হয়। লবণাক্ত মাটিতে এ উপাদান সঠিক পরিমাণে থাকে না, তাই ফসল ফলে না। গুছিয়ে উত্তর দেওয়ায় সবাই সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে চাকরি হয়। বর্তমানে এই ব্যাংকেই কর্মরত আছি।

নতুনদের উদ্দেশে বলতে চাই—বর্তমানে চাকরির বাজার অনেক প্রতিযোগিতামূলক। সব সময় সৃজনশীল চিন্তা করতে হবে। নিজেকে আপডেট রাখতে হবে। ভাইভা বোর্ডে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তবেই ভালো করা যাবে।



মন্তব্য