kalerkantho


কাশ্মীর ইস্যু

জাতিসংঘের মধ্যস্থতার প্রস্তাব ভারতের ফের ‘না’

চাকরি আছে ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কাশ্মীর বিষয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতার প্রস্তাব আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার কথা বলে আসছেন। পাকিস্তানও বরাবরই কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়ে আসছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এগিয়ে এলে দুই দেশই সবচেয়ে লাভবান হবে। তবে এটা খুবই কঠিন কাজ। আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এর আগে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা বাতিল করে ভারত প্রমাণ করেছে, তারা আলোচনায় অনাগ্রহী।

বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরের সীমান্ত রেখায় দুই দেশের চলমান অস্থিরতা নিয়ে জাতিসংঘ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগে রয়েছে অনেক আগে থেকেই। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আলোচনায় বসার ব্যাপারে অনেকবার আহ্বান জানিয়েছে ভারত ও পাকিস্তানকে। তবে ভারত ও পাকিস্তান এ ব্যাপারে আন্তরিক না হওয়ায় তাদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ দূর হয়নি।

গত বছরের ২৫ আগস্ট ইসলামাবাদে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২১ আগস্ট হুরিয়াত নেতাদের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেন ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার।

এ ঘটনায় নয়াদিল্লি ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠকটি বাতিল করে।

কাশ্মীর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারত সরকার, কাশ্মীরি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এবং পাকিস্তান সরকারের মধ্যে আঞ্চলিক বিরোধ রয়েছে বহু আগে থেকেই। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে ১৯৪৭-এর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় থেকেই আন্তঃরাজ্য বিরোধ রয়েছে। এ ছাড়া কাশ্মীরি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি বা সম্পূর্ণ স্বাধীন ঘোষণা করার জন্য অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে ১৯৪৭, ১৯৬৫ এবং ১৯৯৯ সালে অন্তত তিনটি যুদ্ধ হয়েছে। ভারত সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য তাদের বলে দাবি করে। অন্যদিকে পাকিস্তান ভারতের এই দাবির বিরোধিতা করে। পাকিস্তান প্রায় কাশ্মীরের ৩৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে রয়েছে আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট বাল্টিস্থানের উত্তরাঞ্চল। এদিকে কাশ্মীরি বিদ্রোহীরা এবং ভারত সরকারের মধ্যে বিরোধের মূল বিষয়টি হলো স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন।

জম্মু ও কাশ্মীরের অশান্তির ফলে হাজারো মানুষ মারা গেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘাতে প্রাণহানির পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটাই কম। কাশ্মীর বিষয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতার প্রস্তাব ভারত মেনে নিয়ে যদি পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসে এবং সমস্যার সমাধানে একযোগে কাজ শুরু করে, তবেই কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।


মন্তব্য