kalerkantho


জনতা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা

শেষ সময়ের প্রস্তুতি

মো. ফারুক হোসেন   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শেষ সময়ের প্রস্তুতি

২৪ মার্চ জনতা ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ অফিসার পদের নিয়োগ পরীক্ষা। গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির অধীনে কৃষি ব্যাংকের প্রিলিমিনারি আর লিখিত পরীক্ষা একই সঙ্গে হলেও জনতা ব্যাংকে দুই ধাপে প্রিলি পরীক্ষা (একই দিনে সকালে ও বিকেলে) হবে।

এখান থেকে বাছাইকৃতদের নিয়ে হবে লিখিত পরীক্ষা, তারপর ভাইভা। যেহেতু প্রিলি পরীক্ষায় পাস না করলে লিখিত পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে না, সেহেতু প্রিলি পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার এক ঘণ্টায় বাংলায় ২০, সাধারণ জ্ঞানে ২০, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ১০, ইংরেজিতে ২০ এবং গণিতে ৩০ নম্বর মোট ১০০ নম্বরের ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে। হাতে আছে মাত্র ১০ দিন। এ সময়ে বিস্তারিত না পড়ে টেকনিক্যালি প্রস্তুতি নিলে লক্ষ্যে পৌঁছানো খুব কঠিন হবে না।

প্রথমেই বিগত সালের সরকারি ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো পড়ুন এবং পরীক্ষার হলে প্রশ্ন চিহ্নিত করে ফেলুন। বাংলা অংশের জন্য এমপিথ্রি সিরিজের বাংলা বইটি সংগ্রহে রাখতে পারেন। প্রাচীন যুগের চর্যাপদ, মধ্যযুগের মঙ্গল কাব্য, আর আধুনিক যুগের খ্যাতনামা ২৫-৩০ জন লেখকের জীবনবৃত্তান্ত পড়ে নিন।

ইংরেজির প্রস্তুতির জন্য যেকোনো ইংরেজি গাইড বইয়ের সাহায্য নিতে পারেন। বইটাকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলুন। ১. মুখস্থ অংশ (যেমন সিনোনিম এন্টোনিম, গ্রুপ ভার্ব, প্রিপজিশন ইত্যাদি) ২. বুঝে পড়ার অংশ (যেমন রাইট ফর্ম অব ভার্ব, ভয়েস, ন্যারেশন প্রভৃতি)। প্রথম অংশের জন্য বেশি সময় না রেখে দ্বিতীয় অংশের জন্য একটু বেশি সময় রাখুন।

সাধারণ জ্ঞানের জন্য বিগত তিন মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ও কারেন্ট ওয়ার্ল্ডের শুধু সাম্প্রতিক অংশটুকু পড়ে ফেলুন। সঙ্গে বিগত ১৫ দিনের দৈনিক সংবাদপত্রের আলোচিত ইস্যুগুলো থেকে নোট করে ফেলুন।

গণিতে হুবহু কমন না পড়লেও একই নিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রশ্ন এমনভাবে সমাধান করুন যেন নিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তা বুঝতে কোনো সমস্যা না হয়। পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিষিদ্ধ। তাই ক্যালকুলেটর ছাড়াই গণিতের সমাধানের চেষ্টা করুন। প্রশ্নপত্রের ফাঁকে কিভাবে খসড়া সমাধান করা যায় তার প্রস্তুতি নিন। জ্যামিতির উপপাদ্য আর পরিমিতির সূত্রগুলো ভালোমতো অনুশীলন করুন। কম্পিউটার অংশের জন্য একটু আলাদাভাবে নজর দিন। বিগত সালের প্রশ্নের কম্পিউটার অংশ যতটা সম্ভব দেখে নিন।

 

পরীক্ষার হলে যা করবেন

এমসিকিউতে পাস নম্বর নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন। কাট মার্ক কত হবে, তা আগে থেকে নির্ধারিত নয়। আমার পরামর্শ হচ্ছে—মোটামুটি ৫০+ নম্বর আপনাকে নিশ্চিত করতেই হবে।

যেহেতু নেগেটিভ মার্কিংয়ের বিষয় রয়েছে, শত ভাগ নিশ্চিত না হয়ে প্রশ্নের উত্তর করতে যাবেন না। সময় পাবেন ৬০ মিনিট। আমি যেটা করেছি সেটা হলো গণিত বাদে বাকি অংশ ৩০ মিনিটে শেষ করা। গণিত বাদে অন্য অংশ পারলে প্রথমবারেই করবেন। বড়জোর দ্বিতীয়বার চেষ্টা করুন। তার বেশি নয়। প্রথমে শত ভাগ নিশ্চিত উত্তরগুলো দাগিয়ে নিন। কোনো প্রশ্নের উত্তর না পারলে ঘাবড়ে যাবেন না, পরের প্রশ্নে চলে যান। গণিতে মাঝেমধ্যে উল্টো পদ্ধতি প্রয়োগ করুন। পুরো অঙ্ক সমাধান না করে উত্তর থেকে সঠিকটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। এতে অনেক ক্ষেত্রে সময়ের সাশ্রয় হয়।

লেখক : উপপরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক


মন্তব্য