kalerkantho


২২২৯ জন কর্মকর্তা নেবে জনতা ব্যাংক

এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে ৮৩৪ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে ৪৬৪ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (টেলার) পদে ৫৩৬ জন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (পল্লী ঋণ) পদে ৩৯৫ জন নিয়োগ দেবে জনতা ব্যাংক। বিস্তারিত জানাচ্ছেন রায়হান আহমদ আশরাফী

মডেল : ফারহিন টুইংকেল, ছবি : তারেক আজিজ নিশক   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



২২২৯ জন কর্মকর্তা নেবে জনতা ব্যাংক

এখন থেকে ১৪টি ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে যে শূন্যপদ তৈরি হয়েছে, তাতে ধারাবাহিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে

 

রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য ‘ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি’ গঠন করেছে সরকার।

৩০ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। বিভিন্ন ব্যাংকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত হওয়া শূন্যপদে ধারাবাহিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। কৃষি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকের পর এবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জনতা ব্যাংক। এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে ৮৩৪ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে ৪৬৪ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (টেলার) পদে ৫৩৬ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (পল্লী ঋণ) পদে ৩৯৫ জনসহ মোট ২২২৯ জন কর্মকর্তা নেওয়া হবে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিগুলো পাওয়া যাবে bit.ly/1MIdbvG লিংকে।

 

আবেদনের যোগ্যতা

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক লাইলা বিলকিস আরা জানান, একাডেমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে দুটি প্রথম বিভাগসহ চার বছরমেয়াদি স্নাতক সম্মান বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে আবেদন করা যাবে। অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে আবেদনের জন্য কমপক্ষে একটি প্রথম বিভাগসহ চার বছরমেয়াদি স্নাতক সম্মান বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (টেলার) পদে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণির চার বছরমেয়াদি স্নাতক সম্মান বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (পল্লী ঋণ) পদে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনে কোনো তৃতীয় বিভাগ পেলে কোনো পদেই আবেদন করা যাবে না। অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (পল্লী ঋণ) বাদে সব পদে আবেদনকারীদের কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে জিপিএ ৩.০০ বা তদূর্ধ্ব প্রথম বিভাগ, জিপিএ ২.০০ থেকে ৩.০০-এর কম দ্বিতীয় এবং জিপিএ ১.০০ থেকে ২.০০-এর কম হলে তৃতীয় বিভাগ ধরা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ৪ পয়েন্ট স্কেলে সিজিপিএ ৩.০০ বা তদূর্ধ্ব প্রথম বিভাগ বা শ্রেণি, ২.২৫ বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ৩.০০-এর কম দ্বিতীয়, ১.৬৫ বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ২.২৫-এর কম তৃতীয় বিভাগ  বা শ্রেণি ধরা হবে। ৫ পয়েন্ট স্কেলে ৩.৭৫ বা তদূর্ধ্ব প্রথম, ২.৮১৩ বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ৩.৭৫-এর কম দ্বিতীয় এবং ২.০৬৩ বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ২.৮১৩-এর কম হলে ধরা হবে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি।

২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর।

 

কবে কোন আবেদন

এক্সিকিউটিভ অফিসার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে ইতিমধ্যে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে ১০ এপ্রিল এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে আবেদন করা যাবে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত। অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (টেলার) পদে আবেদন শুরু হবে ৩ এপ্রিল। চলবে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত। অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (পল্লী ঋণ) পদে ১০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

 

আবেদনের নিয়ম

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের (https://erecruitment.bb.org.bd) মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। ১৫ নভেম্বর ২০০৯ বা তার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিভি ব্যাংকে রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না, সিভি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন করা যাবে। তবে নতুন আবেদনকারীদের প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

আবেদনের সময় ফলাফলের ঘরে উল্লেখ করতে হবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ। বিবাহিত মহিলা প্রার্থীদের স্থায়ী ঠিকানার ঘরে স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা দিতে হবে।

আপলোড করতে হবে ৬০০ বাই ৬০০ পিক্সেল ও সর্বোচ্চ ৮০ কিলোবাইটের ছবি ও ৩০০ বাই ৮০ পিক্সেল ও সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইটের স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি। আপলোড করার পর ছবি পরিবর্তন করা যাবে না। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে ছবি বা স্বাক্ষর আপলোড না হলে পরে সিভি সংশোধনের অপশনে গিয়ে নতুন ছবি আপলোড করা যাবে। সঠিকভাবে আবেদন ফরম সাবমিট করার পর দেওয়া হবে একটি ট্র্যাকিং নম্বরযুক্ত ফরম। এটি সংরক্ষণ করতে হবে। আবেদনসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সমস্যা বা জানার থাকলে ই-মেইল করা যাবে oa.query@bb.org.bd ঠিকানায়। চাকরিরত প্রার্থীদের কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের সময় প্রাথমিকভাবে কোনো কাগজপত্র লাগবে না। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

 

নিয়োগ পরীক্ষা

জনতা ব্যাংকের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মার্কেটিং বিভাগের এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. মহসিন মোল্লা জানান, বিগত নিয়োগ পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের এমসিকিউ বা বহু নির্বাচনী ও ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হতো। বহু নির্বাচনী পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা। প্রশ্ন আসে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিত থেকে প্রশ্ন করা হয়। সময় দুই ঘণ্টা।

 

বাংলা

বহু নির্বাচনী পরীক্ষায় বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য থেকে প্রশ্ন আসে। ব্যাকরণ অংশে বাগধারা, এককথায় প্রকাশ, শুদ্ধ-অশুদ্ধ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, সন্ধিবিচ্ছেদ, সমাস, পারিভাষিক শব্দ থেকে প্রশ্ন করা হয়। সাহিত্য থেকে কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী বা বিভিন্ন কবিতার পঙিক্ত আসতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় থাকবে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর অনুচ্ছেদ লিখন ও বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ। অনুচ্ছেদ লিখনের বিষয় হতে পারে সাম্প্রতিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, ব্যাংকিং বা অর্থনীতি। নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা দেওয়া থাকে, এর মধ্যেই অনুচ্ছেদ লিখতে হবে।

 

ইংরেজি

Fill in the blanks, Synonym, antonym, phrases and idioms, Tense, Correct Spelling, Sentence Correction, Analogy থেকে প্রশ্ন আসে এমসিকিউ অংশে। একটি বিভাগ থেকে কয়েকটি করে প্রশ্ন থাকতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় আসতে পারে ফোকাস রাইটিং ও অনুবাদ। ফোকাস রাইটিংয়ের জন্য জায়গা নির্ধারিত থাকে। এর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে লিখতে হবে। গ্রামাটিক্যাল ভুল করা যাবে না।

 

গণিত

জনতা ব্যাংকের কুমিল্লা এ কে ফজলুল হক রোড করপোরেট শাখার এক্সিকিউটিভ অফিসার

নাসরিন সুলতানা জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের বই আয়ত্তে থাকতে হবে। এমসিকিউ অংশে সহজে উত্তর করার জন্য শর্টকাট টেকনিক ব্যবহার করে নিয়মিত চর্চা করতে হবে। লিখিত অংশে যে তিনটি প্রশ্ন আসে, তা ঠিকভাবে সমাধান করতে পারলে পুরো নম্বর পাওয়া সম্ভব।

মো. মহসিন মোল্লা বলেন, লিখিত অংশের গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য শর্টকাট পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না। পুরো অঙ্ক ধাপে ধাপে করতে হবে। যেখানে ফুটনোট প্রয়োজন, তা ব্র্যাকেটের মধ্যে উল্লেখ করে দিতে হবে।

 

সাধারণ জ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

সাধারণ জ্ঞানে সাম্প্রতিক বিষয়াবলি থেকে বেশি প্রশ্ন করা হয়। ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ভালোভাবে ঘেঁটে যেসব বিষয় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন থাকে, তা দেখতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির জন্য কম্পিউটার সম্পর্কে মৌলিক ধারণা, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ইত্যাদি সম্পর্কে জানা থাকতে হবে।

 

সহায়ক বইপত্র

বিসিএসের প্রস্তুতি সহায়ক বই ব্যাংকের পরীক্ষায় অনেক কাজে আসবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকাশনীর ব্যাংক রিক্রুটমেন্ট গাইড দেখতে পারেন। ইংরেজির জন্য ইফেকটিভ রাইটিং স্কিলস ফর অ্যাডভান্সড লারনার্স, কমন মিসটেকস ইন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ পড়তে পারেন। আইবিএ-এমবিএ ভর্তি গাইড, জিম্যাট অফিশিয়াল গণিত ও ইংরেজি উভয় বিষয়ের প্রস্তুতির জন্য দেখতে পারেন। সাধারণ জ্ঞানের জন্য মাসিক তথ্যভিত্তিক পত্রিকা, তথ্যপ্রযুক্তির জন্য এইচএসসি পর্যায়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বই বেশ সহায়ক হবে।


মন্তব্য