kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল

আতাউর রহমান কাবুল

বিনিয়োগ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কোনো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম অর্থনৈতিক অঞ্চল। ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে এ রকম ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব মিলিয়ে সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে, এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণসহ বেশকিছু অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ চলছে।

 

প্রাথমিকভাবে হলো ১০টি

২০১০ সালের আগস্টে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন পাস হয়। এরই মধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল নীতি ২০১৪। সংশোধন করা হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন ২০১০ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল বিধিমালা ২০১৪। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০-এর ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোন অথরিটি (বেজা) প্রতিষ্ঠা করে সরকার। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ১০টি অঞ্চল স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরই মধ্যে যে ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন করা হয়েছে তার মধ্যে সরকারি উদ্যোগে নির্মাণাধীন চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হলো ‘মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল’, ‘মিরেরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল’, কক্সবাজারের টেকনাফে ‘সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক’ এবং মৌলভীবাজারে ‘শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল’। টেকনাফ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পর্যটন খাতে নেওয়া হবে বিশেষ উদ্যোগ।

অন্যদিকে বেসরকারি উদ্যোগে পিপিপির আওতায় নির্মাণাধীন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ‘আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল’, গাজীপুরের ‘বে অর্থনৈতিক অঞ্চল’, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটসংলগ্ন ‘মেঘনা ইকোনমিক জোন লিমিটেড অর্থনৈতিক অঞ্চল’ ও ‘মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন লিমিটেড অর্থনৈতিক অঞ্চল’, নরসিংদীর পলাশে ‘এ কে খান অর্থনৈতিক অঞ্চল’, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ‘আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল’।

 

সারা দেশে হবে ১০০টি অঞ্চল

আগামী ১৫ বছরে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। প্রতি জেলায় থাকবে একাধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল। এরই মধ্যে ৫৯টি অঞ্চলের প্রাথমিক অনুমোদনও মিলেছে, যার ১০টি উদ্বোধন হলো। অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারি, বেসরকারি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) ও বিদেশি-এই চার ধরনের অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন নিয়ে কাজ করছে সরকার। এসব অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারী টানতে কর অবকাশ সুবিধা, আয়ের ওপর কর মওকুফ, যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ আরো অনেক প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। এরই মধ্যে তাইওয়ান, চীন, জাপান, ভারত, ফিলিপাইন, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা এসব অঞ্চলে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সরকারের পক্ষে তাদের জন্য অঞ্চল নির্ধারণও করা হয়েছে। বেসরকারিভাবে দেশীয় অনেক শিল্প গ্রুপ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। বেজার পক্ষ থেকে এরই মধ্যে ছয়টি সফল ব্যবসায়ী গ্রুপকে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় প্রাকযোগ্যতা লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

 

অঞ্চলগুলোর গুরুত্ব

স্বাধীনতার চার দশক পেরিয়ে গেলেও পরিকল্পিত তেমন শিল্পায়ন হয়নি বাংলাদেশে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সাভার আর গাজীপুরে অপরিকল্পিতভাবে কিছু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলেও মূলত কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর ভর করেই সেগুলো টিকে আছে। তাই কৃষি আর গ্রামীণ অর্থনীতির পুরনো বৃত্ত ভেঙে পরিকল্পিত শিল্পায়নের পথে এগোনোর উদ্যোগ এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা।

আশা করা যাচ্ছে, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বাস্তবায়িত হলে পুরো দেশের চেহারাই পাল্টে যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে এ অঞ্চলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত রপ্তানি আয় হবে চার হাজার কোটি ডলার। দেশে কর্মসংস্থান হবে অন্তত এক কোটি লোকের। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতি গতি পাবে, তেমনি বেকার সমস্যা থেকেও মুক্ত হবে বাংলাদেশ। তবে দুর্বল অবকাঠামো, জমি অধিগ্রহণ সমস্যা, জ্বালানি সংকট ইত্যাদি সমস্যার সমাধান হলে সত্যি সত্যিই দেশের চেহারা পাল্টে যাবে—এমন আশা সংশ্লিষ্ঠ মহলের।


মন্তব্য