kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হতে চাইলে ন্যায়দণ্ডের কাণ্ডারি

দশম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন। সহকারী জজ পদে নেওয়া হবে ১১৫ জন। বিস্তারিত জানাচ্ছেন সানজিদ সাদ

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হতে চাইলে ন্যায়দণ্ডের কাণ্ডারি

 

আইন বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক বা এলএলএম ডিগ্রি থাকলে আবেদন করা যাবে সহকারী জজ পদে। দুই পরীক্ষার যেকোনো একটিতে অবতীর্ণ হলেও আবেদন করা যাবে।

১ মার্চ ২০১৬ তারিখে বয়সসীমা ৩২ বছর। সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত। দরকারি তথ্যের জন্য ভিজিট করতে পারেন www.jscbd.org.bd

    

বাছাই পরীক্ষা

সহকারী জজ পদে অংশ নিতে হয় ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায়। এতে প্রায় ৫০ শতাংশ আইনবিষয়ক প্রশ্ন থাকে। বাকি প্রশ্ন করা হয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বুদ্ধিমত্তা, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে। এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে ০.২৫ নম্বর। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

সিনিয়র সহকারী জজ মো. আশিকুজ্জামান জানান, প্রাক-বাছাই পরীক্ষা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মতোই। তবে আইন বিষয়ে প্রশ্ন কিছু থাকে, যা অন্য পরীক্ষা থেকে আলাদা। এ পরীক্ষায় অনেক কম সময় পাওয়া যায়। এর মধ্যেই সিলেবাস দেখে প্রস্তুতি সেরে নিতে হবে।

লিখিত পরীক্ষা

বিগত বছরগুলোতে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লিখিত পরীক্ষা হয় এক হাজার নম্বরে। যার মধ্যে বাংলা বিষয়ে থাকে ১০০ নম্বর, ইংরেজিতে ১০০, গণিতে ৫০, দৈনন্দিন বিজ্ঞানে ৫০, বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ৫০ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে ৫০ নম্বর।

এরপর আইনের আবশ্যিক বিষয়ে ৫০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। এর মধ্যে দেওয়ানি-সংক্রান্ত আইন, ফৌজদারি-সংক্রান্ত আইন, সংবিধান-সংক্রান্ত বিষয়, মুসলিম ও পারিবারিক আইন-সংক্রান্ত বিষয়ে এসব প্রশ্ন করা হয়। সব শেষে আইনের ঐচ্ছিক বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষায় গড়ে ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। তবে কোনো বিষয়ে ৩০ শতাংশের কম নম্বর পেলে অকৃতকার্য ধরা হবে।

 

প্রস্তুতি এখন থেকেই

লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই আইন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে বিভিন্ন বিষয়ের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্য বই। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে ভালো করতে হলে পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি পড়তে হবে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা। আইন অংশে ভালো করতে হলে পড়তে হবে সম্মান শ্রেণির আইনসম্পর্কিত বই। এ ছাড়া নিয়মিত চর্চা করতে হবে বিগত বছরের সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন।

বাংলা ও ইংরেজির জন্য বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পড়ার অভ্যাস কাজে দেবে। সম্পাদকীয় ও তথ্যসমৃদ্ধ আর্টিকেল বেশি বেশি পড়তে হবে।   দেখতে হবে বিগত পরীক্ষার প্রশ্নগুলো।

গণিত ও বিজ্ঞানের প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হয়। এ জন্য গণিতচর্চা করতে হবে নিয়মিত।

পারিবারিক আইন বিষয়ে ফারায়েজের ওপর প্রশ্ন অনেক সময় বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে। বাধ্যতামূলক প্রশ্ন প্রতিযোগিতায় অন্যদের তুলনায় এগিয়ে দিতে পারে।

 

মৌখিক পরীক্ষা

লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে ডাকা হবে মৌখিক পরীক্ষায়। ব্যক্তিগত ও আইনি প্রশ্নের বাইরে কোনো প্রশ্ন করা হয় না সাধারণত। আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। ভাইভা পরীক্ষার জন্য প্রতিটি প্রশ্ন ভালোভাবে শুনে প্রশ্নকর্তার চাহিদা অনুযায়ী উত্তর দিতে হবে। ভাইভায় নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে শালীন ও রুচিশীলভাবে। ১০০ নম্বরের ভাইভায় পাস নম্বর ৫০। ভাইভা ও রিটেনের নম্বর যোগ করে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে সহকারী জজ হিসেবে।

 

সহায়ক বই

বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ভালো করতে হলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্য বই পড়তে হবে। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের জন্য পড়তে হবে পত্রপত্রিকা।

আইন বিষয়ের প্রস্তুতির জন্য সম্মান শ্রেণির সিলেবাসের আলোকে লেখা তাত্ত্বিক বইগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। বিগত বছরের পরীক্ষার প্রশ্নসংবলিত প্রফেসরস, বিসিএস, জেনুইনসহ বেশ কিছু প্রকাশনীর বই পাওয়া যায় বাজারে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাজে আসে।


মন্তব্য