kalerkantho

জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের আয়োজন

নাটকে বাংলার মিলন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বাংলার নাট্যদলের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো ‘বঙ্গ মিলন নাট্যোৎসব’। সেই উৎসবের কথা জানাচ্ছেন আদীব আরিফ ও বেলাল হোসেন

৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাটকে বাংলার মিলন

‘অনুদ্ধারণীয়’ নাটকের একটি দৃশ্য

দুই বাংলার সম্পর্কটা শুধু কাঁটাতারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা প্রমাণ করে দেয় অভিন্ন বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতির উৎসবগুলো। দুই দেশের বাংলাভাষী মানুষ শুধু যে উৎসব-পার্বণে সীমান্তের কাঁটাতারে মিলিত হয়, তা নয়। চলচ্চিত্র উৎসব, গানের মেলা, বইমেলা নাট্যোৎসবসহ বিভিন্ন আয়োজনে ঘটে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। ‘ভাষার টানে, ছিঁড়ে বিভক্তির কাঁটাতার’ স্লোগান নিয়ে, সে রকমই একটি আয়োজন করল জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার। আয়োজনের নাম, ‘বঙ্গ মিলন নাট্যোৎসব ২০১৯’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার প্রতিবছর আয়োজন করে ভিন্ন নামে, ভিন্ন স্লোগানে ও ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগঠনটির ৩৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার তারা আয়োজন করেছে দুই বাংলার নাট্যদলের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন পর্যায়ে প্রথম নাট্যোৎসব। ২৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২ মার্চ পর্যন্ত এই নাট্যোৎসবে মঞ্চায়ন হয়েছে ছয়টি নাটক। এর মধ্যে দুটি পশ্চিম বাংলা থেকে আসা নাট্যদলের, তিনটি ঢাকার ও একটি জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের নিজস্ব প্রযোজনার নাটক। এই উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হারুন অর রশিদ খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ কামরুল হাসান টিটু ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান। উদ্বোধন উপলক্ষে অমর একুশের পাদদেশ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে নাট্যকর্মীরা নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। উৎসবের প্রথম দিন সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হয় ‘অনুদ্ধারণীয়’। বুদ্ধদেব বসুর ছোটগল্প অবলম্বনে এটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ বারী। মূলত প্রতিষ্ঠানবিরোধী তারুণ্যের রোমান্টিসিজমের গল্প এটি। পরের দিন কলকাতার ফমোচি নাট্যদল পরিবেশন করে ‘উল্টে গেল’। এই কমেডিটির রচয়িতা শৈবাল কুমার ঘোষ।  ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ম্যাড থেটারের ‘নদ্দিউ নতিম’, পরের দিন কলকাতার প্রজ্ঞা কালচারাল সেন্টারের ‘নাইন মাইলস টু গো’, ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের ‘চিলেকোঠার সেপাই’ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি আরশিনগরের ‘রহু চণ্ডালের হাড়’ উপভোগ করেন দর্শকরা। সব নাটকই মঞ্চায়িত হয় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে। নাটক প্রদর্শনের পাশাপাশি ১ মার্চ জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের পুনর্মিলনী এবং ২ মার্চ দিনব্যাপী পোস্টার প্রদর্শনী ও মধ্যরাতের কবিতা ও গান পরিবেশনার আয়োজন ছিল এ উৎসবে। এ ছাড়া ছিল গুণীজন সম্মাননা প্রদানের আয়োজন।

বঙ্গমিলন নাট্যোৎসবের পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সম্পাদক দীপঙ্কর দীপ বলেন, ‘দুই বাংলার নাট্য সংস্কৃতির মেলবন্ধনের পাশাপাশি নাট্যজনদের পারস্পরিক ভাববিনিময় করার একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্দেশ্যেই এই উৎসব।’

‘ফামোচি’ নাট্যদলের প্রধান শৈবাল কুমার কথার ছলে জানালেন দলের এই অদ্ভুত নামকরণের রহস্য। বললেন, ‘ফামোচি মানে ফাদার মাদার চিলড্রেন। এই নাট্যদলে কাজ করতে হলে পিতা-মাতা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে করতে হয়। আমরা ৫০ সদস্যের সবাই পুরো একটি পরিবার হয়ে কাজ করি।’

জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ে এই নাট্যোৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

মন্তব্য