kalerkantho

চৌকষ

লাব্বীর স্বপ্ন মহাকাশ বিজ্ঞানী হওয়া

ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞানের প্রতি ঝোঁক এহসানুল মাহবুব লাব্বীর। ঘর সাজানো আছে পাঠ্য বইয়ের বাইরে দেশি-বিদেশি লেখকদের বিজ্ঞান নিয়ে নানা বই দিয়ে। স্বপ্ন একদিন মহাকাশ বিজ্ঞানী হওয়া। বিভিন্ন বিষয়ে আছে অনেক পুরস্কারও। যুক্ত আছে নানা সংগঠনের সঙ্গে। তার কথা জানাচ্ছেন গাজী খায়রুল আলম

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাব্বীর স্বপ্ন মহাকাশ

বিজ্ঞানী হওয়া

পড়াশোনা করতে করতে মাঝেমধ্যে একঘেয়েমি পেয়ে বসত লাব্বীকে। ভাবত পড়াশোনার বাইরে বিনোদনের জন্য কী করা যায়। সে ভাবনা থেকে লাইব্রেরিতে গিয়ে ছোটদের কিছু সায়েন্স ফিকশন বই কিনে নেয়। বাড়িতে গিয়ে দেখে যত পড়ে ততই ভালো লাগে। একসময় বিজ্ঞান কল্পকাহিনির পোকা হয়ে যায়। তারপর গণিত ও বিজ্ঞান নিয়ে শুরু করে বিভিন্ন কাজ। ‘আমি তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। আমাদের স্কুলে একসময় পড়ালেখা করেছেন এমন কয়েকজন বড় ভাইয়া একদিন শ্রেণিকক্ষে এসে বললেন, আমাদের স্কুলে এ বছর গণিত উত্সব হবে। অংশ নিতে হলে তাদের কাছে যেন নাম দেওয়া হয়। ভাইয়াদের কাছে শুনেছিলাম যে জেলাপর্যায় গণিত উত্সবে ভালো করলে জাতীয়ভাবে প্রতিযোগিতার জন্য ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়। সাহস করে আমিও নাম দিয়ে দিলাম। উত্সবের দিন তিনটি প্রশ্ন সমাধান করে রানার্স আপও হই, আমার নাম ঘোষণা করার পরে খুশির সীমা ছিল না।’

পুরস্কার পাওয়ার আনন্দ তখনই প্রথম উপলব্ধি করে। তারপর থেকে সব প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুরু। স্কুলের স্যাররা তার আগ্রহ দেখে সব কম্পিটিশনই ওকে না জানিয়ে নাম দিয়ে দিতেন। স্কুলের ওর সবচেয়ে প্রিয় স্যার ছিলেন সাইফুল স্যার। তিনি বিজ্ঞান পড়াতেন। এই স্যারই লাব্বীর পথ অনেকটা সহজ করে দেন। নবম শ্রেণিতে ওঠার পর কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করে রংপুর জিলা স্কুল বিজ্ঞান ক্লাব। দুই বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ক্লাবটিকে রংপুর বিভাগের অন্যতম বড় বিজ্ঞান ক্লাবে পরিণত করতে পেরেছে।

এখন রংপুর সরকারি কলেজ একাদশ শ্রেণি বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত লাব্বী রংপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসিতে পেয়েছে জিপিএ ৫। পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়ে পুরস্কার দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছে ঘরের শোকেস।

লাব্বী যুক্ত আছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। টঘওঈঊঋ ইয়ুথ অ্যাম্বাসাডর সে। তাদের বিজ্ঞান ক্লাবে সদস্যদের প্রগ্রামিংসহ বিভিন্ন বিজ্ঞান নিয়ে ক্লাস করানো হয়। জাভা পাইথন ও সি ল্যাঙ্গুয়েজ পারে। পাইথন ব্যবহার করে বিভিন্ন পাজল গেম বানিয়েছে। তা ছাড়া জাতীয় পত্রিকা অলিম্পিয়াড নামের একটি অলিম্পিয়াডের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ও সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছে লাব্বী। অলিম্পিয়াডের আয়োজক ইয়ুথপ্রেনার নেটওয়ার্ক। মূলত পত্রিকা পাঠে সবাইকে উত্সাহিত করতে এ আয়োজন। অলিম্পিয়াডটিতে থাকছে নানা ধরনের কুইজ, কর্মশালাসহ আরো অনেক কিছু। আপাতত জেলাভিত্তিক প্রতিযোগিতা চলছে, মূল প্রতিযোগিতা হবে ঢাকায় এপ্রিল মাসে।

‘আমি যতটুকু জানি, অন্যদের তা শেখাতে চেষ্টা করি। তাই আমাদের বিজ্ঞান ক্লাবের মহাকাশ বিজ্ঞান ক্যাম্পের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করি। এ ছাড়া নিয়মিত শিশু-কিশোরদের পত্রিকায় লেখালেখি ও কর্মশালা আর বিতর্ক করি। অবসরে ছবি আঁকি। নিজের টেলিস্কোপে আকাশ দেখি। অ্যাডভেঞ্চার করতে ভালো লাগে। আর প্রচুর বই পড়ি।’ বলল হাসি-খুশি ছেলেটা।

 

লাব্বীর যত পুরস্কার

২০১৪ সালে মার্ক্স অলরাউন্ডার কুইজে রংপুর বিভাগে প্রথম।

২০১৬ সালে ন্যাশনাল এস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডে জাতীয়ভাবে দ্বিতীয়। 

২০১৬ সালে ওয়ান মিনিট জুনিয়র শর্টফিল্ম ওয়ার্কশপ বেস্ট ডিরেক্টর।

জাতীয় হাই স্কুল প্রগ্রামিং কনটেস্ট ২০১৬-তে কুইজ বিভাগে প্রথম।

ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ ২০১৭-এ রংপুর বিভাগে প্রথম।

২০১৬ ও ২০১৭ সালে ডেইলি স্টার স্পেলিং বি সিজন ২ ও ৩-এ বিভাগে সেরা ১০-এর একজন ।

২০১৭ সালে জাতীয় পাট দিবসের রচনা প্রতিযোগিতায় জেলায় প্রথম।

২০১৮ সালে ন্যাশনাল স্পেস কারনিভালে বিভাগে দ্বিতীয় ।

এ ছাড়া স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বেশির ভাগ প্রতিযোগিতায় ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রথম হওয়া ছাড়াও তার ঝুলিতে আছে আরো অনেক অনেক পুরস্কার।

 

মন্তব্য