kalerkantho

মেইসেসের পথচলা

বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে যাঁরা আগ্রহী, তাঁদের পথ দেখানোর কাজটি এক যুগ ধরে সুনামের সঙ্গে করছে ‘মেইসেস’। এই এডুকেশন কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠানটির পথচলা নিয়ে কথা বলেছেন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রোহাম মঞ্জুর

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেইসেসের পথচলা

মেইসেসের শুরুর গল্পটা জানতে চাই।

২০০৬ সালের কথা, আমি তখন নন-ব্যাংকিং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কাজ করি। আমার স্ত্রীও ছিলেন কর্মজীবী। সে সময় প্রথম সন্তানের জন্মের সুবাদে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, একজন বাইরে আর অন্যজন ঘরে বসেই কাজ করব। এসব ভাবনা থেকেই ২০০৭ সালে ‘মেইসেস’র যাত্রা। শুরুতে মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজের সুযোগ ঘটে। যেহেতু তখনো ছোট পরিসরে কাজ করতাম, তাই পুরোটা আমার স্ত্রীই সামলে নিতেন।

আজকের অবস্থানে পৌঁছতে কী সাহায্য করেছে?

আমি ও আমার স্ত্রী—দুজনই বিদেশে পড়াশোনা করেছি। সেই অভিজ্ঞতা যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করতে প্রেরণা দিয়েছে, তেমনি আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। আমাদের সময় বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়ার প্রক্রিয়া এত সহজ ছিল না। পত্রিকা খুললেই দেখা যায় ভিসা নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার অনেক রকমের খবর। অনেক খারাপ লাগে, যখন দেখি শুধু ভিসা হাতে বাইরে যাওয়া নিয়েই সবার আগ্রহ, যেখানে ভিসা পুরো প্রক্রিয়ার একটি অংশমাত্র। অথচ বাংলাদেশে অনেক ছাত্র আছেন, যাঁদের পরামর্শ দেওয়ার মতো কেউ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার আগে তাঁদের কারিগরি বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা চাই। শিক্ষার্থীর পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখতে হবে, তাঁদের ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে। এ ছাড়া তাঁদের আগ্রহ ও ধারণক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। যেহেতু এটি তাঁদের জীবনের একটি অধ্যায়ের শুরু, তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, প্রতিটি ছাত্রকে সম্পূর্ণভাবে বিশ্লেষণ করেই তাঁর জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাব। এভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের চাওয়াই ‘মেইসেস’কে (.িসধপবংনফ.পড়স) এত দূর এগিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।

বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রের বিবেচনায় আপনাদের শক্তির জায়গা কোনগুলো?

শুরু থেকেই আমাদের মূলমন্ত্র হলো, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজ পরিবারের মানুষের মতোই সহায়তা করা। একটিমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে শুরু করে এখন যুক্তরাজ্য, আমেরিকা, কানাডা, জাপান, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ ছয় দেশের প্রায় ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করছি। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও কাজ করছি আমরা। ফলে শিক্ষার্থীরা আবেদন করার মতো অনেক বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় খুব সহজেই আমাদের মাধ্যমে খুঁজে পেতে পারেন। এ ছাড়া আমাদের বেশির ভাগ কাউন্সিলরই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এঁদের অনেকেই দেশে-বিদেশে পড়াশোনা করে এসেছেন। তাই ছাত্র-ছাত্রীকে সঠিক নির্দেশনা দেওয়ার দক্ষতা তাঁদের রয়েছে। আমাদের আরেকটি শক্তির জায়গা—আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোনো সার্ভিস চার্জ নিই না; বরং আমাদের একমাত্র লক্ষ্য, এখানে পরামর্শ নিতে আসা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে যেন তাঁর কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দিতে পারি। এখন পর্যন্ত তিন হাজারের মতো শিক্ষার্থীকে আমরা বিদেশে পড়ালেখা করতে পাঠিয়েছি।

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার পক্ষে যুক্তি কী?

আমি মনে করি, যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীদেরই কিছু সময়ের জন্য হলেও নিজের দেশের বাইরে কাটিয়ে আসা উচিত। দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর মনকে উন্মুক্ত করে। নিজের চেনা-জানা গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা করার ফলে তাঁর একটি আন্তর্জাতিক পরিচয় দাঁড়ায়। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে অনেক সাহায্য করে।

মন্তব্য