kalerkantho


টিপস

স্কুল নিয়ে গল্প

মেলায় এত এত বই, তোমার যদি একটা থাকত! কিন্তু গল্প আসবে কোথা থেকে? তোমরা যারা স্কুল বা কলেজে পড়ছ, তাদের কিন্তু অনেক সুবিধা। ক্লাসে প্রতিদিন কত কাণ্ড ঘটে যাচ্ছে। এর সঙ্গে একটু বাড়তি কল্পকাহিনি যোগ করলেই হয়ে যায় দারুণ সব গল্প বা একটা ঢাউস উপন্যাস। কিন্তু ওটা লিখবে কী করে? উইকিহাউডটকম থেকে টিপসগুলো জানাচ্ছেন ফয়সল আবদুল্লাহ

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



 স্কুল নিয়ে গল্প

চরিত্রগুলোর নাম দাও

স্কুলের সত্য বা বানানো ঘটনা নিয়ে নতুন কোনো গল্প ফাঁদতে হলে সবার আগে চরিত্রের নাম ও তালিকা করে ফেলো। এটা করতে পারলেই কিন্তু বড় একটা কাজ হয়ে গেল। তবে নামকরণের ক্ষেত্রে খুব একটা আনকমন নাম দেওয়ার দরকার নেই। পড়া বইগুলোর দিকে তাকাও। প্রচলিত ও সহজবোধ্য নাম দাও। তবে মজার চরিত্রের খাতিরে কারো কারো একটুখানি বিচিত্র নাম থাকতেই পারে। নামের সঙ্গে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আবার গুলিয়ে ফেলতে যেয়ো না। নামকরণের ক্ষেত্রে স্কুলের বন্ধুদের নাম ও চরিত্রগুলোই ভাব। তাহলে তারাও তোমার বইটা বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়বে।

 

চরিত্রের বর্ণনা

বড় উপন্যাস হলে অনেক বাড়তি কাহিনি আপনাতেই চলে আসবে। ঘটনা যা-ই ঘটুক, চরিত্রগুলো কেমন সেটা তোমার মাথায় থাকা চাই। তাই লেখা শুরুর আগে মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য লিখে ফেলো। কার কী মুদ্রাদোষ থাকবে, কার রাগ বেশি, কে বেশি যুক্তিবাদী, কে দুষ্টু, কে চুপচাপ—এই তালিকা তৈরি করে নাও চটজলদি।

 

এঁকে ফেলো

মূল চরিত্র খুব বেশি তো হয় না। যে কয়জন হয়, তাদের চেহারা এঁকে ফেলতে পারো। পরে ওই চরিত্রের কথাবার্তা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য লেখার কাজটা সহজ হবে এতে। চরিত্রগুলোকে কল্পনা করতে যত সুবিধা হবে ততই দেখবে তরতর করে এগোবে গল্পের ঘটনাপ্রবাহ।

 

সেটিংস

স্মার্টফোনের মতো গল্পেরও সেটিং ঠিক করে নিতে হয়। গল্পটা কোনো গ্রাম বা শহরের হবে, স্কুলের নাম কী হবে, স্কুলের পরিবেশটা কেমন হবে, স্কুলের পাশে কোনো পুকুর থাকবে কি না, আশপাশে কোনো পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি থাকবে, নাকি ব্রিটিশ আমলের জঙ্গলঘেরা কোনো দিঘি, এসব নানা বিষয় আগেভাগে লিখে একটা মানচিত্রের মতো এঁকে নিতে পারো। আবার লিখতে লিখতেও নতুন জায়গা চলে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিছুটা বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে হবে। যেমন—তোমার গল্পের স্কুল যদি নদীর পারের কোনো মফস্বল শহরে হয়, তো স্কুলের পেছনে বড় একটা পাহাড় বা জঙ্গল কিন্তু থাকবে না।

 

ধরন ও গল্প

গল্পের এটাই মূল অংশ। গল্পের মধ্যে গল্প থাকা চাই সবার আগে। একটা ম্যাড়ম্যাড়ে ঘটনাবিহীন বর্ণনা বা সহজে আঁচ করা যায় এমন কোনো ঘটনা কিন্তু গল্প হবে না। গল্পের একটা প্রাথমিক প্লট থাকা চাই। সেটা তোমার স্কুলের একটা বড় ঘটনা হতে পারে বা স্কুলের কয়েকজন বন্ধুদের নিয়েও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের পড়া কোনো বইয়ের সঙ্গে মিল না থাকলেই ভালো। এমন কিছু ভাব, যা আগে পড়োনি ও সহজে কেউ ভাববেও না। লেখা শুরু করার আগে ঠিক করা না হলে মূল কাহিনিতে যাওয়ার আগে ঠিক করে নাও, গল্পটা রহস্যগল্প হবে নাকি ভূতের হবে, নাকি গোয়েন্দাগল্প হবে।

 

শুরুতেই

কী লিখবে, কিভাবে লিখবে, সেটা তো লেখক মানে তোমার ওপরই নির্ভর করছে। তবে টানটান উত্তেজনা ধরে রাখতে হলে প্রথম লাইন ও প্রথম প্যারাগ্রাফেই পাঠককে ধরে রাখার মতো একটা কিছু থাকা চাই। গল্পের শুরু মানেই যে ‘ভোর হলো, সাকিব স্কুলের জন্য তৈরি হলো’—তা কিন্তু নয়।

 

দ্বন্দ্বের শুরু ও সমাপ্তি

বড় গল্পের প্রথম কয়েক পৃষ্ঠায়ই গল্পের মূল লক্ষ্য বা বড় সমস্যাটা চলে আসবে। মূল সমস্যার পর সেটাকে ছোট ছোট আরো অনেক সমস্যা বা দ্বন্দ্বে ভাগ করে নিতে পারো। স্কুলকে ঘিরে রহস্যগল্প যদি হয়, তবে পাঠক যেন কোনোভাবেই আগাম কিছু বুঝতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখবে। মানে নাটের গুরু যেন তোমার গল্পের দুষ্টু চরিত্রটাই না হয়। চেষ্টা করবে প্রথাগত কোনো কায়দায় না গিয়ে গল্পের দ্বন্দ্ব বা সমস্যা অথবা রহস্যের সমাপ্তিটা যেন একেবারে অন্য রকম বা আশাতীত কোনো উপায়ে ঘটে।

 

পড়ো, আবার পড়ো

এবার কাটাকুটির পালা। প্রতিটি বাক্যের অপ্রয়োজনীয় শব্দ ছেঁটে ফেলে দাও। অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা থাকলে সেটাও ছেঁটে ফেল নির্দয়ের মতো। স্কুলের গল্প হলে বেশি বেশি বর্ণনার দরকার নেই। কিছুটা পাঠকের কল্পনার ওপর ছেড়ে দাও। কারণ তোমার পাঠকরাও স্কুলে যায়। অহেতুক কোনো চরিত্র নিয়ে আসার দরকার নেই। ঘটনাচক্রেই অনেক নতুন চরিত্র আসবে। তবে তাদের কারণে যাতে গল্পের মূল স্রোতে বাঁধ না পড়ে সেটাও খেয়াল রাখবে।



মন্তব্য