kalerkantho


টিফিন আওয়ার

অন্য রকম দুই স্কুল

ভারতের রাজস্থানের ট্রেন আর প্লেনের মতো দুই স্কুলের খবর জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



অন্য রকম দুই স্কুল

ট্রেনের মতো স্কুল

ট্রেনে চড়তে কে না ভালোবাসে! কাজেই স্কুল যদি ট্রেনের মতো হয় তবে সেই স্কুলে যেতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়।

ভারতের রাজস্থানের আলোয়াড় গভর্নমেন্ট সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলটায় ঢুকলে মনে হবে স্রেফ ভারতীয় রেলওয়ের কোনো ট্রেন। ভারতীয় ট্রেনগুলোর মতোই এই স্কুলের ক্লাসরুমগুলো গাঢ় নীল রঙে রাঙানো। প্রধান শিক্ষকের ঘরখানা দেখলে মনে হয় ট্রেনের ইঞ্জিন। আর বারান্দাটা বানানো হয়েছে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মের মতো করে।

এতখানি পড়ে কেউ যদি মনে করে যে স্কুলটি আসলে একটা রেলওয়ে স্টেশনে গড়ে উঠেছে, তাহলে ভুল হবে। কিছুদিন আগেও অবশ্য স্কুলটি একটা স্টেশনের গা ঘেঁষে ছিল। তবে বর্তমানে এটাকে সরিয়ে আনা হয়েছে। তবে তাতে কী, স্কুলটা সেই স্টেশনের আদল ঠিকই ধরে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

সরকার ছয় থেকে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি পড়াশোনার ব্যবস্থা করার অংশ হিসেবে কিছু স্কুল খুলেছে। আলোয়াড়ের এই স্কুলটি সেই কর্মসূচির অংশ। আর এখন তো গোটা স্কুল ভবনটাকেই রং করে একটা ট্রেনের রূপ দেওয়া হয়েছে।

স্কুলটি ঘেরা হয়েছে যে দেয়াল দিয়ে, সেটা দেখতে আবার মাল বওয়া রেলগাড়ির মতো। ট্রেনরূপী দেয়ালের গায়ে আবার নানা উপদেশমূলক বাণী লেখা রয়েছে। ভারতে সরকারি স্কুলের থেকে বেসরকারি স্কুলেই বাচ্চাদের পাঠানোর ঝোঁক বেশি দেখা যায়। আলোয়াড়ের এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, বাচ্চাদের আকৃষ্ট করার জন্যই ট্রেনের আদলে রং করা হয়েছে স্কুলটিকে। বিবর্ণ হলদে রঙের সরকারি স্কুলের তুলনায় উজ্জ্বল নীল এই স্কুল অনেক বেশি আকর্ষণীয়। আর ভালো পরিবেশ পেলে লেখাপড়ায় মন বসবে, এতে আর আশ্চর্য কী!

 

উড়োজাহাজের মধ্যে স্কুল

ভারতের সরকারি স্কুলগুলোর বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই জীবনে কোনো দিন উড়োজাহাজে চড়েনি। রাজস্থানের ইন্দোরগরের চার শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীও এর ব্যতিক্রম নয়। কয়েক মাস আগে এক সরকারি প্রকৌশলী এই অপূর্ণতাকে কিছুটা হলেও ঘুচিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আলোয়াড় জেলার এই স্কুলটিতে প্লেনের আদলে বানানো হয়েছে একটি ক্লাসরুম। বাচ্চারা তো খুশিতেই আটখানা। প্লেনের মধ্যে বসে ক্লাস করতে পারার সৌভাগ্য কী কম কথা! অনেকে তো এতই খুশি যে স্কুল ছুটির পর বাসায় পর্যন্ত ফিরতে চায় না।

মাস ছয়েক আগেও আলোয়াড় শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরের এই সরকারি স্কুলে ভাঙাচোরা এক বাড়িতে ক্লাস হতো। রাজস্থানের স্কুলগুলো থেকে এমনিতেই অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। এর অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে এমন নিরস, পুরনো স্কুল বিল্ডিং।

তার পরই রাজেশ লাওয়ানিয়া নামের এক প্রকৌশলী প্লেনের আদলে একটি ক্লাসরুম বানিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কর্তারা সাগ্রহে এই প্রস্তাবে রাজি হন।

এই উড়োজাহাজরূপী ক্লাসঘরে আছে এলইডি টিভি। শিশুরা সেখানে ইউটিউব ব্যবহার করতে পারে, পারে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পড়াশোনা করতে। এরই মধ্যে বাচ্চারা এই স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য ভিড় জমানো শুরু করেছে। হাজার হোক, প্লেনে বসে ক্লাস করার মতো সৌভাগ্য খুব বেশি মানুষের জীবনে আসে না। 

সিঁড়ি বেয়ে ওঠা লাগে এই প্লেনের মতো দেখতে ক্লাসরুমে। আশপাশে হাজারের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য। শিশুদের পাশাপাশি এখন সাধারণ দর্শনার্থীরাও এই স্কুল দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। এমনকি নববিবাহিত দম্পতিরা পর্যন্ত ছবি তোলার জন্য বেছে নিচ্ছে এই উড়োজাহাজরূপী স্কুলকে।



মন্তব্য