kalerkantho


স্কুল-কলেজের স্মৃতি

পুরনো দিনের স্মৃতির গল্প শুনতে ভীষণ মজা। সেটা যদি স্কুল-কলেজের স্মৃতি হয়, তবে নিশ্চয়ই তোমাদের আরো ভালো লাগবে। আর তাই বিভিন্ন মানুষের স্কুল-কলেজের ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতিচারণা নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। গ্রন্থনা : শিশির মনির

৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



 

ওই সময় টিকার সুই অনেক মোটা ছিল

মো. ফয়জুল হক

অধ্যক্ষ, বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট।

প্রাথমিক শিক্ষাজীবন কেটেছে সুনামগঞ্জ সদরের বাণীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৭৪ সালে এই স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হই। একে তো যুদ্ধ-পরবর্তী সময় আর দ্বিতীয়ত একটা দুর্ভিক্ষও হয়েছিল। তখন দেশি-বিদেশি এনজিওর তত্পরতা ছিল স্কুলগুলোতে। একটা এনজিও আমাদের স্কুলে প্রতিদিন পাউডার দুধ দিত। আমরা গুঁড়া দুধ হাতে নিয়ে মুখে পুরে দিতাম। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে দুধের গুঁড়া গলায় আটকে যেত। গলা দিয়ে শব্দ বেরোত না। আবার কখনো বিস্কুট দিত। এসব খাওয়া নিয়ে অনেক মজা হতো।

কয়েক দিন পর পর টিকা দিতে লোক আসতেন স্কুলে। টিকা নেওয়ার ভয়ে স্কুলের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে যে যেভাবে পারতাম পালিয়ে যেতাম। ওই সময় টিকার সুই অনেক মোটা ছিল, যে কারণে কষ্টও হতো অনেক বেশি। আমাদের হেডস্যারের নাম ছিল তজম্মুল আলী। তিনি কখনো বেত দিয়ে মারতেন না। বগলের নিচে চিমটি কাটতেন।

১৯৮৪ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ভর্তি হই। কলেজের মুসলিম হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতাম। রমজান মাস তখন, এক দিন ভোরে সাহরি খাওয়ার জন্য পাঁচ বন্ধু হোস্টেল থেকে বেরোলাম, লঞ্চঘাটে যাব। ওখানে কয়েকটা হোটেল খোলা থাকে। দেশে তখন সেনাশাসন। রাস্তার পাশে সেনাবাহিনী ক্যাম্প অতিক্রম করার সময় সেনাসদস্যরা আমাদের থামাল। পরিচয় দেওয়ার পর ছেড়ে দেয়। দৌড়ে হোটেলে পৌঁছাই। যেই না প্লেট ধুয়ে ভাত বাড়তে যাব, এমন সময়ে আজান পড়ে যায়। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে আমাদের বাংলার শিক্ষক ছিলেন শৈলেন স্যার। সব সময় পরিপাটি থাকতেন। সালাম দিলে লম্বা করে হাত ওঠাতেন। জামার হাতের ভাঁজ যেন নষ্ট না হয়।

দুই ভাইকে বুকের দুই পাশে জড়িয়ে কোলে তুলে নিলেন

আবদুস সামাদ ফেরদৌস

অবসরপ্রাপ্ত প্রবাসী চাকরিজীবী

১৯৫৫ সাল। প্রথম শ্রেণিতে পড়ি তখন। আমি আর আমার বড় ভাই একসঙ্গে স্কুলে যেতাম। বরিশালের মুলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাড়ি থেকে প্রায় এক মাইল দূরে। গ্রামের কাঁচা কর্দমাক্ত রাস্তা। এর ওপর কয়েক দিন ধরে ভারি বর্ষণ। দুজন বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় দিয়ে স্কুলে যাচ্ছি। প্রায় আধা মাইল রাস্তা পেরোনোর পর বৃষ্টি আর বাতাসের দাপটে আর পেরে উঠছিলাম না। এমন সময় স্কুলের হেডমাস্টার নাসের উদ্দিন স্যারকে দেখতে পাই। তিনি ছোট রাস্তা থেকে বড় রাস্তায় উঠে আসছেন। আমাদের দেখে আঁতকে উঠলেন। দুই ভাইকে বুকের দুই পাশে জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নিলেন। এভাবে কোলে নিয়ে প্রায় আধা মাইল পথ পেরিয়ে স্কুলে পৌঁছান। এই স্মৃতি আজও মনকে নাড়া দেয়। ১৯৬৫ সালে আমি ঢাকা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলাম। কলেজের সাউথ হোস্টেলের ১১৯ নম্বর রুমে থাকতাম। অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন আহমেদ খুবই শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তি ছিলেন। একবার আমাদের এক বন্ধু পরীক্ষার খাতায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখেনি। সে অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানায়। অধ্যক্ষ শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে জানতে পারেন পরীক্ষার খাতা ময়মনসিংহের এক শিক্ষকের কাছে গিয়েছে। তিনি ওই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করেন। কলেজে ছাত্র ধর্মঘট পালনের বিষয়ে স্যারের আপত্তি ছিল। একবার তিন ছাত্র ধর্মঘটের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের বহিষ্কার করেন। মজার ব্যাপার হলো, বহিষ্কৃৃত ছাত্রদের তিনি নিজেই আবার জগন্নাথ কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। জগন্নাথের অধ্যক্ষ ছিলেন তাঁরই বন্ধু সাইদুর রহমান। তিনি বন্ধুকে ফোন করে মজার ছলে বলেন, ‘সাইদুর তোমাকে তিনজন ছাত্র দিচ্ছি। তাদের বেতনের পার্সেন্টিজ আমাকে দিয়ো!’             

একমাত্র আমিই শহরের স্কুলে ক্লাস করতাম

আঞ্জুমান আরা বেগম

গৃহিণী

১৯৬০ সালের দিকে মহব্বত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আমার শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর ভর্তি হওয়ার জন্য নোয়াখালী গার্লস হাই স্কুলে গেলাম। তখন স্কুলটির নাম ছিল কুমা গার্লস হাই স্কুল। হেড ম্যাডাম আছিয়া জোহরা খাতুন জানালেন, স্কুলে সিট নেই। কান্না জুড়ে দিলাম। ম্যাডাম আমার আগ্রহ দেখে বললেন, ‘পড়াশোনা করতেছ মনে রাখবে তোমার পায়ের নিচে এখন কাঁটা। পড়াশোনা শেষ করলে দেখবে প্রতি কদম পায়ের নিচে কাঁটার বদলে ফুল।’ ম্যাডামের এই কথাটা আজীবন স্মরণে রেখেছি। কুমা গার্লসে ভর্তি হতে না পেরে মাইজদী গার্লস একাডেমিতে ভর্তি হলাম। স্কুল বাড়ি থেকে অনেক দূরে ছিল। আমার গ্রাম থেকে মেয়েদের মধ্যে একমাত্র আমিই শহরে গিয়ে স্কুলে ক্লাস করতাম। দুই আনা করে যেতে-আসতে চার আনা রিকশা ভাড়া লেগে যেত। পরবর্তীতে চৌমুহনী কলেজের ছাত্রী ছিলাম। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু, তার কিছুদিন পরেই ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শুরু হয়। চৌমুহনী কলেজেই আমাদের পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল। বাবা অটোরিকশা রিজার্ভ করে দিলেন। আমি আর আমার বান্ধবী লাকি একসঙ্গে পরীক্ষা দিতে যেতাম। পরীক্ষার হলে একই রঙের শাড়ি পড়ে যেতাম বলে সবাই ভেবেছিল আমরা বুঝি আপন বোন। নিরাপত্তার কথা ভেবে আমার বড় ভাইও আমাদের সঙ্গে যেতেন। একদিন আমাদের দেরি হওয়ায় অটোরিকশা চালক খুব জোরে গাড়ি চালাচ্ছিল। পেছনে পাকিস্তানি মিলিটারির গাড়ি হর্ন দিচ্ছে। আমাদের ড্রাইভার  খেয়াল করেনি। কিছুক্ষণ পর মিলিটারি আমাদের গাড়ি ক্রস করে। তারপর অটোরিক্সা থামিয়ে ড্রাইভারকে বের করে নেয়। তখন আমি বেরিয়ে এসে বললাম, ‘আমরা পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। দেরি হওয়ায় তাকে  জোরে চালাতে বলেছি। ওর কোনো দোষ নাই।’ মিলিটারি ছিল উর্দুভাষী। সঙ্গে এক বাংলাদেশি পুলিশ ছিল। সে বিষয়টি বুঝিয়ে বলল। তারপর পাকিস্তানি সেনারা আমাদের ছেড়ে দেয়।

এক বন্ধু গুণে গুণে ২৬টি রুটি খেল

ড. নুরুল আখতার হাসান

সহকারী অধ্যাপক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, ঢাকা

১৯৮৮ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হই। ক্যাডেট কলেজে খুব বাঁধাধরার জীবন। যার কারণে কোথাও কোনো নিয়ম ভাঙতে পারলেই আমাদের খুব আনন্দ হতো।

একবার সিনিয়র ব্যাচের ১৬ জনের একটা দলের সঙ্গে আমাদের একটু ঝামেলা হয়েছিল। আমরা তাদের ব্যাঙ্গ করে ‘হারাধনের ষোল ছেলে’ শিরোনামে কবিতা বানিয়েছিলাম। একদিন আবৃত্তি করতে গেলে স্যার শুনে ফেলেন। ওই দুষ্টুমির জন্য শাস্তি পেতে হয়েছিল।

আমাদের ভূগোলের এক ম্যাডাম ছিলেন। তিনি এশিয়া মহাদেশের মানচিত্র আঁকতে গিয়ে রাশিয়ার নিচের দিকে ছবি আঁকতেন শুধু। ওপরের দেশগুলো আঁকাতেন না। অবশেষে একদিন আমরা রহস্য ভেদ করতে পারলাম। ম্যাডাম খাটো ছিলেন, তাই ওপরে নাগাল পেতেন না।

ডাইনিংয়ে মাসে এক দিন তরকারি হিসেবে মাছের মাথা খেতে দিত। কিন্তু আমি মাছের মাথায় মজাদার কিছু খুঁজে পেতাম না। আমার এক বন্ধুর মাছের মাথা ছিল খুব প্রিয়। তার কাছে ১০ টাকায় মাছের মাথা বিক্রি করতাম। সপ্তাহে এক দিন আমাদের তিনটি করে রুটি দিত। সেনাবাহিনীর রুটির মতো অনেক বড় বড়। আমরা তিনটা রুটি খেয়েই কুলাতে পারতাম না। অথচ আমাদের এক বন্ধু একদিন গুনে গুনে ২৬টি রুটি খেল। বৃহস্পতিবার রাতে আর শুক্রবার দুপুরে টিভি দেখার সুযোগ পেতাম। শুক্রবার টিভিতে থান্ডার ক্যাটস কার্টুন প্রচার করত। আমরা দুপুরে দ্রুত খাবার খেয়ে টিভি রুমে ভিড় জমাতাম।

একবার বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম পহেলা বৈশাখের সকালে পান্তাভাত খাব। এ জন্য আগের রাতে ডাইনিং থেকে ভাত চুরি করে এনে ভিজিয়ে রাখলাম। সকালে পান্তা  খেলাম। কিন্তু আমাদের অনেকের পান্তাভাত খাওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। কারও কারও শরীর খারাপ করে।

দল বেঁধে স্কুলে যেতাম

ইছমত হানিফা চৌধুরী

সাবেক স্কুল শিক্ষিকা

১৯৮০ সালে সিলেট দরগাহগেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হই। ঢাকা থেকে সে সময়ে বড় বড় রাজনৈতিক নেতানেত্রী যাঁরাই সিলেটে আসতেন, তাঁদের সবাইকে আমাদের দেখার সুযোগ হতো। কারণ তাঁরা প্রত্যেকে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে আসতেন। আর আমাদের স্কুলটি একেবারে মাজারসংলগ্ন হওয়ায় আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাঁদের দেখতে পেতাম। আম্বারখানা গার্লস হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হই। আমাদের বাসা ছিল ওসমানী মেডিক্যাল কলেজসংলগ্ন কাজলশাহ এলাকায়। এখন মনে হয়, কী করে এতটা পথ হেঁটে যেতাম। বান্ধবীরা দল বেঁধে স্কুলে যেতাম-আসতাম, যার কারণে পথের দূরত্ব হয়তো বোঝা যেত না। স্কুলটি এখন যেভাবে চার দেয়ালে ঘেরা, তখন এমন ছিল না। কাজেই স্কুল পালাতে সমস্যা হতো না। আমরা কয়েকজন বান্ধবী মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রতিদিন একটি করে ইংরেজি শব্দ শিখে আসব। এতে আমাদের ইংরেজির দক্ষতা বাড়বে। আমি অভিধান দেখে ‘কিউট’ শব্দটি শিখেছিলাম। বান্ধবীদের বললাম, কিউট মানে সুন্দর। তখন তারা মজা করে একজন আরেকজনকে বলছিল, ‘এই তোকে কিউট দেখাচ্ছে।’ কিছুদিন পর দেখতে পেলাম এক বান্ধবী আরেকজনকে বলছে, এই তোকে অনেক ‘তিব্বত’ লাগছে। ব্যাপার হলো এই তখন বাজারে দুই রকম ক্রিম পাওয়া  যেত। কিউট আর তিব্বশ। তাই সে ভুল করে কিউট বলতে গিয়ে তিব্বত বলে ফেলেছে। ১৯৯১ সালে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হই। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার থেকেও মেয়েরা সরকারি মহিলা কলেজে পড়তে আসত। আব্দুল মতিন স্যার আমাদের অধ্যক্ষ ছিলেন। কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে স্যার গান করছিলেন, আমি তখন সামনের সারিতে বসে গানের সঙ্গে মুখ  মেলাচ্ছি। স্যার বিষয়টা খেয়াল করলেন। মঞ্চে ডেকে নিয়ে স্যারের সঙ্গে গান গাইতে বললেন।

ভেবেছি পড়াশোনা আর হবে না

নূরুল ইসলাম

প্রধান শিক্ষক,এলঙ্গি মডেল হাই স্কুল, সুনামগঞ্জ

১৯৭৭ সালের কথা। জামালপুরের লয়খা নব জুনিয়র হাই স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেছি সবে। স্কুল বদলাতে হবে। কারণ অষ্টম শ্রেণির পর এখানে আর ক্লাস নেই। ভেবেছি পড়াশোনা আর হবে না। পরিবারে আর্থিক অনটন লেগে আছে। তখন এগিয়ে এলেন লয়খা নব হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলী আজগর স্যার। আমাদের এলাকা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে শায়লানপুর ইসলামনগর হাই স্কুলের হেডমাস্টার খন্দকার শাহজাহান আলী আজগর স্যারের বন্ধু। স্যার আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে গেলেন। খন্দকার শাহজাহান স্যার আমাকে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন। আমি সঠিক জবাব দিলাম। স্যার খুশি হয়ে বললেন, তুমি কালই বিছানাপত্র নিয়ে চলে এসো। স্যার আমাকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করালেন। স্কুলের পাশে থাকার ব্যবস্থা করলেন। আমি ক্লাস শুরু করলাম। কিছুদিন পর অন্য রকম একটা ঘটনা ঘটল। একদিন আজগর স্যার আমাকে বললেন, আমি তোমার স্কুলে শিক্ষকতা করব। তুমি খন্দকার শাহজাহান স্যারের সঙ্গে কথা বলো। খন্দকার স্যারকে বিষয়টা জানালাম। স্যার বললেন, আলী আজগর স্যার তো সেখানের প্রধান শিক্ষক। আমি তাঁকে কিভাবে এখানে আনব? আমি বললাম, সহকারী শিক্ষক হয়েও আসার ব্যাপারে স্যারের সম্মতি আছে। তখন আমি একসঙ্গে দুটি লজিং খুঁজে বের করি। একটিতে আমি, অন্যটিতে আলী আজগর স্যার থাকলেন। নতুন স্কুলে এসেও আমি আমার প্রিয় স্যারকে আবার ফিরে পেলাম। এই স্কুলের বায়োলজি শিক্ষক জয় গোপাল স্যার আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। একদিন ক্লাসে তিনি সরিষা গাছের জীবন চক্র আঁকতে বললেন। আমি চিত্র ভালো আঁকতে পারতাম না। বললাম, স্যার আমি পারি না। স্যার ক্লাসে বসেই আমাকে সরিষা গাছের জীবনচক্র আঁকানো শেখালেন। শেখানো শেষে আঁকতে দিলেন। আঁকলাম। দেখা গেল আমার চিত্রটাই সবচেয়ে সুন্দর হয়েছে।

 

 



মন্তব্য