kalerkantho

ক্যাম্পাস ক্লাব

এসসিআরসি

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের বিজ্ঞান ক্লাবের নানা তথ্য জানাচ্ছেন আফরা নাওমী

৩১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



এসসিআরসি

১৯৯৭ সালে শুরু হয় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের বিজ্ঞান ক্লাব এসসিআরসির (সায়েন্স ক্লাব অব রউফ কলেজ) পথচলা। কলেজের তখনকার প্রিন্সিপাল মিয়া মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ছিলেন ক্লাব চিফ প্যাট্রন এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হারুন-অর-রশীদ ছিলেন ক্লাব মডারেটর।

তখন থেকে টুকটুক করে বেড়ে উঠতে উঠতে আজ ক্লাবটির ঝুড়িতে আছে দারুণ সব অর্জন। বর্তমানে ক্লাবের চিফ মডারেটর পদে আছেন আবু দারদা। তবে সঙ্গে আছেন স্কুল-কলেজ, ডে-মর্নিং শিফট ইত্যাদির ভিত্তিতে নিযুক্ত আরো মডারেটর। এখন ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পড়ুয়া সাড়ে ৩০০ ছাত্র এই ক্লাবের সদস্য। কলেজের ডিবেট, ফটোগ্রাফি, লিটেরেচারসহ নানা ধরনের ক্লাবের মধ্যে বিজ্ঞান ক্লাবটি সবচেয়ে পুরনো।

 

ক্লাবের কার্যক্রম

অত্যন্ত সক্রিয় এই ক্লাবটিতে সাপ্তাহিকভাবে বিজ্ঞানবিষয়ক ক্লাস নেওয়া হয়। একটি নির্দিষ্ট সিলেবাস রয়েছে ক্লাবের, সে অনুযায়ী ক্লাস পরীক্ষা নেওয়া হয়ে থাকে। স্কুল-কলেজ শাখার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরাই মূলত পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিদ্যা, প্রাণিবিদ্যার ক্লাসগুলো নিয়ে থাকেন। মাঝেমধ্যে ওয়ার্কশপের ব্যবস্থাও করা হয়।

যখন কোনো প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের ডাক পড়ে, তখন বিশেষ ওয়ার্কশপ ও বাড়তি ক্লাসের মাধ্যমে ছাত্রদের তৈরি করা হয়। বিজ্ঞান মেলার আয়োজনসহ ক্লাবের বিভিন্ন কাজ সদস্যরা নিজেরাই করে থাকে মডারেটরদের তত্ত্বাবধানে। এ ছাড়া সদস্য আহ্বান, সদস্য নির্বাচন ও ক্লাবের অন্যান্য খুঁটিনাটি কাজগুলো করে ক্লাবের এক্সিকিউটিভ প্যানেলের সদস্যরা।

 

ক্লাবের অর্জন

২১ বছর বয়সী এই ক্লাবটির অর্জন কিন্তু কম নয়; বরং হাতে গুনে শেষ করা যাবে না। বছরে প্রায় ৭০-৮০টা করে পুরস্কার এই ক্লাবের সদস্যরাই এনে থাকে। হোক সেটা সাধারণ, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক। যেমন—২০১৩ সালে দ্বাদশ শ্রেণির তাহমিদ ওয়াসিফ রাকিন গোটা বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিল এস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডে। ২০১৭ সালে অষ্টম শ্রেণির সিতাত তাসনিম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় বিজ্ঞানবিষয়ক প্রজেক্ট নিয়ে বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল এবং ঢাকা বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ছিল প্রথম। ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে টানা তিন বছর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিজ্ঞান মেলার কুইজ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় তাদের ক্লাবের কুইজ টিম। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের আয়োজিত ইন্টার স্কুল-কলেজ প্রতিযোগিতায়ও তাদের উল্লেখযোগ্য বিজয় রয়েছে। এ বছরই তারা প্রথমবারের মতো আয়োজন করে প্রথম বিএমএআরপিসি ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টিভাল ২০১৮। সেখানে দেশের নামিদামি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ফেস্টের চ্যাম্পিয়ন, রানার্স-আপ এবং সেকেন্ড রানার্স-আপকে পুরস্কারের পাশাপাশি ক্লাবের পক্ষ থেকে মেধাবৃত্তিও দেওয়া হয়ে থাকে।

 

একটি পরিবার

সদস্যদের কাছে ক্লাবটি একটি পরিবারের মতো। তাদের কাছ থেকে শোনা যাক কিছু অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার গল্প। ‘কোনো ফেস্ট পরিকল্পনা হওয়ার পর, তার পুরো এরেঞ্জমেন্ট সদস্যদের জানানো, ভলান্টিয়ারের তালিকা করা, ক্রেস্ট সনদ তৈরি করতে দেওয়া, স্কুল-কলেজ শাখা সাজানো, সব কিছু নিজ হাতে করতে করতে ক্লাবের প্রতি অন্য রকম এক ভালোবাসা তৈরি হয়।’ জানান সায়েন্স ক্লাব এক্সিকউটিভ সদস্য ও দ্বাদশ শ্রেণির অরূপ সাহা।

প্রাক্তন কলেজছাত্র মইন কাদির বলল, ‘কলেজ পাস করে গেছি, কিন্তু ক্লাবের মায়া এখনো ছাড়তে পারিনি।’ সপ্তম শ্রেণির দেবজিৎ বিশ্বাস বলল, ‘ক্লাবের কার্যক্রম এবং বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ থেকেই যুক্ত হয়েছি এর সঙ্গে। এক বছরেই বিজ্ঞানবিষয়ক অনেক কিছু শিখেছি। আমার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে!’

ক্লাব নিয়ে ঘটে নানা ধরনের ঘটনাও। একাদশ শ্রেণির ছাত্র উেসর অভিজ্ঞতাই শোনা যাক, ‘কিছুদিন আগে ক্লাব থেকে একটা ইন্ট্রা অলিম্পিয়াড ও কুইজের আয়োজন করা হয়, যেখানে ছয়টা টিম সিলেক্ট করা হয়। তো সেখানে ছয় নম্বর টিম বাছাইয়ে একটা ঝামেলা বাধল। কারণ পাঁচটা টিমের পয়েন্ট সমান। সেখান থেকে একটা দল বাছাইয়ের জন্য ওই টিমগুলোকে নিয়ে আবার একটা রাউন্ড হলো। দলগুলোর মধ্যে আমার টিমও ছিল।  সব টিম থেকে একজন করে গেল। তাও প্রথমবার আবার কেউ-ই সঠিক উত্তর দিতে পারল না। তারপর সেকেন্ড মেম্বারদের নিয়ে কুইজ রাউন্ড হলো। এবার আমার টিমমেট আমাদের সেরা ছয়ে নিয়ে গেল। সিলেক্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত আমার হূত্স্পন্দন যেন দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল।’

‘পুঁথিগত বিদ্যা ছেড়ে ছাত্রদের পড়ালেখাকে বাস্তবে প্রতিফলিত করার একটা ক্ষেত্র তৈরি করতে ক্লাবটি সাহায্য করে আসছে। সামনেও ক্লাব ও ক্লাবের সদস্যরা আমাদের আরো উপহার দেবে ক্লাব থেকে এটাই আমার প্রত্যাশা—বললেন ক্লাব মডারেটর আবু দারদা স্যার।



মন্তব্য