kalerkantho


টিফিন আওয়ার

তুন্দ্রা অঞ্চলের স্কুল

রাশিয়ার তুন্দ্রা অঞ্চলের এক বোর্ডিং স্কুল আর সেখানকার শিশুদের জীবনযাপনের কাহিনি শোনাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

৩১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



তুন্দ্রা অঞ্চলের স্কুল

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার দুর্গম তুন্দ্রা অঞ্চলের কোমি প্রজাতন্ত্রে বাস নেনেত জাতির। তাদের যাযাবর জীবন। স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকায় স্কুলের নামগন্ধ নেই। তাই বলে এখানকার শিশুরা পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হবে, তা কী করে হয়! প্রতিবছর তাদের ৯ মাসের জন্য রাখা হয় মেরু সাগরের ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণের ভোরকুতা গ্রামের এক বোর্ডিং স্কুলে। হেলিকপ্টারে করে শিশুদের নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। তিন থেকে ১৩ বছর বয়সীদের জন্য এই ব্যবস্থা। সাইবেরিয়ার গ্রীষ্মকাল ক্ষণস্থায়ী। গরমের তিনটি মাস তারা তাদের যাযাবর পরিবারের সঙ্গে থাকে, বলগা হরিণ চরিয়ে বেড়ায়। বাকি সময়টা কাটে স্কুলে। তবে তাদের তুন্দ্রা অঞ্চলের জীবনযাপন ভুলে যাওয়া এত সহজ নয়। নেনেত বাচ্চাদের আঁকা ছবি থেকে শুরু করে সব কিছুতেই তাদের যাযাবর জীবনের ছাপ থাকে। জাপানি আলোকচিত্রী ইকুরু কুয়াজিমা তাদের এই জীবনের বহু ছবি তুলেছেন।

নেনেতদের নিজস্ব ভাষা আছে, আছে নিজস্ব সংস্কৃতি। স্কুলে রুশ ভাষাসহ নানা বিষয়ে শিক্ষা লাভ করে।

নেনেতদের অঞ্চলে যাওয়া সোজা নয়। সরকারি অনুমতির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা লাগে। যাযাবর এই জাতির জীবনযাপনের ধরনের সঙ্গে আধুনিক মানুষের সমাজের মিল কম, তাই স্কুলের মূল উদ্দেশ্যই থাকে মূলধারার রুশ জীবনধারার সঙ্গে নেনেতদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক নেনেতই তাদের যাযাবর জীবনধারা ত্যাগ করে মূলধারার সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই দুটি সংস্কৃতির যোগসূত্র যেন সাংঘর্ষিক না হয় সে জন্যই এই স্কুলের প্রতিষ্ঠা।

কেউ জানে না আধুনিক বা মূলধারার জীবন নেনেতদের জন্য কী পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তবে এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, পরিবর্তন সত্ত্বেও প্রাচীন, যাযাবর সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের যোগসূত্র যেন বিচ্ছিন্ন না হয় নেনেত শিশুরা সে চেষ্টাই করছে।



মন্তব্য