kalerkantho


ক্যাম্পাস ক্লাব

বিতর্ক নিয়ে মেতে আছে ওরা

ক্যাম্পাস ক্লাবের নিয়মিত আয়োজনে এবার থাকছে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ডিবেটিং সোসাইটির কথা। জানাচ্ছেন আরাফাত বিন হাসান

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বিতর্ক নিয়ে মেতে আছে ওরা

২০১৩ সালের কথা। চট্টগ্রামের প্রায় সব বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় চটগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের বিতার্কিক দল। সেই দলে ছিল চার বন্ধু—সৌম্য স্বরাজ, মানসিব তাহসিন অর্ক, শিহাব আর রাসাদ ও রিয়াসাত মোর্শেদ খান। তাদের মনে হলো শুধু নিজেরা বিতর্কে দক্ষ হলে চলবে না, স্কুলের ছোট ভাই-বোনদেরও বিতর্কে উৎসাহী করে তুলতে হবে। তাই চার বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করল ‘চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ডিবেটিং সোসাইটি’ নামের একটি ক্লাব। শুরুতে সদস্যসংখ্যা ছিল ওই চারজনই। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ক্লাবের সদস্যসংখ্যা। তাদের আগ্রহ দেখে ক্লাবের মডারেটর হিসেবে এগিয়ে আসেন শাহেদ স্যার আর আলেয়া ম্যাডাম। সে সময় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে তাদের পাশে ছিলেন তখনকার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আজিজ উদ্দীন স্যারও। ছোটদের অনেকেও ধীরে ধীরে আগ্রহী হয়ে ওঠে বিতর্কে।

শুরুর সেই চারজন থেকে এখন সদস্যসংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে নিজেকে তৈরি করেছে তুখোড় বিতার্কিক হিসেবে। শুরু থেকেই চট্টগ্রামে প্রায় সব বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জিতে নিয়েছে কোনো না কোনো পুরস্কার। জাতীয় পর্যায়ের বেশ কিছু বিতর্ক টুর্নামেন্টেও পেয়েছে পুরস্কার। কখনো কখনো তো প্রস্তুতি ছাড়া পুরস্কার জিতে গেছে। ‘‘এক দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুনলাম একটা টুর্নামেন্টে যেতে হবে। টুর্নামেন্টটি ছিল ‘সিসিপিসি ন্যাশনাল’।  চট্টগ্রামের খুব বড় মাপের টুর্নামেন্টগুলোর একটি। গিয়েই বিতর্ক করলাম ৪ রাউন্ড। কেমন হয়েছে জানতাম না। কারণ আমার দলের কারোরই পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। কিন্তু দিনশেষে জানা গেল চারটি রাউন্ডের সব কয়টি জিতে সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে যাচ্ছি। এই খুশির স্মৃতিটি সারা জীবন মনে থাকবে। যদিও শেষ পর্যন্ত দল চ্যাম্পিয়ন হয়নি, তবে কলেজিয়েট স্কুল ডিবেটিং সোসাইটি রানার্স-আপ হয়েছিল।’’ জানাল ক্লাবের সদস্য মোস্তাকিম মহিউদ্দীন।

ক্লাবটি আয়োজন করেছে বেশ কয়েকটি আন্ত স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার; কিন্তু আন্ত স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দেখা যায় বিতার্কিকরা নিজেদের স্কুলের বাইরে অন্য স্কুলের বিতার্কিকদের সঙ্গে খুব একটা মেশা বা তাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পায় না। তাই তারা এমন কিছু করার চিন্তাভাবনা করল, যাতে বিতার্কিকরা সহজে অন্য স্কুলের বিতার্কিকের সঙ্গে মিশে নিজেদের দক্ষতায় শাণ দিতে পারে। এ জন্য আয়োজন করল মক পার্লামেন্টারি বিতর্ক প্রতিযোগিতার। চট্টগ্রামে কলেজিয়েট স্কুল ডিবেটিং সোসাইটি সর্বপ্রথম এই মক পার্লামেন্ট বা মিক্স আপ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিশেষত্ব হলো এর মাধ্যমে কলেজ আর স্কুলের বিতার্কিকরা এক টিমে থেকে সুযোগ পায়। তা ছাড়া এই পদ্ধতিতে দল গঠন করা হয় ভিন্ন ভিন্ন স্কুল-কলেজের বিতার্কিকদের নিয়ে। এ পর্যন্ত তারা আটটি মক পার্লামেন্টারি বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। এ ছাড়া নিজেদের দক্ষতার পরীক্ষা নিতে আয়োজন করেছে তিনটি উন্মুক্ত (স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়) বিতর্ক প্রতিযোগিতার। নিজেদের মধ্যে সেরা বিতার্কিকদের খুঁজে নেয় আন্ত স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।

বিতর্ক নিয়ে আবার কলেজিয়েট স্কুলের ড. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে দারুণ প্রতিযোগিতা। ‘শিশু একাডেমি আয়োজিত ডিবেটে চট্টগ্রামের খাস্তগীর স্কুলের সঙ্গে ডিবেট ছিল। সেবার আমাদের দুই টিমই হেরে গিয়েছিলাম ওদের দুই টিমের কাছে। তো তখন ওরা অনেক মজা করেছিল আমাদের টিম নিয়ে। এর পরের কয়েকটি টুর্নামেন্টে আমরা ওদেরকে হারানোর পর ওরা যেভাবে মজা করত, আমরাও ঠিক সেভাবে মজা করলাম।’ হাসতে হাসতে বলল ক্লাবের এক সদস্য আহমেদ মুকতাফি রোহান।

কলেজিয়েট স্কুল ডিবেটিং সোসাইটি নিজেদের সেরা বিতার্কিকদের নিয়ে গঠন করেছে আটটি দল। এই দলগুলো প্রতি বৃহস্পতিবার ছুটির পর নিজেদের মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নতুনদের জন্য আয়োজন করা হয় বিভিন্ন কর্মশালার। এ ছাড়া ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ডিবেটিং সোসাইটি পিএইচপির সহযোগিতায় একটি জাতীয় বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করে। এই উৎসবেই স্কুলপর্যায়ের বিতর্ক ক্লাব হিসেবে চট্টগ্রামে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে তারা। একাডেমিক শিক্ষার বাইরে বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক ও ক্লাবের মডারেটর শাহেদ মাহমুদ বলেন, ‘বিতর্ক করতে গেলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে খুঁটিনাটি জানতে হয় এবং সাধারণ জ্ঞানে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে হয়। আর বিতার্কিকরা যেহেতু বিভিন্ন বিষয়ে মৌলিক ধারণা রাখে, তাই তাদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে সুবিধা হয়।’ তিনি জানান, ক্লাবের সাবেক বিতার্কিকদের মধ্যে ১৫ জনেরও বেশি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। বিতর্কে অর্জিত জ্ঞান তাদের পথচলায় সহায়ক হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সামনে কোনো বড় আয়োজন আছে কি না জানতে চাইলে ক্লাবের সদস্য ইয়াসির জুনাইদ হিমেল বলল, ‘আমাদের লক্ষ্য আগামী বছর একটি জাতীয় বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করা।  যেখানে সারা দেশের অনেক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।’

 

শিরোপা জিতেছে যেসব প্রতিযোগিতায়

এনএসইউ পডিয়াম ২০১৪

এআইইউবি জুনিয়র পার্লামেন্ট ডিবেট কম্পিটিশন ২০১৪

রবি-দৃষ্টি ন্যাশনাল ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৩, ২০১৪, ২০১৮

প্রথম আলো তারুণ্য উৎসব ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৭

চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি তারুণ্য উৎসব ২০১৩ ও ২০১৪

ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল ডিবেটিং সোসাইটির ইন্টার স্কুল ডিবেটিং কম্পিটিশন ২০১৪

চুয়েট স্পেইস কার্নিভাল ডিবেট ২০১৭

ডিভিশনাল সায়েন্স ফেয়ার ডিবেট ২০১৭

 



মন্তব্য