kalerkantho


ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভাল

লাইট-মোবাইল-অ্যাকশন

আরিফুল ইসলাম   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



লাইট-মোবাইল-অ্যাকশন

চলচ্চিত্র হলো সৃজনশীলতা প্রকাশের এক আধুনিক মাধ্যম। নিয়মবদ্ধ পড়াশোনার ফাঁকে, সময় করে শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্রচর্চায় অনুপ্রাণিত করতে দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চলচ্চিত্র সংসদ বা ফিল্ম ক্লাব। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) শিক্ষার্থীদের এমন সংগঠনটির নাম ‘সিনেমাস্কোপ’। ‘নতুন প্রজন্ম, নতুন প্রযুক্তি, নতুন যোগাযোগ’—এই স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভাল’। আয়োজনটির সূচনা হয়েছিল ২০১৫ সালে, ‘সিনেমাস্কোপ মোবাইল ফিল্ম কম্পিটিশন’ নামে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীদের বানানো চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে এ আয়োজনে। করবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও। ‘সিনেমাস্কোপ’ সদস্য দিয়া পোদ্দারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিযোগিতা বিভাগের চলচ্চিত্রগুলোর সময়ব্যাপ্তি হতে হবে ১০ মিনিটের মধ্যে। এ বিভাগটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য। অন্যদিকে ‘ওয়ান মিনিট ক্যাটাগরি’তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বানানো সর্বোচ্চ এক মিনিট সময়ব্যাপ্তির সিনেমা। অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্রের মেয়াদ থাকা চাই অন্তত আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত। শুধু চলচ্চিত্র নির্মাতা কিংবা তার প্রতিনিধিই পারবেন চলচ্চিত্র জমা দিতে। কোনো প্রতিযোগীর দুটির বেশি চলচ্চিত্র গ্রহণ করা হবে না। একেকটি চলচ্চিত্রের নির্মাতা হতে পারেন একজন এবং যৌথ পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চারজন।

যেকোনো ব্র্যান্ডের মোবাইল দিয়েই চলচ্চিত্রের শুটিং করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে একাধিক মোবাইল। আরো ব্যবহার করা যাবে এক্সটারনাল মাইক্রোফোন, লেন্স, লাইটিং যন্ত্রপাতি ও ট্রাইপড। তবে ডিএসএলআর, কমপ্যাক্ট ক্যামেরা কিংবা হাইব্রিড অ্যান্ড্রয়েড—এ ধরনের কোনো ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে না।

চলচ্চিত্র জমা দিতে হবে এমপিজিএফোর [.mp4] ফরম্যাটে। চলচ্চিত্রের মোট সময়ব্যাপ্তির ৩০ শতাংশের বেশি অ্যানিমেশন বা ভিজুয়াল ইফেক্টস [ভিএফএক্স] থাকা চলবে না। ইংরেজি সাবটাইটেল ব্যবহার আবশ্যক। আর তা ভিজুয়ালের মধ্যে জুড়ে বা সংমিশ্রণ করে দিতে হবে। থিম, টপিক বা ধারার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই; বরং এ ক্ষেত্রে চলচ্চিত্র নির্মাতা সম্পূর্ণ স্বাধীন। তবে লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো কপিরাইটকৃত ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ। অন্যদিকে কোনো ধরনের নগ্নতা, অশ্লীলতা, মারাত্মক সহিংসতা কিংবা বর্ণবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। সিনেমা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। এ ক্ষেত্রে কোনো এন্ট্রি ফি নেই। তবে এরপর জমা দিতে গেলে প্রদর্শনী ক্যাটাগরিতে ২০ মার্কিন ডলার, প্রতিযোগিতা ক্যাটাগরিতে ১০ মার্কিন ডলার ও ওয়ান মিনিট ক্যাটাগরিতে ৫ মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হবে। সে ক্ষেত্রে জমা দেওয়া যাবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রাপ্তিস্বীকার জানিয়ে দেওয়া হবে ২০ ডিসেম্বর। নির্বাচিত সিনেমাগুলো ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে ইউল্যাব অডিটরিয়ামে প্রদর্শিত হবে। ফল ঘোষণা করা হবে পরেরবারের প্রতিযোগিতার সময়। বলে রাখি, সিনেমা জমা দেওয়ার ওয়েবলিংক—https://filmfreeway. com/DIMFF।

উৎসবটির উপদেষ্টা কমিটিতে রয়েছেন ইউল্যাবের স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের ডিন প্রফেসর জুড উইলিয়াম আর. জেনিলো, মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন এবং ‘সিনেমাস্কোপ’র ইনস্ট্রাক্টর মো. জাহিদ হাসান। অন্যদিকে আয়োজক ‘সিনেমাস্কোপ’-এর বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন—ফাবলিহা নাওয়ার (সিইও), দিয়া পোদ্দার (হিউম্যান অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজার), বিধান চন্দ্র দাশ (ইভেন্ট ম্যানেজার), সাইমুম জামান (অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার), আলয় হোসেন (ব্র্যান্ড ম্যানেজার), মোহাম্মদ ফরহাদ (প্রোডাকশন হেড), ফয়সাল মাহমুদ (ওয়ার্কশপ হেড), দোলন চম্পা দত্ত (আর অ্যান্ড পি হেড), আসিফ উদ্দিন (স্ক্রিনিং হেড), রিয়াজ উদ্দিন (প্রোডাকশন সেক্রেটারি), রবিউল হক (ওয়ার্কশপ সেক্রেটারি), সাদাত রুহুল (আর অ্যান্ড পি সেক্রেটারি) ও আল আরাফাত (স্ক্রিনিং সেক্রেটারি)। আরো তথ্য জানা যাবে www.dimff.net ওয়েবসাইটটি থেকে।



মন্তব্য