kalerkantho


ক্যাম্পাস ক্লাব

পৃথিবী বাঁচাতে ইকো আর্থ ক্লাব

ক্যাম্পাস ক্লাবের নিয়মিত আয়োজনে এবার থাকছে ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইকো আর্থ ক্লাবের গল্প। জানাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

২৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



পৃথিবী বাঁচাতে ইকো আর্থ ক্লাব

‘গত বছরের ঘটনা। হঠাৎ ক্লাসে ঘোষণা আসে, আজ পরিবেশ বিষয়ক একটা সেমিনার হবে। সেমিনারের সঙ্গে ক্লাস থ্রির শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল গাছের টবের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আর কলেজের ছাত্রদের জন্য ফল-ফুল-গাছ শনাক্তকরণ বিষয়ক কুইজ। তবে মজার ব্যাপার হলো, পুরস্কার হিসেবে ছিল সবজি। সাইকাসগাছ সঠিকভাবে শনাক্ত করে আমি পেয়েছিলাম একটি ফুলকপি। আমার আরেক বন্ধু ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারহান পেয়েছে গাজর। আমরা অনেক হাসাহাসি করছিলাম এ নিয়ে। তবে বিজয়ীরা এমন অদ্ভুত পুরস্কার পেয়েও ছিল বেজায় খুশি।’ এভাবেই মজার একটি অভিজ্ঞতা বলছিল যোসেফাইট ইকো আর্থ ক্লাবের সহসভাপতি ফরহাদুল ইসলাম। ওই আয়োজনটি পরিবেশ বিষয়ক হওয়ায় এর সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই যুক্ত ছিল তাদের ক্লাব। ‘ড্রিম ইন গ্রিন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যোসেফাইট ইকো আর্থ ক্লাব। উদ্দেশ্য প্রকৃতি, গাছপালা, সবুজ ও পরিবেশ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দান ও সচেতন করে তোলা। নিজেদের ক্যাম্পাস তো বটেই, পৃথিবী সবুজ হয়ে উঠুক—এ লক্ষ্যেই কাজ করছে তারা। তাদের ক্যাম্পাস দেখলেই বোঝা যায় শিক্ষাথীরা কতটা সচেতন। ক্যাম্পাসটি সবুজে পরিবেষ্টিত। বর্তমানে স্কুল ও কলেজ উভয় শাখার শিক্ষার্থী মিলে ক্লাবের সদস্যসংখ্যা ৪০০ জন। স্কুল ও কলেজের যেকোনো শিক্ষার্থী ক্লাবের সদস্য হতে পারে। গত বছর বিপিএলের সময় রাজশাহী কিংস ‘এ সিক্স এ ট্রি’ নামে একটি উদ্যোগ নেয়। অর্থাৎ বিপিএলে একটি নির্দিষ্ট ম্যাচে রাজশাহী কিংস যতটি ছক্কা মারবে, ঠিক ততটি গাছ তারা সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রোপণ করবে। বিপিএলে সে ম্যাচটিতে তারা মোট ১৯টি ছয় মেরেছিল। পরে মুস্তাফিজ, কেসরিক উইলিয়ামস ও রাজশাহী কিংসের কর্মকর্তারা এসে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ১৯টি গাছ রোপণ করেন। শিক্ষার্থীরাও বেশ উত্সাহিত হয়। খেলোয়াড়রা আসায় পুরো ক্যাম্পাসে ভিড় জমে যায়। পরে সবাই মিলে ছবি তোলে। ক্লাবের সভাপতি রাফিদ ফায়াজ বলল, ‘স্কুলের ক্যাম্পাস থেকে দেশ—সবই সবুজ আর সুন্দর করার দায়িত্ব আমাদের। একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে চাই। আশা করি, আমাদের ক্লাবের সদস্যরা এই উদ্দেশ্য পূরণ করতে সক্ষম হব।’ প্রতিবছর আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস উদ্যাপন ছাড়াও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, সবুজ ঢাকা কর্মসূচি ও ২০১৭ থেকে ফেস্ট আয়োজন করে আসছে ক্লাবটি। ক্লাবে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত বায়োলজির ওপর ক্লাস হয়ে থাকে। চিফ মডারেটর অনিমেশ সাহা ক্লাস নিয়ে থাকেন। প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হয়। আর সেখানে ক্রিটিক্যাল প্রশ্ন অনুশীলন করানো হয় ক্লাবের সদস্যদের। ২০১৭ সালের ১৪-১৬ সেপ্টেম্বর ‘প্রথম নেচার ফেস্ট’ আয়োজন করা হয়। ১৯টি ইভেন্টের পাশাপাশি ফেস্টে ছিল কনসার্টের আয়োজন। পৃথিবী ও পরিবেশবিষয়ক নানা প্রজেক্ট নিয়ে ফেস্টে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি শিহাব, আরেক সহসভাপতি অদ্রি আর ক্লাবের সদস্য মাশরুর রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইয়াকুটস্ক ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্ট ২০১৮ অংশগ্রহণ করে ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে আসে। অন্যদিকে ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাভিদ হায়দার ২০১৬ সালে ন্যাশনাল আর্থ অলিম্পিয়াডে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। ক্লাবের আরো একটি বড় অর্জন হলো—ক্লাবের সদস্য সৃজন, লাবিব তাজয়ার ও সাবেক সভাপতি নাভিদ হায়দার স্টকহোমে ওয়াটার রিসোর্স বেজড প্রজেক্টে প্রথম স্থান অর্জন করে। প্রতিবছর ভারতের কোয়েস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টে ক্লাব সদস্যরা পুরস্কার জিতে থাকে। এ ছাড়া ন্যাশনাল ও আন্ত প্রতিযোগিতায় ক্লাব সদস্যদের অর্জন অনেক। ক্লাবের চিফ মডারেটর ও জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অনিমেশ সাহা বলেন, ‘ড্রিম ইন গ্রিন’—এই উক্তিটি মন ও মস্তিষ্কে যাপন করে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, আশা করছি, সত্যি আমাদের দেশ, পৃথিবীটাকে আরো সবুজ করে তুলতে পারব, ঠিক যেমনটা দরকার।’ উল্লেখ্য, এ বছর ৬-৮ সেপ্টেম্বর ‘দ্বিতীয় নেচার ও অ্যাডভেঞ্চার ফেস্ট ২০১৮’ আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্লাবটি। এতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নাফিস বলল, ‘ক্লাবের এত অ্যাক্টিভিটি ও নানা আয়োজনের পেছনে অনিমেশ স্যারের ভূমিকা অনেক। ক্লাবটি এখন একটি পরিবারে পরিণত হয়েছে। আমাদের এই পৃথিবীটা দিনদিন দূষিত হচ্ছে আর বসবাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে, সবুজ ও সজীব স্বপ্ন নিয়ে আমরা আমাদের জননী সমতুল্য পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।’



মন্তব্য