kalerkantho


ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট

উৎসবমুখর পথচলা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট ২০১৮’। দেশের ২২টি ক্যাম্পাসের সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন। গড়ে ওঠে ‘বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেডারেশন’। দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এ উত্সবের গল্প শোনাচ্ছেন আলী ইউনুস হূদয় ও মোয়াজ্জেম আফরান। ছবি তুলেছেন জুবায়ের মাহমুদ

২৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



উৎসবমুখর পথচলা

‘গত বছরের ডিসেম্বরে শুরু হয়েছিল প্রাথমিক প্রস্তুতি। শুরুতে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল দেশের নানা প্রান্তের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাংবাদিক সংগঠনের কাছে। ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। যদিও বিষয়টি সহজ ছিল না, তবু শেষ পর্যন্ত সফলভাবেই আয়োজিত হলো ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের স্বপ্নের এ উত্সবের।’—বলছিলেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্টের সদস্যসচিব ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফ। ২৭ জুলাই ছিল উত্সবের প্রথম দিন। ভোর থেকেই সিলেটের আকাশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর মেঘ-রোদের লুকোচুরি খেলা। তবে বৃষ্টি পারেনি আনুষ্ঠানিকতায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান ও সাবেক সদস্য এবং সারা দেশের ২২টি ক্যাম্পাসের ২৫০ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক। নীল রঙের টি-শার্ট পরিহিত সবাই যেন একই সুতোয় বাঁধা পড়েছিলেন এ বেলা। উদ্বোধন শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন সবাই। এরপর অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের সঙ্গে নিজ কর্মের গল্প বিনিময় করেন ক্লাবের বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা। সব শেষে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ক্যাম্পাস সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে কথা বলেন। তিনি মন্ত্রণা দেন, ‘ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই। একজন সাংবাদিককে সব সময় সত্যের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।’ বিকেলে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা, শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সম্ভাবনা, মতামত ও পর্যালোচনা বিষয়েও কথা বলেন তিনি। লার্নিং সেশনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সম্পর্কে কথা বলেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মোহসিন উল হাকিম।

উত্সবের দ্বিতীয় দিন সবাই নগরীর মাজার গেট থেকে বাসযোগে ক্যাম্পাসে পৌঁছেন। সকাল ৯টায় শুরু হয় গ্রুপ আলোচনা। পরে লার্নিং সেশনে সাংবাদিকতায় নিজ নিজ অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের উদ্দেশে শোনান বিবিসি বাংলার সাংবাদিক আকবর হোসেন। এরপর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশের পালা। একে একে দেশের সব ক্যাম্পাস সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিকে মঞ্চে ডেকে নেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। এ সময় তাঁরা নিজ ক্যাম্পাস ও সংগঠনকে তুলে ধরেন অন্যদের কাছে। সবার কথার মর্মার্থ ছিল—‘আমরা সবাই ক্যাম্পাস সাংবাদিক। আমরা সবাই একে অপরের আপন। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিচয় আমাদের হতে পারে না।’

বৃষ্টিস্নাত বিকেলের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান বুলবুল এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান মুক্তি। ‘কেমন চাই আগামীর ক্যাম্পাস’ শিরোনামে শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হন সম্মানিত অতিথি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এ সময় উত্সব ম্যাগাজিন ‘কথন’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ম্যাগাজিনটিতে সাংবাদিকতার এপিঠ-ওপিঠ প্রসঙ্গে ৬৮টি লেখা মুদ্রিত হয়েছে। সমাপনী বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মনসুর। পরে সন্ধ্যায় ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক নেতাদের ঐকমত্যে গঠন করা হয়—‘বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেডারেশন’।

উত্সবে অংশ নিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুন্নি আক্তার বলেন, ‘আমরা যাঁরা ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করি, তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ থাকা খুবই প্রয়োজন। এই উত্সবের মধ্য দিয়ে সে সুযোগ তৈরি হলো।’ নারী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

কেমন ছিল ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট’—এ প্রসঙ্গে ইতিবাচক মন্তব্য পাঠিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আসীফ ত্বাসীন। সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নয়নও উত্সবের প্রশংসা করে বক্তব্য দেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিলয় মামুন জানান, এ আয়োজনে তাঁরাও অনুপ্রাণিত। তাঁর আশা, এ ধরনের আয়োজন ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি বায়েজিদ ইমন আঞ্চলিক ভাষায় সবাইকে চট্টগ্রামে আমন্ত্রণ জানান! এখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যদের মধ্যকার সম্প্রীতি এক ফ্রেমে ধরা দেয়। বাদ যায়নি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও।



মন্তব্য