kalerkantho


দশম আন্তর্জাতিক আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব

উদ্বাস্তুর জন্য ভালোবাসা

মাহবুবুর রহমান   

৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



উদ্বাস্তুর জন্য ভালোবাসা

গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা উদ্বাস্তু বা শরণার্থীদের করুণ মুখগুলো আমাদের মনকে প্রতিনিয়ত বিষণ্ন করে তোলে। আনমনেই হয়তো প্রশ্ন জাগে, কতজন মানুষ বাস্তুচ্যুত এখন? নিজের ঘরে, নিজের দেশে কোনো দিনই ফিরতে না পারার আশঙ্কা নিয়ে কতজন মানুষ জীবন কাটায়? কতটুকু নির্মম বাস্তবতার সঙ্গী হতে হয় তাঁদের?

অনুমানকে পাশ কাটিয়ে, চলুন বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জানা যাক। শরণার্থী সমস্যা নিয়ে জাতিসংঘের যে অঙ্গসংগঠনটি কাজ করে, সেটির নাম ইউনাইটেড ন্যাশনস হাইকমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর)। এই প্রতিষ্ঠানের হিসাব মতে, বিশ্বে প্রায় ছয় কোটি ৮৫ লাখ মানুষ এখন বাস্তুচ্যুত। তাদের মধ্যে প্রায় দুই কোটি ৫৪ লাখ মানুষকে উদ্বাস্তু বলা হয়।

এই সমস্যা উপলব্ধি করে, এর ওপর বিশেষ আলোকপাত করবে এবারের ‘আন্তর্জাতিক আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব’। চালু হবে ‘শর্ট ফিল্ম অন রিফিউজি’ নামে একটি নতুন বিভাগ। বলে রাখি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের নিয়মিত আয়োজন এই উৎসব। এবার আয়োজিত হতে যাচ্ছে এটির দশম আসর। এ জন্য উদ্বাস্তুবিষয়ক স্বল্পদৈর্ঘ্যের প্রামাণ্যচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (ফিকশন), সাক্ষাত্কার, প্যানোরোমাসহ যেকোনো সাব-ক্যাটাগরির পরিবেশনা আহ্বান করা হয়েছিল। চলচ্চিত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৫ আগস্ট। জমা পড়া চলচ্চিত্রগুলো থেকে পুরস্কার হিসেবে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি পাবে ৩০০ মার্কিন ডলার। এ বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী চলচ্চিত্রকে দেওয়া হবে ২০০ মার্কিন ডলার পুরস্কার।

এ ছাড়া বরাবরের মতো এ উৎসবের নিয়মিত দুটি প্রতিযোগিতা বিভাগও চালু থাকবে। কম্পিটিশন বিভাগে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট এবং প্যানোরোমা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রগুলো করবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকে ‘জহির রায়হান শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার’ এবং শ্রেষ্ঠ বাংলাদেশি পরিচালককে ‘তারেক মাসুদ সেরা উদীয়মান পরিচালক পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হবে। পুরস্কার দুটির মূল্যমান যথাক্রমে ৩০০ ও ২০০ মার্কিন ডলার। উৎসবে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার, চলচ্চিত্র সমালোচক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সেরা ৫০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তন (টিএসসি), বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, টেলিভিশন চ্যানেল, সিনেপ্লেক্স ও উন্মুক্ত স্থানে। এর মধ্যে গ্যেটে ইনস্টিটিউটে ১৯ আগস্ট, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে ২৯-৩০ আগস্ট, টিএসসিতে ২-৪ সেপ্টেম্বর এবং স্টার সিনেপ্লেক্সে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদর্শনীর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া কিংবা দুই বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করেছেন—এমন নির্মাতাদের চলচ্চিত্র নিয়েই এ উৎসব। শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত এ আয়োজন। গত উৎসবে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রায় দুই হাজার চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ এর প্রমাণ। উৎসবটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে .িফঁভং.ড়ত্ম ওয়েবসাইটে।



মন্তব্য