kalerkantho


মধ্যবিত্তের বিশ্ববিদ্যালয়, নিম্নবিত্তের আশ্রয়

মানবিক মানুষ তৈরি করতে চাই

১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



মধ্যবিত্তের বিশ্ববিদ্যালয়, নিম্নবিত্তের আশ্রয়

রাজধানী ঢাকার কাছেই সাভারে আছে ‘গণ বিশ্ববিদ্যালয়’। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৪ জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয় ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। এখানে আরো আছে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ। তাদের নিয়ে পূর্ণ পৃষ্ঠার বিশেষ আয়োজনে লিখেছেন মনির হোসেন শিমুল। সহযোগিতা করেছেন সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা। ছবি তুলেছেন রফিকুর রহমান রেকু

 

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা

আমাদের সব কাজের লক্ষ্য দুটি স্বপ্ন ঘিরে—‘গরিব মানুষের উন্নতি না হলে বাংলাদেশের উন্নতি হবে না’ ও ‘এই দেশের মেয়েদের অগ্রগতি না হলে দেশেরও কোনোভাবেই অগ্রগতি হবে না।’ অথচ আমরাই এখনো মেয়েদের ঘরের বাইরে আসতে দিই না, তাদের জন্য সেই পরিবেশ সৃষ্টি করি না। আমরা যাঁরা সমাজতন্ত্রের কথা বলি, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য লড়াই করি, এই দেশের গরিব মানুষের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ করা তাঁদেরই তো দায়িত্ব। যেকোনো মানুষের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য তার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ভালো ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। দেশের স্বাস্থ্য তো এখনো অবহেলিত। এর কারণও নারীর স্বাস্থ্যের দুর্বলতা। নারীর স্বাস্থ্য ভালো থাকলে তিনি ভালো ও সুস্থ-সবল শিশু জন্ম দেন। আর সেই শিশু একেবারে ছোটবেলায়, যখন তার বাঁচা-মরার প্রশ্ন জড়িত থাকে, তখন তার স্বাস্থ্যের মূল যত্ন তো তার মা-ই নেন। অবশ্য মা সারা জীবনই তাঁর সন্তানের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আচরণ, জীবনযাপনসহ সব বিষয়ের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক থাকেন।

মানুষকে তার অধিকার দিতে হলে, সে বিষয়ে তার সচেতনতাবোধ আরো বেশি প্রখর করতে হলে তাকে শিক্ষিত করে চাকরি দিতে হবে। গণ বিশ্ববিদ্যালয়, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজসহ আমাদের সব প্রতিষ্ঠানেই এমনভাবে লেখাপড়া শেখানো হয়, শিক্ষার্থীদের তৈরি করা হয়, যাতে তারা কারো মুখাপেক্ষী না থেকে বিকল্প কর্মে নিযুক্ত হতে পারে। আমরা সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছি, ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণ যেন তাদের জীবন-জীবিকায় সহায়ক হয়।

এবার শুরুর কথা বলি—বিশ্ববিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. আনিসুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত অধ্যাপক ড. আহমেদ কামালের মতো মানুষদের হাত ধরে আমাদের পাঠ্যক্রম তৈরি হয়েছে। তাঁরা একটি নতুন সমাজ তৈরির যে স্বপ্ন সারা জীবন দেখেছেন, সেটিই আমাদের ভবিষ্যতের ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন গড়ে তোলার জন্য দিয়ে গেছেন। সেভাবেই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের মতো করে পড়ানোর স্বপ্ন দেখছি। সবগুলো প্রতিষ্ঠানেই মানুষকে সাহায্য করা, তার বেদনা বুঝতে পারার মতো করে মানবিক মানুষ তৈরি করতে চাই। গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজের কথাই বলি। কেন ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রামে পাঠাই? গ্রামের মানুষের সঙ্গে থাকা, তাদের চিকিত্সা দেওয়ার মতো করে তৈরি করি? এ নিয়ে সারা দেশে প্রচণ্ড আলোচনা, সমালোচনাও কম শুনিনি। আসলে গ্রামের গরিব মানুষদের চিকিত্সা দিতে না পারলে, এই দেশের খেটে খাওয়া কৃষক-মজুরের কষ্ট, রোগের উপশম করতে না পারলে কিভাবে একজন মানুষকে মহৎ পেশার মানুষ বলব? এই প্রশ্ন আপনাদের সামনে রেখে যাচ্ছি। বিজ্ঞানের এত আবিষ্কার, উত্কর্ষে কী লাভ, যদি সেটি সব শ্রেণির মানুষের উপকারে না আসে? কাউকে তো শুরু করতে হবে, কাজটি করতে হবে। সব বন্ধুকে নিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই চেষ্টা করে যাব। আমরা মানুষের কল্যাণে জীবন উত্সর্গ করেছি। সেটি আমাদের সব ছাত্র-ছাত্রীও করবে বলে বিশ্বাস করি, করছেও। যেকোনো গ্রামের হাসপাতালে গেলেই দেখবেন, প্রতি ১০ জন চিকিত্সকের আটজনই আমাদের ছাত্র-ছাত্রী। তারা গ্রামগুলো গড়ে তুলছে। এই দৃশ্যগুলোই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমরা লেখাপড়ার খরচ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। ভালো ফলের ওপর আমাদের বৃত্তি আছে, ৯০ শতাংশের বেশি শ্রেণি উপস্থিতি থাকলে পড়ার খরচে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিই। এই দেশের মানুষের গরিবি হটাতে আমাদের সব কর্মকাণ্ড। সেসব বিষয়ই মূলত আমরা পড়াচ্ছি, শেখাচ্ছি। কারণ মানুষের দরিদ্রতার অবসান না ঘটলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, পারিবারিক দুঃশাসন, অন্যায়, অবিচার কমে না। তার দরিদ্রতা না কমলে স্বাস্থ্য ভালো হয় না, ভালো শিক্ষা লাভ হয় না। ফলে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে আমরা পোস্টারে লড়াই করি না, মাঠে থেকে শ্রম ও রক্তের বিনিময়ে লড়ে যাচ্ছি। এস এম সুলতানের সেই সবল মানুষদের তৈরি করতে আমাদের খেলাধুলার অনেক ব্যবস্থা আছে। সবাইকে খেলতে হয়, শরীর ভালো রাখতে হয়। না হলে সে কিভাবে আগামী দিনে দেশ গড়বে? এখন ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি। ২০ একর জমি পেয়েছি। ভারতের টাটা মেমোরিয়াল ক্যান্সার হাসপাতাল ছাড়া আর কেউ আমাদের সমকক্ষ থাকবে না—এত ভালো মানের হাসপাতাল বাংলাদেশের মানুষকে দেব। এবার একটু নিজেদের কথা বলি—আমাদের প্রথম প্রতিষ্ঠান ঢাকার সাভারের হাসপাতাল ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’। এখন দেশের ২৭টি উপজেলার এর ৪৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে। ঢাকা, সাভার, গাজীপুরের শ্রীপুর, পাবনার কাশিনাথপুর, গাইবান্ধা ও ভোলার চরফ্যাশনে কেন্দ্রের অধীনে ছয়টি বিশেষায়িত হাসপাতাল আছে। ১৯৮১ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে মেডিক্যাল কলেজের অধীনে ডেন্টাল ইউনিট যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৮ সালের ১৪ জুলাই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সার্বিক সহযোগিতায় সাভারের বিশমাইলে ১০ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় গণ বিশ্ববিদ্যালয়। আয়তন বেড়ে এখন এটি আছে ২৫ একরে। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকটি ২৭ ফুট উঁচু ও ৫৫ ফুট চওড়া। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সংগ্রামী চিত্র ও বাংলাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূতদের ছবি খোদাই করা আছে। আছে মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভাস্কর্য। গেটের ভেতরে দুটি প্রশাসনিক ভবন আছে। বিশাল কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ‘ই’ শেপের ছয়তলা একাডেমিক ভবন আছে। পাশেই নির্মাণাধীন ক্যাফেটেরিয়া ও অডিটরিয়াম। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়ে কেন গণ বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা? সেকথা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রেজিস্ট্রার আবু মোহাম্মদ মোকাম্মেলের ভাষায় বলি—‘গ্রামের সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও বাংলাদেশের আদর্শ উচ্চশিক্ষিত, সুনাগরিক তৈরির জন্য চালু হওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো একক মালিক নেই। ৩১ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে গণ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। এতে চারটি অনুষদ আছে—স্বাস্থ্য ও চিকিত্সা বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, ভৌত ও গাণিতিক বিজ্ঞান এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস। মোট ১৯টি বিভাগে অনার্স পড়ানো হয়—বিবিএ, এমবিবিএস, বিডিএস, ফার্মেসি, ফিজিওথেরাপি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি, বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি, রাজনীতি ও প্রশাসন, সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম, পরিবেশ বিজ্ঞান, আইন, ভাষা যোগাযোগ ও সংস্কৃতি, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, ফলিত গণিত, পদার্থ ও রসায়ন, মেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং। আর মাস্টার্স আটটি বিষয়ে পাঠদান করা হয়—মেডিক্যাল ফিজিক্স, ফিজিওথেরাপি, ফার্মেসি, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মাইক্রোবায়োলজি, রাজনীতি ও প্রশাসন, বাংলা ও ইংরেজি। মোট পাঁচ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এই বিভাগগুলোতে লেখাপড়া করছে।’ আর আমাদের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানু জানালেন, “নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করে। তাদের সবাইকে মুক্তিযুদ্ধ, নারী উন্নয়ন, সংবিধান, নীতিবোধ ও সমতা, বাংলা এবং ইংরেজির আবশ্যিক কোর্স করতে হয়। ইংরেজি ও বাংলায় তাদের দক্ষতা আরো বাড়ানোর জন্য আমাদের ‘ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাবরেটরি’ আছে।”

চিকিৎসক হিসেবে পসার না জমিয়ে মানুষের মর্যাদা দিন

গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটের অধ্যক্ষ ডা. ফরিদা আদিব খানম কুমিল্লা ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে প্রথম নারী অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য ছিলেন

কেন এই মেডিক্যাল কলেজ আলাদা?

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গ্রামভিত্তিক চিকিত্সা শিক্ষা কার্যক্রম আমাদের অনন্যতা দিয়েছে। অন্য সব মেডিক্যাল কলেজের চেয়ে আমাদের খরচ অনেক কম, কিস্তিতে লেখাপড়া সম্ভব। পরীক্ষা ও ফলাফল সময়মতোই শেষ করি।

 

গ্রামভিত্তিক লেখাপড়ার কারণ?

গ্রামের ও শহরের গরিব মানুষের সঙ্গে ভবিষ্যৎ চিকিত্সকদের সম্পৃক্ততা ও তাদের গরিবদের চিকিত্সা দিতে আগ্রহী করতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। প্রতি ব্যাচের সব ছাত্র-ছাত্রীকে তিন মাসের জন্য গণস্বাস্থ্য হেলথ সেন্টারের মাধ্যমে গ্রামে থাকতে হয়। তারা তাদের সেবা দেয়, তাদের রোগ সম্পর্কে জানে ও তাদের চিকিত্সা প্রদানের ব্যবস্থা শেখে। আমরা হাজার দুর্ঘটনা ও সমস্যায়ও ‘গ্রামে চলো, গ্রাম গড়ো’ নীতি থেকে সরিনি। আমরা চাই, তারা চিকিত্সক হিসেবে শহরে পসার না জমিয়ে গ্রামে যাক, মানুষকে মানুষের মর্যাদা দিক। আমরা সরকারি মেডিক্যালেও এই উদ্যোগ চাই।

 

আপনাদের পড়ালেখার মান?

আমাদের আদর্শ আছে। বিভাগগুলোর ল্যাবরেটরি উন্নতমানের। মাল্টিমিডিয়া ও কম্পিউটার ক্লাসরুম আছে। বিএমডিসি (বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) প্রণীত কোর্স কারিকুলামে পড়াই। গুণী শিক্ষক আছেন। আমাদের হাসপাতালে অল্প খরচের কারণে বিপুল রোগী আসে। ফলে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়। এক বছরের ইন্টার্নশিপের ছয় মাস ছাত্র-ছাত্রীরা গ্রামে থাকে। আমাদের আট শর বেশি ছাত্র-ছাত্রী পাস করে এখন বিভিন্ন হাসপাতালের ডাক্তার।

 

ভবিষ্যৎ?

প্রতি ব্যাচে দেড় শ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির অনুমোদন ২০০তে উন্নীত করতে চাই। আরো অভিজ্ঞ শিক্ষক, উন্নত ল্যাবরেটরি ও ভালো লাইব্রেরি গড়ে তুলব। শিক্ষার্থীদের উন্নত আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

 

ছাত্র সংসদ প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাঁদের কথা বললেন অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আপনারা কোথায় আলাদা?

স্বাধীনতাসংগ্রামের চেতনা, স্বল্প লেখাপড়ার খরচ ও খেলায় ছেলে ও মেয়েদের সমান অংশগ্রহণ আমাদের আলাদা করেছে। আমাদের প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক আছেন। তাঁরা মানসম্পন্ন শিক্ষক, তাঁদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য এখানে ও বিদেশে ব্যবস্থা আছে। সুবিশাল জমিতে দুটি প্রশাসনিক, তিনটি একাডেমিক ভবনসহ দুটি বিশাল খেলার মাঠ আছে।

  

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার মান?

বরেণ্য অধ্যাপকরা আমাদের শিক্ষক, বিষয়গুলোও ব্যতিক্রম। প্রতিটি বিভাগে বিশেষায়িত উন্নত গবেষণাগার আছে। ক্লাসরুমগুলোও ভালো। আমরা মানবিক সমাজ গড়তে বাধ্যতামূলকভাবে নীতিবোধ ও সমতা আর মুক্তিযুদ্ধসহ বিশ্ব-ইতিহাস জানানোর জন্য বাংলাদেশ ও বিশ্বের ইতিহাস বিষয়ে পাঠদান করি। এগুলোর প্রতিটিই এক সেমিস্টার করে পড়তে হয়। সবাইকে দুই সেমিস্টার ইংরেজি ও এক সেমিস্টারে বাংলা ভালোভাবে পড়তে শিখতে হয়।

 

পরিবেশ?   

সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র আমাদের নির্বাচিত ছাত্র সংসদ আছে। তারা সব নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীর ভোটে নির্বাচিত। ছাত্র সংসদ প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর। প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক কাউন্সিলর আছেন।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা? 

অচিরেই আমাদের অবকাঠামাগত উন্নয়নকর্ম সম্পন্ন হবে। নতুন বিষয় আসবে, আসবেন শিক্ষকও। গবেষণাগারগুলো আরো আধুনিক হবে। পাঁচ বছরের মধ্যে বিরাট অডিটরিয়াম, শিক্ষক আবাসন, ছাত্রী হোস্টেল তৈরি হবে।

 

দুটি বিশেষ বিভাগ

‘মেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’

বাংলাদেশে এখন ১২-১৩ লাখ ক্যান্সার রোগী আছেন। এই রোগে প্রতিবছর দেড় লাখ মানুষ মারা যাচ্ছেন। প্রতিবছর ১৫ হাজার মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই রোগের  চিকিত্সার জন্য চিকিত্সা প্রযুক্তিবিদ প্রয়োজন। সে জন্য ২০০১ সালে সারা দেশে প্রথমবারের মতো গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মেডিক্যাল ফিজিকস অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগটি চালু হয়। তখন এটি এমএসসি কোর্স ছিল। ২০০৫ সাল থেকে বিএসসি (অনার্স) চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মেডিক্যাল ফিজিকস অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল ফিজিকস সোসাইটি (বিএমপিএস)’র সভাপতি ড. কুমারেশচন্দ্র পাল বলেন, ‘চিকিত্সা প্রযুক্তিবিদ বাংলাদেশে নতুন পেশা। এখানে তাদের রোগ নির্ণয় ও সেটি নিরাময়ে পদার্থবিদ্যার ধারণা ও পদ্ধতি শেখানো হয়।’ ইউজিসির (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) হিসাবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল ফিজিকস ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডির সুবিধা থাকলেও আলাদা বা একসঙ্গে অনার্স করার সুবিধা সেখানে নেই। একমাত্র এখানেই আছে। এখানে আরো আছে উচ্চতর বৃত্তি, দেশে ও বিদেশে মাস্টার্স, পিএইচডির সুযোগ। উচ্চতর শিক্ষা লাভ করা অন্যতম ছাত্র আবু কাউসার। তিনি এখন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মেডিক্যাল ফিজিকস অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগে শিক্ষকতা করেন। তিনি জানালেন, ‘আমি জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর লেখাপড়া ও তাঁদের সেরা গবেষণাগারে গবেষণার সুযোগ লাভ করেছি। তা ছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ভারতের সরোজগুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার, কলকাতা ও নর্থবেঙ্গল অনকোলজি সেন্টারসহ বিভিন্ন ক্যান্সার সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়েছি।’ বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে এই বিষয়ে অনার্স পড়তে ভর্তি হওয়া যায়। মাস্টার্সের জন্য বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল ফিজিকস, পদার্থবিদ্যা, ফলিত পদার্থবিদ্যা, ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অনার্স পাস হতে হবে। বিভাগের প্রভাষক নূপুর কর্মকার উচ্চতর শিক্ষা ও চাকরির বাজার নিয়ে বলেন, ‘এই বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন, ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অলাইড সায়েন্সেস, বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ প্রায় ২০টি শিক্ষা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক ও গবেষণাকর্মের সুযোগ পাচ্ছে। প্রায় সবগুলো সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা চাকরি করে। এই বছর চীনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে দুই ছাত্র মাস্টার্স করতে গিয়েছে।’ বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের ছাত্র রানা মিত্র জানালেন, ‘আমাদের বিভাগে ছয়টি ল্যাবরেটরি আছে—ইলেকট্রনিকস, ট্রিটমেন্ট প্ল্যানিং, বায়োমেডিক্যাল, ফিজিকস, চিকিত্সা-পদার্থবিদ্যা পরীক্ষাগার, ইনফরমেশন টেকনোলজি। অনলাইনে রোগীদের চিকিত্সা পরিকল্পনাও শেখানো হয়।’ বিভাগের অন্যতম শিক্ষক ফারজানা ফেরদৌস বললেন, ‘হাসপাতালগুলোতে ব্যবহার করা চিকিত্সা পরিকল্পনাপদ্ধতি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রথম আমাদের এখানে সংযুক্ত করা হয়েছে। এক্স-রে মেশিন, সেগুলোর মান নিয়ন্ত্রণের জন্য উচ্চ প্রযুক্তিও আমাদের আছে। ফলে তারা যখন কোনো হাসপাতালে কাজ করবে, সেই হাসপাতালের ইমেজিং প্রযুক্তিগুলোর সঠিক মান রক্ষা করা যাবে, ক্ষতিকর রেডিয়েশন থেকে রোগী বাঁচবে।’ ভৌত ও গাণিতিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং মেডিক্যাল ফিজিকস ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হাসিন অনুপমা আজহারি জানালেন, ‘উন্নত দেশগুলোতে এই পেশার খুব চাহিদা আছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকার দেশগুলোর পাশাপাশি আমাদের দেশেও পর্যাপ্ত জনবল নেই বলে চাকরির ভাবনা নেই। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর রশ্মিযন্ত্রগুলো পরিচালনার জন্য ৮০০ মেডিক্যাল ফিজিসিস্ট ও হাজারখানেক রেডিওথেরাপিস্ট প্রয়োজন থাকলেও মাত্র ৬০-৭০ জন আছেন। বেসরকারি হাপাতালগুলোতে এই সংখ্যা আরো অনেক কম।’

 

ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস অনুষদ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম এখানেই ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস অনুষদ চালু হয়েছে। যার লক্ষ্য—যোগ্য ও দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান তৈরি করে প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি খাতে অবদান রাখা। ছয় মাসের ইন্টার্নশিপসহ এই কোর্সের নাম ‘বিএসসি-ইন-ভেট সায়েন্স অ্যান্ড এএইচ’। এই অনুষদের ডিন ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানালেন, ‘পশুপাখির চিকিত্সা, ওষুধবিদ্যা ও চিকিত্সাবিজ্ঞানের ওপর এই অনুষদে পড়ানো হয়।’ এই অনুষদের ক্লিনিক্যাল কোর্সের সহকারী অধ্যাপক ডা. এম এ হান্নান বলেন, ‘আটজন ফ্যাকাল্টি শিক্ষক, অন্য বিভাগের চারজন শিক্ষক আমাদের বিভাগে শিক্ষকতা করেন। তিন একর জমিতে তাদের জন্য খামার আছে। তাতে এক হাজার ১০০ বড় লেয়ার, ৫০০ ব্রয়লার মুরগি, ৪০০ পাখি ও অনেক গাভি আছে। ছাত্র-ছাত্রীদের গবেষণা শেষে মুরগির ডিম বাজারে বিক্রি করা হয়। সেভাবে গাভীর দুধ প্যাকেটজাত করে বিক্রি হয়। গাভিগুলোর জন্য ফোডার কালটিভেশনের (গবাদিপশুর শুকনো খাদ্য চাষ) মাধ্যমে উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাস তৈরি করা হয়। খামারের পাশে এসব পশুপাখির চিকিত্সাকেন্দ্র আছে। সেটিও ছাত্র-ছাত্রীদের গবেষণা ও শেখার জন্য সব সময় খেলা থাকে। এই বিভাগের আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ গবেষণাগার ও অ্যানাটমি ল্যাবরেটরি আছে।’ বিভাগে লেখাপড়া শেষে চাকরির বাজার? বিভাগের শিক্ষক ডা. মো. আবদুর রহমান জানালেন, ‘বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ছাড়াও আড়ং, প্রাণসহ মাংস, দুগ্ধ ও প্রাণিজ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা, ডেইরি-পোল্ট্রি ফার্ম, ওষুধ শিল্প-কারখানা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোয় অনেক চাকরি আছে। আছে বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি পশু হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সক হিসেবে নিয়োগের সুবিধা।’

লেখাপড়ার খরচ খুব কম

বিনা বেতনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার সুযোগ আছে। এ ছাড়াও প্রতিবছর ১২টি শিক্ষাবৃত্তি আছে। শ্রেণি উপস্থিতি ও পরীক্ষার ফলাফলের ওপরও লেখাপড়ার খরচে ছাড় আছে। সেভাবেও অনেকে এখানে পড়ালেখা করছে। তাদের অন্যতম সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র লেংপা মুমী। তিনি বললেন, ‘আমার বাবা দরিদ্র জুমচাষি। আমি এখানে পুরোপুরি বিনা বেতনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছি। না হলে আমি লেখাপড়াই করতে পারতাম না।’ তাঁর মতো অনগ্রসর সমাজের মানুষ ও নারীদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ায় নানা ধরনের ছাড় আছে বলে জানালেন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মুর্তজা আলী বাবু বলেন, উপজাতি কোটায় ১৮ জনসহ বিভিন্ন শিক্ষা সুবিধার আওতায় ১৪৫ জন মেধাবী, গরিব ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। তাঁরা পড়ালেখার খরচ, আবাসন ইত্যাদিতে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেন। ভালো ফলাফল ও শতভাগ শ্রেণি উপস্থিতির জন্য ৫৩৫ জন ছাত্র-ছাত্রী টিউশন ফিতে ছাড় পাচ্ছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রদান করা বৃত্তি পাচ্ছেন ৩৬ জন ছাত্র-ছাত্রী।

 

আছে বিরাট লাইব্রেরি

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লাইব্রেরিয়ান এখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘একাডেমিক ভবনের দোতলায় স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান অনুষদের জন্য চার হাজার ২৪৪ বর্গফুট, চারতলায় কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান এবং ভৌত ও গাণিতিক বিজ্ঞান অনুষদের জন্য এক হাজার ৪৮৮ বর্গফুটের আয়তনের বিশাল লাইব্রেরি আছে। এই লাইব্রেরিগুলোতে মোট ৩০ হাজার গ্রন্থ, পাঁচ শতাধিক জার্নাল ও প্রয়োজনীয় সাময়িকী আছে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত লাইব্রেরিগুলো খোলা থাকে। গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ইউনিটের জন্য মেডিক্যাল কলেজের পুরনো ভবনের তৃতীয় তলায় ফ্রি ইন্টারনেটসহ এসি লাইব্রেরি আছে। সেখানে একসঙ্গে ২০০ ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করতে পারে। শিক্ষকদের জন্য লাইব্রেরিতে আলাদা আসন আছে। সেখানে প্রয়োজনীয় সব বই, জার্নাল আছে।’

 

খেলায়ও সেরা

এই বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ খেলাধুলায় সারা বছর মুখরিত থাকে। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রশিক্ষক হাবিব উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়। ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়। তা ছাড়াও আমরা হয় ভলিবল, হ্যান্ডবল, ব্যাডমিন্টন ও অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। এসবের বাইরে সারা বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। আমাদের খেলার মাঠটি বিশাল। সেখানে বাস্কেটবল ও টেবিল টেনিসের কোর্ট তৈরি করা হয়েছে। আমাদের ইনডোর ক্রীড়া কমপ্লেক্স আছে। তাদের ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা গেমস হাউস আছে। তাতে ক্যারম, লুডু, দাবা, টেবিল টেনিস খেলার ব্যবস্থা আছে। তাদের জন্য আলাদা কমনরুম ও বিশ্রামাগার আছে।’

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের ক্রীড়া প্রশিক্ষক হিসেবে আছেন ফেরদৌসী আক্তার বন্যা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একমাত্র গণ বিশ্ববিদ্যালয়েই মেয়েদের ১২টি বিভাগভিত্তিক ফুটবল দল আছে। তাদের নিয়ে ফুটবলের পাশাপাশি আলাদা ক্রিকেট টুর্নামেন্টও হয়। তা ছাড়াও আমাদের ভলিবল, হ্যান্ডবল, ব্যাডমিন্টন ও অ্যাথলেটিকসে মেয়েরা আলাদাভাবে খেলে। সে জন্য ১২টি মেয়েদের দল আছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রতিবছর খেলাধুলার জন্য আলাদা বাজেট আছে। তাতে মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। খেলায় ভালো করলে টিউশন ফিতে ছাড় আছে। এসব কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দল গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলেছে।’

 

আরো আছে

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, সাংবাদিক সমিতি আছে। ‘সন্ধানী’, ফার্মেসি বিতর্ক ক্লাব, থিয়েটার, বাঁধন, মেডিসিন ক্লাব, বৃন্ত, শুভসংঘ, সুহূদ সমাবেশ আছে।

 

উচ্চশিক্ষার অবারিত দ্বার

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদেশে উচ্চতর লেখাপড়া করতে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন বললেন, ‘জার্মানির বিখ্যাত হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আওতায় প্রতিবছর আমাদের দুই ছাত্র-ছাত্রী মাস্টার্স, হাসপাতালের দুইজন ফিজিশিয়ান উচ্চতর আধুনিক প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, দুইজন ভিজিটিং শিক্ষক ও একজন করে শিক্ষার্থী পিএইচডির জন্য যাচ্ছেন। প্রতিবছর তাঁদের দুই শিক্ষক এখানে পাঠদান করতে আসেন।’

 

শিক্ষার্থীবান্ধব পরীক্ষাপদ্ধতি

সবগুলো বিভাগে প্রতি সেমিস্টারে অনার্সে ১০টি ও মাস্টার্সে ও আটটি বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয় পরীক্ষা নেয়। এমবিবিএসের চারটি পেশাগত, বিডিএসের দুটি ও প্রতিটি বিভাগের দুটি করে সেমিস্টার পরীক্ষা তাঁরা গ্রহণ করেন। এর পরও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সেশনজট নেই কেন? পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মর্তুজা আলী জানালেন, “সেমিস্টারভিত্তিক লেখাপড়া, নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শেষ হওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশ, সেমিস্টারে খারাপ করে বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকলে দুই সেমিস্টারের বিরতিতে স্পেশাল পরীক্ষা নিয়ে তাদের আবার পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তা ছাড়া কয়েক বছর ধরে লিখিত পরীক্ষার আগে বিভিন্ন বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। সেমিস্টার পরীক্ষার আগে সপ্তাহখানেকের বাধ্যতামূলকভাবে ‘প্রস্তুতি ছুটি’ দেওয়া হয়। তা ছাড়া অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সব পরীক্ষার নোটিশ, ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য আলাদা ফাইল আছে। ফলে ভুয়া সার্টিফিকেটের কোনো ব্যবস্থাই এখানে নেই।”



মন্তব্য