kalerkantho


টিফিন আওয়ার

যমজদের স্কুল

২৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



যমজদের স্কুল

স্কুলে তো কত ছেলে-মেয়েই পড়াশোনা করে। এদের মধ্যে এক-দুই জোড়া যমজ ভাই-বোন থাকতেই পারে। কিন্তু একটা হাই স্কুলে যদি ৪৪ জোড়া যমজ ভাই-বোন এবং একটি ট্রিপলেট (একই সঙ্গে তিন সন্তান জন্ম নিলে তাদের ট্রিপলেট বলা হয়), অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৯১ জন যমজ থাকে, তবে সেটি নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর। বিস্তারিত জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

মার্কিনমুলুকের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নিউ ট্রায়ার হাই স্কুলে এই কাণ্ড হয়েছে, যা কি না স্কুলটিকে গিনেস রেকর্ডের পাতায় স্থান করে দিয়েছে। ভেঙে দিয়েছে ওই প্রদেশেরই মিডল স্কুলের রেকর্ড। সেখানে যমজ শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ২৪ জোড়া।

উল্লেখ্য, যমজদের মধ্যে আইডেনটিক্যাল যেমন আছে তেমনি আছে ফ্রেটারনাল। ফ্রেটারনাল শিশুরা দেখতে একই রকম না-ও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই স্কুলের অনেক যমজই তাই দেখতে আলাদা। ল্যুক আর রায়ান নোভোসেল নামের এমন এক জোড়া যমজই প্রথম কোনোভাবে মিডল স্কুলের রেকর্ডের কথা জানতে পেরে রেকর্ড বুকে নিজেদের স্কুলের নাম তোলার আয়োজন শুরু করে। গিনেস রেকর্ডের সব প্রস্তুতি সারতে, তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করতেই বছরখানেক সময় পার হয়ে গেছে। অবশেষে আবেদন করার প্রায় দেড় বছর পরে তাদের রেকর্ড স্বীকৃত পায়। 

নিউ ট্রায়ার হাই স্কুলে যমজদের মধ্যে ছেলের চেয়ে মেয়ে বেশি। ট্রিপলেটদের সবাই অবশ্য বোন এবং একই রকম দেখতে। এমন দুটি পরিবার আছে, যেখান থেকে দুই জোড়া করে যমজ ভর্তি হয়েছে স্কুলে।

শিকাগোর কাছেই অবস্থিত নিউ ট্রায়ার স্কুলের এক হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ৯১ জনই যমজ ভাই-বোন হওয়াটা নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর ঘটনা। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক যমজ বাচ্চা জন্ম নেওয়ার হারের তুলনায় এটা অনেক বেশি। এত যমজের একসঙ্গে জড় হওয়ার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা কী ভাবছেন? তাঁদের বক্তব্য হলো, ইলিনয় প্রদেশের যে অঞ্চলে নিউ ট্রায়ার স্কুলটি অবস্থিত, সেখানকার বাসিন্দারা প্রায় সবাই স্বচ্ছল এবং নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে বেশ মনোযোগী। স্বাভাবিকভাবেই এখানকার কর্মজীবী পরিবারগুলো সন্তান নেওয়ার কথা চিন্তা করেন অনেক দেরিতে। আর বেশি বয়সে মা হলে যমজ বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা নাকি বাড়ে। আপাতত এই তত্ত্ব ছাড়া নিউ ট্রায়ার স্কুলের এই গিনেস রেকর্ডের আর কোনো ব্যাখ্যা নেই।



মন্তব্য