kalerkantho


সামরিক-বেসামরিক শিক্ষার

সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ‘বিইউপি’

অন্যান্য দেশে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য আলাদা, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় আছে। বাংলাদেশে সেটি নেই। তাঁদের শিক্ষা, গবেষণা ও সামরিক বিদ্যাকে আরো উন্নত করতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে

৬ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ‘বিইউপি’

প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির অধীনে সামরিক বাহিনীর ৫৬টি প্রতিষ্ঠান আছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সাধারণ পরিবারের বিপুল ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া

করেন। এটি নিয়ে পুরো পাতার বিশেষ আয়োজনে সহযোগিতা করেছেন বিইউপির জনসংযোগ বিভাগের শাখা কর্মকর্তা মো. কাওসার মাহমুদ। লিখেছেন মনির হোসেন শিমুল

এ দেশের ২৯তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) ২০০৮ সালের ৫ জুন যাত্রা শুরু করে। ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে বিশাল এলাকাজুড়ে আছে এর নিজস্ব ক্যাম্পাস। ‘জ্ঞানের মাধ্যমে উত্কর্ষ সাধন’ ব্রত নিয়ে বিইউপিতে শিক্ষা-গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানালেন, ‘‘অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ‘বিইউপি’র কার্যক্রম কিছুটা আলাদাই। এর কারণ আগে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় ডিগ্রিগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিতে হতো, কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের তাঁদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। সে লক্ষ্যেই সামরিক বাহিনীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণাঙ্গ ও আলাদা সরকারি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) প্রতিষ্ঠা করে এর অধীনে পরিচালিত করা হয়। ফলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ও এখানে পড়ালেখা করে প্রকৌশল, চিকিত্সা, সাধারণ শিক্ষা, সমরবিদ্যা, যুদ্ধকৌশল ইত্যাদি নানা বিষয়ে ডিপ্লোমা, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনসহ স্নাতক-স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় ৯৭টি ধরনের ডিগ্রি, কোর্স ও প্রগ্রাম সম্পন্ন করতে পারছেন। এভাবেই বিইউপি তার লক্ষ্য পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মধ্যে ‘সেন্টার ফর হায়ার স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের (সিএইচএসএস)’ মাধ্যমে এখানে এমফিল, পিএইচডি প্রগ্রাম চালু হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে সাধারণ ও বেসামরিক পরিবারগুলোর মেধাবী শিক্ষার্থীরাও মানসম্পন্ন, উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।” তিনি জানালেন, ‘বিইউপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজস্ব গুণগত মান ধরে রেখে খুব দ্রুত শিক্ষাকার্যক্রমের প্রসার ঘটিয়ে চলেছে। এর অধীনে এখন সশস্ত্র বাহিনীর ৫৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচটি অনুষদের মাধ্যমে ১৬টি বিষয়ে অনার্স ও ৯টি বিষয়ে মাস্টার্স প্রগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। এই বিষয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীসহ মোট পাঁচ হাজার ৫০০ জন ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক রিলেশন ইনফরমেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগের প্রধান এয়ার কমডোর মো. আমিনুল ইসলাম বললেন, ‘‘আমাদের পাঁচটি অনুষদ হলো—‘ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজ’, ‘ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েসেন্স’, ‘ফ্যাকাল্টি অব মেডিক্যাল স্টাডিজ’, ‘ফ্যাকাল্টি অব সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ ও ‘ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’।” অনুষদগুলোর অধীনে মোট ১৬টি বিষয়ে অনার্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সেগুলো হচ্ছে—‘ইংলিশ’, ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’, ‘ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি)’, ‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স’, ‘ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’, ‘ডিজাস্টার অ্যান্ড হিউম্যান সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট (ডিএইচএসএম)’, ‘ইকোনমিকস’, ‘এলএলবি’, ‘ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস’, ‘সোশিওলজি’, ‘মাস কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম’, ‘ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (বিবিএ)’, ‘ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং (বিবিএ)’, ‘ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ (বিবিএ)’, ‘ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন মার্কেটিং (বিবিএ)’ ও ‘ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ, জেনারেল)।” বিইউপি’র প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গাজী ফিরোজ রহমান বললেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণা কার্যক্রমকে আরো উন্নত করার জন্য ‘বিইউপি রূপকল্প-২০৩০’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিন পর্যায়ে এটি বাস্তবায়নের কার্যক্রম করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়টি ২০১৬-২০২০ সাল, দ্বিতীয় পর্যায় ২০২১-২০২৫ সাল ও সর্বশেষ পর্যায় ২০২৬-২০৩০ সালে শেষ হবে। এই কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বিইউপি’র ২৩টি বিভাগের অধীনে মোট ১২ হাজার ৯০০ জন দেশ-বিদেশের ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা, গবেষণার সুযোগ পাবে। রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির জনবলকে দুই হাজার ১২ জনে বাড়ানো হয়েছে। অথচ শুরুতে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৩০ জন। জনবল বাড়ানোর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”

 

বিইউপি জার্নাল

‘BUP JOURNAL’ নামে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের নিজস্ব গবেষণা জার্নাল আছে। এ নামেই জার্নালটি ‘আইএসএসএন (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড সিরিয়াল নম্বরে)’ তালিকাভুক্ত রয়েছে। জার্নালের বর্তমান সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ইকবাল বললেন, “ছয় মাস পর পর আমরা ‘বিইউপি জার্নাল’ প্রকাশ করি। জার্নালে নিরাপত্তা বিষয়ে নানা ধরনের গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়, তেমনিভাবে উন্নয়ন, সমাজবিজ্ঞান, চিকিত্সা, ব্যবসায়, প্রযুক্তিসহ আরো অনেক বিষয়ে গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। তাতে ‘বিইউপি’ অন্তর্ভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও গবেষকদের গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।” তিনি জানালেন, অনেকে লেখেন ও প্রকাশযোগ্য গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে বলে খুব দ্রুত এটি আরো বেশি সংখ্যায় প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

ব্যস্ত খেলায়

‘বিইউপি’র ‘ফিজিক্যাল এডুকেশন সেন্টার’-এর প্রশিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন বললেন, ‘সারা বছর ধরে আমাদের নানা ধরনের খেলার আয়োজন থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ব্যাচ, বিভাগ, সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, হ্যান্ডবল, ভলিবল খেলার আয়োজন করা হয়। তবে ছেলে ও মেয়েদের আলাদাভাবে খেলতে হয়।’ আরেক প্রশিক্ষক তাহেরা দিল আফরোজ বললেন, “আমরা আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রায় সব প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। ‘বিইউপি’তে প্রত্যেক ছেলে ও মেয়ে সমান খেলার সুযোগ পায়।”

 

শেখে বিদেশি ভাষা

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেসের (সিএমএল) ডিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম বললেন, ‘আমাদের এই সেন্টারের অধীনে ফরাসি, আরবি, রাশিয়ান, জার্মান, জাপানিজ, ইংরেজি, বার্মিজ, টার্কিশ ও চীনা ভাষা শিক্ষা কোর্স আছে। অনার্সে ৮২৬ জন ছাত্র-ছাত্রী ও সান্ধ্যকালীন ২৩ জন ছাত্র-ছাত্রী এই ভাষাগুলোর কোর্স করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র-ছাত্রীকে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে তৃতীয় ভাষা হিসেবে এগুলোর যেকোনো একটি ভাষা শিখতে হয়। সিএমএল থেকে ৯৮৬ জন ফরাসি, ১৪৫ জন জার্মান, ১২০ জন জাপানিজ ও ৩৫ জন চীনা ভাষা কোর্স করেছে। সেন্টার সান্ধ্যকালীন সার্টিফিকেট কোর্সও পরিচালনা করা হয়। এ পর্যন্ত এক হাজার ৫০০ ৮৩ জন তা সম্পন্ন করেছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিক্ষা-বিনিময় চুক্তি করা হয়েছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের চীনে বৃত্তি প্রদানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পর্যন্ত সান্ধ্যকালীন এক হাজার ৫০০ ও স্নাতক পর্যায়ে এক হাজার ৪৬৫ জন ছাত্র-ছাত্রী পাস করে সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছে।’

 

কম্পিটারের আওতায় সব

বিইউপির সব প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম ভালো ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে অনেক সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। সেগুলোর মাধ্যমে অনলাইন অ্যাডমিশন সিস্টেমে অনলাইন ফরম পূরণ, রেজিস্ট্রেশন, প্রবেশপত্র প্রদান, ভর্তি ব্যবস্থাপনা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলাফল প্রস্তুত করাসহ নানা কাজ করা হয়। এই সিস্টেমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যাবতীয় তথ্য যেমন—পরীক্ষার নম্বরপত্র, টেবুলেশনশিট, সার্টিফিকেট ইত্যাদি প্রদান ও সংরক্ষণ করা হয়। ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রমের রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষণ করা হয়। বিইউপির সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্যাম্পাসে ‘ভিডিও সার্ভিলেন্স সিস্টেম’ স্থাপন করা হয়েছে। তাতে কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষগুলোর পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণসহ পুরো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

অতিসম্প্রতি ‘বিইউপি মোবাইল অ্যাপস’ তৈরি করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব তথ্য রাখা আছে। অ্যাপসটি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব তথ্য সম্পর্কে জানা যাবে। তা ছাড়া সনাতন ইন্টারকম সিস্টেমের বদলে সব টেলিফোন যোগাযোগ আইপি টেলিফোনে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বিইউপির কেনা সব দ্রব্য বা সামগ্রীর সঠিক হিসাব সংরক্ষণের জন্য ‘ইনভেনটরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ তৈরি করা হয়েছে। এই সিস্টেমের আওতায় সব দ্রব্যসামগ্রীর হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যবহারকারীর অনুকূলে ইস্যু করা হয়। বিইউপির সব যানবাহন ‘ভেহিকল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে’র মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে সরকারি বা ব্যক্তিগত কাজের গাড়ি ব্যবহারের আগে ব্যবহারকারীরা ভেহিকল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের গাড়ির চাহিদা প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হিসাব সংরক্ষণ ও পেমেন্ট অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড পেরোল সিস্টেমে সম্পন্ন করা হয়। ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পে’র আওতায় ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস’কে ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক স্থাপন সাব-প্রজেক্টের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এই সাব-প্রজেক্টের অধীনে ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। ফলে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যোগাযোগ, তাদের সহযোগিতায় শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসব সার্ভিস বিইউপির নিজস্ব ডাটা সেন্টার থেকে পরিচালিত হয়।

 

বৃত্তি অনেক

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তাজুল ইসলাম ঠাকুর জানালেন, “দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে এবং অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের মেধাগত চর্চা বাড়াতে, সবার মেধার বিকাশ ঘটাতে ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস বিইউপি)’-তে অনেক বৃত্তি ও ভাতা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধান কর্তৃক প্রবতির্ত বৃত্তি ছাড়াও বিউপির নিজস্ব বৃত্তি ও ভাতা আছে।”

 

সবার জন্য গবেষণা ও প্রশিক্ষণ

বিইউপি এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার জন্যই নানা ধরনের প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ‘অফিস অব দি ইভ্যালুয়েশন’-এর প্রধান ও ‘ফ্যাকাল্টি অব কারিকুলাম ডেভলপমেন্ট’-এর ডিন কমোডর সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ বললেন, “শ্রেণিকক্ষ, শ্রেণিকক্ষের বাইরের শিক্ষাদান কৌশলগুলোর মানোন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষককে নিজ নিজ ফ্যাকাল্টি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে বাধ্যতামূলকভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। তাঁদের শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা দক্ষতা বাড়াতে প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সে খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করে। বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ইত্যাদিতে তাঁদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। ফলে ‘বিইউপি’র শিক্ষার মান প্রতিনিয়তই উন্নত হচ্ছে।” তিনি আরো জানালেন, ‘কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নানা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি ও নন অ্যাকাডেমিক স্টাফদের প্রয়োজনীয় ইন-হাউস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর হায়ার স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের (সিএইচএসএস) ডিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোফাজ্জেল মাওলা (অব.) বলেন, ‘আমরা নিয়মিতভাবে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করি। বিইউপিতে এমফিল এবং পিএইচডি প্রগ্রামের গবেষণা কার্যক্রম আছে। দেশি গবেষকদের পাশাপাশি বিদেশি গবেষকরাও এখানে গবেষণা করছেন। বিইউপির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান এনডিসি (ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ), এমআইএসটি (মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি), এএফএমআইতে (আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট) এমফিল এবং এমআইএসটিতে পিএইচডি প্রগ্রাম চালু রয়েছে।’ তিনি জানালেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনদর্শন, মতাদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ নিয়ে গবেষণার জন্য ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ নামে গবেষণাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের নামকরা অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’-এ অধ্যাপক হিসেবে এ বছরের ১ মার্চ যোগদান করেছেন।

 

অধীনে আছে ৫৬টি প্রতিষ্ঠান

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সামরিক ও বেসামরিক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মোট ৫৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান ও অনুমোদন বিইউপি থেকে করা হয়। সেগুলোর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দানের জন্য আছে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), মিরপুর; ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি), মিরপুর; মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), মিরপুর সেনানিবাস; আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ (এএফএমসি), ঢাকা সেনানিবাস; আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট (এএফএমআই), ঢাকা সেনানিবাস; বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ), ভাটিয়ারি, চট্টগ্রাম; বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি (বিএনএ), পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম; বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একাডেমি (বিএএফএ), যশোর; আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথোলজি (এএফআইপি), ঢাকা সেনানিবাস; আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুল, হালিশহর, চট্টগ্রাম; প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ; আর্মি মেডিক্যাল কলেজ বগুড়া, বগুড়া সেনানিবাস; আর্মি মেডিক্যাল কলেজ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম সেনানিবাস; আর্মি মেডিক্যাল কলেজ কুমিল্লা, কুমিল্লা সেনানিবাস; আর্মি মেডিক্যাল কলেজ যশোর, যশোর সেনানিবাস; আর্মি মেডিক্যাল কলেজ রংপুর, রংপুর সেনানিবাস; আর্মি নার্সিং কলেজ রংপুর, রংপুর সেনানিবাস; আর্মি নার্সিং কলেজ কুমিল্লা, কুমিল্লা সেনানিবাস; আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সাভার সেনানিবাস, সাভার, ঢাকা; আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, জালালাবাদ সেনানিবাস, সিলেট; বানৌজা ঈসা খাঁর স্কুলগুলো—নিউ মুরিং, চট্টগ্রাম; বানৌজা শহীদ মোয়াজ্জেমের স্কুলগুলো—কাপ্তাই, চট্টগ্রাম; বানৌজা তিতুমীরের স্কুলগুলো—খালিশপুর, খুলনা; নৌ সদর মনোনীত প্রশিক্ষণ জাহাজগুলো—নেভাল হেডকোয়ার্টার, ঢাকা; স্কুল অব মেরিটাইম ওয়্যারফেয়ার অ্যান্ড টেকটিকস (এসএমডব্লিউটি), নৌবাহিনী সদর দপ্তর, পার্সোনেল শাখা ইত্যাদি।

 

ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের আইসিটি সেন্টারের বিভাগীয় প্রধান মেজর মো. আব্দুল মোস্তাকিম বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরুর সময় থেকে ‘বিইউপি আইসিটি সেন্টার’র যাত্রা। সেন্টারটি বিইউপিকে ডিজিটালাইজেশন করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। আইসিটি সেন্টারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সব আইটিসেবা প্রদান করা হয়। একে আইসিটি খাতে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে এই সেন্টার ভবিষ্যতে বিইউপিকে দেশের প্রথম সারির ডিজিটাল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষগুলো ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে কম্পিউটার, টাচ স্ক্রিন সুবিধাসহ শর্ট থ্রু প্রজেক্টর ও সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শ্রেণিকক্ষ, কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, সাইবার সেন্টার ও ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারে ইন্টারনেটসহ ৬৮০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য ক্যাম্পাস, হলসহ সব জায়গায় উচ্চ গতির ওয়াই-ফাই সংযোগ আছে।”

 

সেরা বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাই

অধ্যাপক ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার

উপ-উপাচার্য, বিইউপি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) যেন তার ‘জ্ঞানের মাধ্যমে উত্কর্ষ সাধন’-এর অর্জনে সফল হয় সে জন্য জন্য আমি এরই মধ্যে বিইউপির সুযোগ্য উপাচার্যের দিকনির্দেশনায় কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে উত্সাহ প্রদানের চেষ্টা করছি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে যোগদানের পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রতিটি বিভাগে একজন করে অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য অধ্যাপক নিয়োগদানের জন্য কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষাব্যবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রের মতো ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলা, আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজির বাইরে আরো একটি ভাষা শেখানোর জন্য অনুপ্রাণিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজকে (সিএমএল) দিন দিন শক্তিশালী করা হচ্ছে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতায় বুঝতে পেরেছি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা ও মনন নিয়ে কোনো সন্দেহ বা শঙ্কা নেই, কিন্তু যেটি আছে তা হলো আস্থাসহ তারা যা শিখেছে তা সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা। বিইউপি বিষয়টিকে আমাদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম দুর্বল দিক হিসেবে বিবেচনা করে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রেজেন্টেশন ও কারিকুলাম স্কিলের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিইউপি সৃষ্টিশীল ও পেশাদার মানব সম্পদ সৃষ্টিতে শিক্ষকদের ভূমিকাকে সবচেয়ে বেশি বিবেচনা করে মেধাবী, কর্মঠ ও উদ্যমী শিক্ষক নিয়োগে খুব তত্পর। এ তত্পরতা যতটা সম্ভব অর্থবহ করার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে। এখানে শিক্ষক নিয়োগ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি হিসেবে প্রকাশের পর প্রার্থীদের শিক্ষা ও সহশিক্ষা যোগ্যতা বিবেচনা করে শর্টলিস্ট করা হয়। তাদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার পর প্রেজেন্টেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন স্কিল যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি পদের বিপরীতে অন্তত তিনজন প্রার্থীকে উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। আমার জানা মতে, বাংলাদেশের অন্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এত নিবিড়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা হয় না। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভের পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নবনিযুক্ত শিক্ষককে সরাসরি ক্লাস নেওয়ার জন্য না পাঠিয়ে অফিস অব দি ইভ্যালুয়েশন, ফ্যাকাল্টি অব কারিকুলাম ডেভেলপমেন্টের  তত্ত্বাবধানে ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্টের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এর পর ক্লাস নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে বলা ভালো, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ও আমি শিক্ষা কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য প্রতিনিয়ত সম্মানিত শিক্ষক ও সহকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতিতে ক্লাসরুম পরিদর্শন করি। এও সম্ভবত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনন্য উদাহরণ। ভবিষ্যতে সেমিস্টারের শুরুতে ‘কোর্স কিট’ প্রদানের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, শ্রেণিকক্ষে ছাত্র-শিক্ষক পারস্পরিক আদান-প্রদানের মাত্রা যথেষ্ট বাড়াতে এটি সহায়ক হবে। অদূর ভবিষ্যতে নতুন ডিপার্টমেন্ট বা প্রগ্রাম শুরু করার চেয়ে বর্তমান বিভাগ ও অনুষদগুলোকে আরো শক্তিশালী ও পুনর্বিন্যাস করা হলে বিইউপির জন্য ভালো হবে বলে আমার শিক্ষকতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বলে। যেহেতু ১৬টি বিভাগে অনার্স কোর্স আছে, এগুলো যথেষ্ট ভালো। ফলে ভবিষ্যতে এসব বিভাগে মাস্টার্স কোর্স চালু করতে হবে। সময়ের পরিক্রমায় এসব কোর্সে পাঠদানের জন্য যেমন নবনিযুক্ত শিক্ষকের প্রয়োজন হবে, তেমনি মেধাবী ও উদ্যমী শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র প্রশস্ত করতে হবে। বিইউপির উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের শিক্ষাছুটি-সংক্রান্ত বিধিমালা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেকটাই আকর্ষণীয়। কর্মরত যেকোনো শিক্ষক বিশ্বের যেকোনো উন্নত দেশের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলে তাঁর ফিরে আসার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে যথোপযুক্ত অনুপ্রেরণা প্রদান করে—এটি বিইউপির শিক্ষাছুটি নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য। সম্প্রতি কয়েকটি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস। সেনাবাহিনী পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সেনা কর্তৃপক্ষের একান্ত উত্সাহে একে যথাশিগগিরই বাংলাদেশের অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কারণেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি অতিরিক্ত ফ্যাকাল্টির ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা ক্রমেই কমছে। বিইউপির শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর কেমন উন্নতি প্রয়োজন? আমি বলব, বিইউপি তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শিক্ষার গুণগতমান প্রতিনিয়ত বাড়াতে হবে। বিইউপির লক্ষ্য হওয়া উচিত সৃষ্টশীল ও পেশাদার মানবসম্পদ সৃষ্টি করা। সে জন্য শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ক্লাবগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। বিইউপিকে যথাশিগগির সম্ভব কেন্দ্রীয়ভাবে ‘ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজরি অফিস’ চালু করতে হবে, যার অন্যতম দায়িত্ব হবে প্রতিনিয়ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনবল নিয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সে অনুযায়ী পরামর্শ দান, সম্ভাব্য নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অর্থবহ লিয়াজোঁ রক্ষা করে সেখানে তাদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করা যাতে পরবর্তী সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীরা সেসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির শর্ত অনুযায়ী চাকরি পেতে পারে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে। এরই মধ্যে একাধিক বিভাগ এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশংসনীয় সুনাম অর্জন করেছে এবং এ ধরনের সুনাম প্রতিটি বিভাগ যেন অর্জন করতে পারে সে লক্ষ্যে ‘ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজরি অফিস’ তত্পর হবে। বিইউপির অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রতিটি গ্র্যাজুয়েটকে এমনভাবে উত্সাহিত করা, যাতে অর্জিত জ্ঞানের উত্কর্ষের মাধ্যমে তারা কর্মক্ষেত্রে নিজেরা যেমন নিয়োজিত হবে, তেমনি প্রয়োজনবোধে অন্যদের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে। এভাবে আমরা বিইউপিকে বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাই।

 

শিক্ষার মানে কোনো আপস করব না

মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী

উপাচার্য, বিইউপি, এনডিসি, পিএসসি, টিই

তিনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অথরিটি কমিশনের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস ডিভিশনের মহাপরিচালক ছিলেন। সেনাবাহিনীর সিগন্যাল ব্রিগেড ও সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের কমান্ডারের দায়িত্বসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতিসংঘ অবজারভার মিশন কঙ্গোতে বিভিন্ন সময়ে মিলিটারি অবজারভার, চিফ কমিউনিকেশন অফিসার ও চিফ অব স্টাফ ছিলেন।

 

বিইউপি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা?

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইইউপি) বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা, গবেষণার মাধ্যমে পেশাজীবী ও সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে নেতৃত্বস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে যেসব অবকাঠামোগত উন্নয়ন দরকার তা সম্পন্ন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। সমসাময়িক বিশ্বের গুণভিত্তিক সমাজের চাহিদা পূরণে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে সামরিক ও বেসামরিক মানব সম্পদ উন্নত করতে চাই। অনুমোদিত অর্গানগ্রাম অনুযায়ী টিচিং ও নন-টিটিং স্টাফ নিয়োগ করে দক্ষ জনবলের ঘাটতি দূর করতে চাই। নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে প্রাধান্য দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। শিক্ষার মানে আমরা কোনো আপস করব না।

 

বিইউপির উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবেন?

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনানিবাসে দেওয়া ১০ একর জমিতে বিইউপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১০ একরের মধ্যে পাঁচ একর লেক ও নীচু ভূমি, বাকিটা ব্যবহারোপযোগী। ২০১৭ সালের মার্চে চলমান প্রকল্পের আওতায় বিইউপি’র পশ্চিমে ইস্টার্ন হাউজিং প্রকল্প এলাকার ৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বিইউপি এখন পূর্ব ও পশ্চিম ক্যাম্পাসে বিভক্ত। পূর্ব ক্যাম্পাসে একাডেমিক, প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরো একটি একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। পশ্চিম ক্যাম্পাসে ‘সেন্টার ফর হায়ার স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ’ ভবন ও ল্যাব ভবনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাঁচটি অনুষদে ১৬টি বিভাগে মোট ৫ হাজার ৫০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর একাডেমিক সুবিধা অনেকাংশেই ব্যবস্থা করা হয়েছে ও ২০২৩ সালের মধ্যে ১২ হাজার ৯০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর আবাসনসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন তৈরি করা হবে।

 

রূপকল্প ২০৩০ বাস্তবায়নে কিভাবে ভূমিকা রাখবেন?

যেহেতু শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েই চলেছে, তাই আমরা আরো অ্যাকাডেমিক ভবন তৈরি করব। সে জন্য ২০১৮ সালের ২২ মে “বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)’র উন্নয়ন (১ম পর্যায়)” শীর্ষক নতুন প্রকল্প ৮০৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২১। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রধান অংশ—বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০ একর জমি অধিগ্রহণ, একাডেমিক, একাডেমিক কাম প্রশাসনিক, ল্যাব ভবন, ইউলিটি ভবনসহ ১০টি ল্যাব স্থাপন করা সম্ভব হবে।



মন্তব্য