kalerkantho


মুক্তিযুদ্ধের আলো

২১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মুক্তিযুদ্ধের আলো

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে, খরচে ও পরিকল্পনায় চালু হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্নারটি নিয়ে লিখেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি তুলেছেন তারিকুল ইসলাম

 

এর পরিকল্পনাটি করেছিলেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন। তিনি ভেবেছিলেন, এই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির তৃতীয় তলায় দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে হবে এটি। খরচ দেবে বিশ্ববিদ্যালয়, ডিজাইন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষকরা। এই বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক আবু তৈয়ব মো: শাহরিয়ার, প্রভাষক সাজদিক আহমেদ, দীপা সাহা ও প্রভাষক স ন ম নাইম হোসেন মিলে নকশা বানালেন। তাঁরা ১০ হাজার বই ধারণ ক্ষমতার একটি সমৃদ্ধ কর্নারের পরিকল্পনা করলেন। নকশা নিয়ে আবু তৌয়ব বললেন, ‘দুই রুমের কর্নারের প্রবেশপথে সাজানো আছে বাংলাদেশের মানচিত্র। ভেতরে সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি ও তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী বড় করে টাঙানো আছে। এই জোনের পরের জোনে লাল-সবুজ শেলফে বই রাখা আছে। ছাদের রং শোকের প্রতীক কালো। সেলফগুলোতে মোট ১০ হাজার বই রাখা যাবে।’ গত বছরের এপ্রিলে এই কর্নারের উদ্বোধন করেছেন দিনাজপুরের সন্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এখানে কী কী বই আছে—এই প্রশ্নের জবাবে লাইব্রেরিয়ান মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র’ ১৫ খণ্ড সরকার থেকে অনুদান পেয়েছি। দেশ-বিদেশের ৩০০ লেখকের প্রায় ৪০০ বই এখন সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’, সুফিয়া কামালের ‘একাত্তরের ডায়েরি’ মুনতাসীর মামুনের ‘মুক্তিযুদ্ধ কোষ’ ইত্যাদি বই আছে। ছাত্র-ছাত্রীরা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ড. মুহম্মদ মনিরুজ্জামানের ‘দিনাজপুরের ইতিহাস’, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন এবং মেডিসিন, সার্জারি অ্যান্ড অবসটেট্রিকস বিভাগের অধ্যাপক ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. ফজলুল হকের ‘ইতিহাস কথা বলে’ বেশি পড়ছে। আমাদের কাছে বিদেশি বইয়ের মধ্যে অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের ‘বাংলাদেশ অ্যা লিগ্যাসি অব ব্লাড’ও আছে।’’ তিনি বললেন, ‘আমাদের ১০টি শেলফ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য আছে। আগ্রহীরা সেখানে স্মারকদান করতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা, দিনাজপুরের লাইব্রেরিগুলো খুঁজে আমরা এই বইগুলো জোগাড় করেছি। খ্যাতিমান লেখকের কাছ থেকে তাঁদের বই অনুদান পেলে কর্নার আরো সমৃদ্ধ হবে।’ কর্নারে বই পড়তে আসা ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সের ছাত্র মুশতাক ওয়াদুদ বললেন, ‘এটি আমাদের উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। আমি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে তাঁর সংগ্রামী জীবন ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা সম্পর্কে জেনেছি।’ এই অনুষদের আরেক ছাত্র মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘এখানে মুক্তিযুদ্ধের অ্যালবাম আছে। সেটি যুদ্ধের নির্মমতার সাক্ষ্য বহন করছে।’ পুরো কর্নারটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বই পড়া শেষে আগ্রহীরা মন্তব্য খাতায় তাঁদের মন্তব্য লিখতে পারেন। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ‘ভাইস চ্যান্সেলরের শেলফ’ শিরোনামে আরো কিছু ভালো বই উপহার দিয়েছেন।



মন্তব্য