kalerkantho


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষক-ছাত্র-দল এক সারিতে

আলী ইউনুস হৃদয়   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সকাল ১১টা। বসন্তের পাতাঝরা গাছগুলোতে ছায়া নেই। সূর্যের তাপও বাড়ছে। খোলা আকাশের নিচে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে জটলা বেঁধেছে শিক্ষার্থীরা। রবীন্দ্র ভবনের সামনের রাস্তার দুই ধারে ব্যানার হাতে দাঁড়িয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে তাদের দল ভারী হচ্ছে। তারা এসেছে শিক্ষাবিদ, লেখক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে। ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলামের আহ্বানে বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘কিছুদিন পর পর স্বনামধন্য শিক্ষকদের ওপর হামলা হচ্ছে। তাঁরা এ সমাজের অভিভাবক। ঘর পুড়লে দেবালয় এড়ায় না। তাঁদের ওপর হামলা হলে অন্যদের বাঁচার স্বাধীনতা কতটুকু থাকে? অবিলম্বে তাঁর ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবেই এসব গুম, হত্যা ও হামলা বন্ধ হবে।’ নাট্যকলার অধ্যাপক ড. মোহা. আলমগীর, ফোকলোরের সহকারী অধ্যাপক ড. রতন কুমার ছাড়াও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি তাসবিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন মোড়ল, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফিদেল মনির ও ছাত্র ইউনিয়ন রাবি সংসদের সভাপতি এ এম শাকিল হোসেন। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে প্রতিবাদসভা হয়েছে দুপুর সাড়ে ১২টায়। এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করেছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোট’। প্রতিবাদী গান গেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিকর্মীরা। তাঁদের এ সমাবেশে যুক্ত হয়েছে এক শর বেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী। তাদের অন্যতম একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যকার ও অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, “আমাদের অভিভাবক, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জাফর ইকবাল এ সমাজের ‘প্রতীক’। তাঁর মতো মানুষকে আক্রমণ করে যুবসমাজকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার জন্যই আক্রমণটি করা হয়েছে। এই আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য বিজ্ঞানসম্মত সমাজের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।” সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অন্তর আলী ছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য দেন দর্শনের অধ্যাপক এস এম আবু বক্কর ও জোটের সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ। ক্যাম্পাসে তখন ছাত্রলীগের ছাত্র-ছাত্রীরা হামলার প্রতিবাদে মিছিল করছে। দুপুর ১টায় হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে প্যারিস রোডে অর্থনীতির ছেলে-মেয়েরা মানববন্ধন করেছে।



মন্তব্য