kalerkantho


ছোট কাগজের বড় সাধ

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ছোট কাগজের বড় সাধ

একটি বইপ্রেমী পরিবার উল্টে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাগজটি

বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে ‘চিরকুট : দ্রোহ ও ভালোবাসার পত্র’। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংগঠন ‘চিরকুট’ থেকে ছোট কাগজটি প্রকাশিত হয়। সে পত্রিকা ও সংগঠনটি নিয়ে লিখেছেন আদীব মুমিন আরিফ। ছবি তুলেছেন সিজান আহমেদ জিম

 

টানা তৃতীয় বছরের মতো বইমেলায় আছে ‘চিরকুট’। এই ছোট কাগজটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংগঠন চিরকুটের নিয়মিত প্রকাশনা। এটি এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ছাত্রসংগঠন থেকে প্রকাশিত একমাত্র কাগজ, যা বইমেলায় স্টল পেয়ে অংশ নেয়। কী আছে এবারের মেলা সংখ্যায়? উত্তরটি দিলেন চিরকুটের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র হাসানুজ্জামিল মেহেদী, ‘চিরকুটের এটি ১৩তম সংখ্যা। গল্প, কবিতা, অনুবাদ কবিতা, প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার, বই আলোচনা, ছোট কাগজের রিভিউসহ সাহিত্য সংবাদ আছে।’ এই কবি ও গল্পকার আরো বলেন, “স্টলে আমাদের পুরনো সংখ্যাগুলোও আছে। সেখানে চিরকুটের আরেকটি প্রকাশনা ‘১৬ পৃষ্ঠা’র নতুন-পুরনো ১৫টি সংখ্যা ছাড়াও আমাদের সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা গল্প, কবিতাসহ নানা স্বাদের বই আছে।’ তাঁদের স্টলের কর্মীরাও সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। তেমনই একজন নাটক ও নাট্যতত্ত্বের প্রথম বর্ষের ছাত্র জাহিদ আল হাসান। এই তরুণ কবি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগেই আমি চিরকুটের স্টলে কাজ করেছি। মেলায় আমাদের স্টলে অনেক বিখ্যাত কবি ও লেখক এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে আলাপ চিরকাল মনে থাকবে। পাঠকদের সঙ্গে মেলামেশার অভিজ্ঞতাও খুব ভালো। ফলে চিরকুটের স্টলে এবারও আছি।’ মেলায় চিরকুটের স্টল নম্বর ৩৩। সেখানে আরো অনেকের মতো বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন ‘চিরকুট’ সভাপতি হাসানুজ্জামান মেহেদী। তিনি বললেন, ‘অনেকেই আমাদের স্টলে এসেছেন। বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ক্রেতাসহ অনেকেই পুরোনো সংখ্যাগুলো কিনেছেন। তবে সারা বছরই এই ছোট কাগজটি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পাওয়া যায়।’ কবি ফারুক সুমন চিরকুটের নিয়মিত ক্রেতা। এই কলেজ শিক্ষক বললেন, ‘তারুণ্যের ছোঁয়া পাই বলে প্রতিটি সংখ্যা পাঠ করি। নিজে কবি, নতুন কবিদের লেখা পড়তেও ভালো লাগে, তাঁরা কী নিয়ে লিখছেন, কবিতার বিষয়-আঙ্গিক ইত্যাদি পড়ে জানতে পারি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি-সাহিত্যকরা এত সুন্দর লিখছেন, সম্পাদনা করছেন—সেটিও ভালো লাগার অন্যতম কারণ।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার ছাত্র শাহাদাৎ শাহেদ বললেন, ‘গল্প-কবিতা পড়তে ভালো লাগে। কবি, গল্পকার বন্ধুদের লেখাগুলোও আমাকে টানে।’

চিরকুট তরুণ লেখকদের লেখা ছাপায়, নতুন লেখক তৈরি করে। ২০১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে জাহাঙ্গীরনগরের অনেক তরুণ লেখকের প্রথম লেখা এখানেই প্রকাশিত হয়েছে। এক সময়ের চিরকুটের লেখকদের অনেকেই এখন নিয়মিত লিখছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন কবি মাসুম মুনাওয়ার, শিশু সাহিত্যিক সাহিত্য-সমালোচক নাজিয়া ফেরদৌস, গল্পকার আনজুম সানি, কবি ও ছড়াকার সানাউল্লাহ মাহী, ছড়াকার সাদ শরীফ, অনুবাদক নূর আলী, কবি ও সাহিত্য সমালোচক তাসলিম হাসান ও কবি জুলফিকার রবিন। তাঁদের হয়ে লেখালেখি শুরুর গল্প শোনালেন নাজিয়া ফেরদৌস, ‘বাংলার ছাত্রী হওয়ায় সাহিত্যে আমার খুব অনুরাগ আছে। চিরকুটে লেখা দিয়েই লেখালেখি শুরু করেছি, সাহিত্যের প্রতি অনুরাগটিও  বেড়েছে, এখনো তাই লিখে চলেছি।’ ইংরজি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাসান তানভীর বলেন, ‘‘আমিও ভালোবাসা থেকেই চিরকুটে যুক্ত হয়েছি। এবারের বইমেলা সংখ্যায় আমার গল্প আছে ‘হাহাকার’।” এই কাগজের শুরুতে কারা কারা ছিলেন বললেন চিরকুটের প্রতিষ্ঠাতা মাসুম মুনাওয়ার, ‘তখন আমার সঙ্গে ছিলেন সাহিত্যানুরাগী ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সুদীপ্ত শাহাদাত, আবদুল কাদের মার্জুক, এনামুল হক এনাম ও রাকিবুল হাসান রাসেল। ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর আমরা সংগঠন হিসেবে কাজ শুরু করি। প্রতিবছর চিরকুটের নতুন কার্যনির্বাহী ও সম্পাদনা পর্ষদ গঠিত হয়।’ এই সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ‘পত্রিকা প্রকাশের পাশাপাশি পাঠচক্র, বই আলোচনা, সাহিত্যসভা, সেমিনার, সাহিত্য বিষয়ে কর্মশালা, কবিতা পাঠের আসর, সাহিত্যাশ্রয়ী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বইয়ের প্রকাশনা উৎসব, গুণীজন সম্মাননার আয়োজন করি।’ চিরকুটের সাবেক সম্পাদক আনজুম সানি, সাবেক নির্বাহী সম্পাদক ও ছড়ার কাগজ ‘তোতাপাখি’র সম্পাদক সাদ শারীফ দুজনেই বললেন, চিরকুটেই তাঁদের সম্পাদনার হাতেখড়ি। চিরকুটের সভাপতি হাসানুজ্জামিল মেহেদী বললেন, নিয়মিত সংখ্যার পাশাপাশি চিরকুট ‘সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ’, ‘সুন্দরবন ধ্বংস ও রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র’, ‘দিনাজপুরের সাঁওতাল পল্লীতে আগুন’, ‘লেখক-ব্লগার-প্রকাশক হত্যা’ ও ‘রোহিঙ্গা গণহত্যাবিরোধী বিশেষ সংখ্যা’ প্রকাশ করেছে। এসব কারণে তাঁদের পত্রিকাও পাঠকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করছে বলে জানালেন তিনি। চিরকুট অনলাইনেও পাওয়া যায়—chirkut2011.wordpress.com, ফেসবুক পেজ লিংক fb.com/chirkutju |

 


মন্তব্য