kalerkantho


টিফিন আওয়ার

দাদি আর নাতির গল্প

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দাদি আর নাতির গল্প

নাতি-নাতনিদের ভালোর জন্য দাদি-নানিরা যে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন তার এক অনন্য উদাহরন চীনা বৃদ্ধা সি ইউইং। কী করেছেন তিনি? জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

 

চীনের সি ইউইংয়ের বয়স ৭৬। এই বয়সী বৃদ্ধারা সাধারণত অবসর যাপন করেন। কিন্তু সির পক্ষে হাত-পা ছড়িয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। তাঁর একমাত্র নাতি জিয়াং হাওয়েনের যে সেরিব্রাল পালসি। মারাত্মক এই অসুখে আক্রান্ত হলে দেহের মাংশপেশির ওপরে রোগীর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সোজা বাংলায়, রোগী স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা বা নড়াচড়া করতে পারেন না।

নাতির কষ্ট কিভাবে সইবেন গুয়াংঝি প্রদেশের বাসিন্দা সি। নাতিকে পড়াশোনা তো করাতে হবে। বৃদ্ধা তাই রোজ হুইলচেয়ার ঠেলে জিয়াংকে নিয়ে যান স্কুলে। প্রায় দুই মাইল দূরত্বের রাস্তা তিনি প্রতিদিন মোট আটবার করে পাড়ি দেন এই কাজে।

এতটুকু পড়ে প্রশ্ন জাগতে পারে, জিয়াংয়ের মা-বাবা কোথায়? তাঁরা দুজনই বেঁচে আছেন। তবে ৯ বছর বয়সী জিয়াংয়ের ভাগ্যটা খারাপ। সেরিব্রাল পালসি ধরা পড়ার দুই বছর পর মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। আরো কয়েকবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন মা। ওদিকে বাবা কাজে গেছেন সুদূর গুইলিনে, যাতে ছেলের দেখভালের খরচটা জোগাতে পারেন। মা-বাবা থেকেও নেই, তাই দাদির কাছেই বড় হচ্ছে জিয়াং।

শুধু ঠেলে স্কুলে পাঠানো নয়, হাত-পা ম্যাসাজ করে দেওয়া থেকে শুরু করে ভেষজ বড়ি খাওয়ানো, নাতির সবই নিজের হাতে করেন বৃদ্ধা। তবে সব থেকে কঠিন কাজটা নিঃসন্দেহে জিয়াংকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া। স্কুলের দূরত্ব বাসা থেকে প্রায় দুই মাইল। সু প্রতিদিন নাতিকে সকালে স্কুলে দিয়ে আসেন, দুপুরের পর বাসায় আনেন। এরপর বিকেলে আবার স্কুলে পৌঁছে দিয়ে সন্ধ্যায় বাসায় নিয়ে আসেন। এই যাতায়াত করতে প্রতিদিন তাঁকে হাঁটতে হয় মোট ১৫ মাইল দূরত্ব। এর বেশির ভাগ সময়ই হুইলচেয়ার ঠেলতে হয় বয়স্ক ওই নারীকে। তবে এই কাজে তাঁর মোটেও আপত্তি নেই। ‘যত দিন পারব, ওকে স্কুলে নিয়ে যাব’—এই হচ্ছে নাছোড়বান্দা দাদির বক্তব্য।

এত পরিশ্রমের ফলও ফলতে শুরু করেছে। জিয়াং এখন সোজা হয়ে দাঁড়াতে ও অল্পবিস্তর হাঁটতে পারে। ছেলেটি এখনো কলম ঠিকমতো ধরতে পারে না, তবে গণিতে যে তার মাথা আছে, তা এরই মধ্যে প্রমাণ করে দিয়েছে স্কুলের ফলাফল। এদিকে স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে জিয়াংয়েরও আগ্রহের কমতি নেই। শারীরিক অক্ষমতা সত্ত্বেও সে চায় লেখাপড়া চালিয়ে যেতে।


মন্তব্য