kalerkantho


তুখোড়

ছোট্ট জাদুকর

ছোট্ট এক ছেলে সে। বাবার হাত ধরেই যেতে হয় স্কুলে। কিন্তু ওর জাদুতে মুগ্ধ হয় সবাই। খুদে জাদুকরের গল্প শোনাচ্ছেন গাজী খায়রুল আলম

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ছোট্ট জাদুকর

ছয় বছর বয়সী ইলমোন খন্দকারের পছন্দের বিষয় জাদু। শুধু তা-ই না, সে একজন খুদে জাদুকরও। জন্ম ঢাকার কেরানীগঞ্জে। পড়ছে আমবাগিচা বেবিকেয়ার স্কুলে, নার্সারিতে। এরই মধ্যে পরিচিতরা খুদে জাদুকর হিসেবে ডাকতে শুরু করেছে তাকে। শুরুটা ছিল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়। অনুষ্ঠানের  খেলাধুলা শেষ হওয়ার পর এলো যেমন খুশি তেমন সাজার পালা। কেউ সেজেছে মুক্তিযোদ্ধা, কেউ বেদে, কেউ রাঙাবউ। আর ইলমোন সেজেছে জাদুকর। শিক্ষকরা একের পর এক সবার পরিচয় নিচ্ছেন, আর একটু করে সাজের বিষয় অনুযায়ী অভিনয় করে দেখাতে বললেন। একসময় এলো ইলমোনের পালা।

শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন, জাদু জানো? হ্যাঁ, জানি। ইলমোনের সোজা উত্তর। শিক্ষক দুষ্টুমি করে বললেন, তাহলে আমাদের একটু জাদু দেখাও দেখি। ইলমোন একটি লাঠি দেখিয়ে বলল, এটা কী? স্যার বললেন, লাঠি। ইলমোন একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল লাঠিটি। মনে মনে কিছু একটা পড়ল। এদিকে শিক্ষক হাসছেন। তিনি মনে মনে ভাবলেন, সত্যিকারের জাদুকরের মতোই অভিনয় করছে ছেলেটি। ততক্ষণে ইলমোনের মন্ত্র পড়া শেষ। এবার কাপড়টি সরিয়ে নিলে শিক্ষকসহ উপস্থিত সবাই থ হয়ে যান। আরে, এটা তো সত্যিকারের জাদু! লাঠি নেই, লাঠির জায়গায় এসেছে একটি ছাতা। স্যার কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বললেন, এটা কি তুমি সত্যি সত্যি জাদু দেখালে, নাকি আমি চোখে ভুল দেখছি! স্যারকে ইলমোন কাছে ডেকে বলল, একটি হাত দিন, স্যার হাত বাড়িয়ে দিতে ইলমোন একের পর এক ফুলের স্টিক দিয়ে স্যারের হাত ভারী করে দিল। যে লাঠি ছাতা হলো, সে ছাতার ভেতরে হাত দিলেই বের হচ্ছে ফুলের স্টিক।

এখানেই শেষ নয় ইলমোনের কীর্তি। একটি ফুল হাতে নিয়ে ওটার রং বদলে দেওয়া, এমনকি ফুলকে পাতায় বদলে দিতে পারে সে। অথবা কারো গায়ে রং ছিটিয়ে দিয়ে জামা নষ্ট করে দিয়ে এটা আবার মুহূর্তে পরিষ্কার করে ফেলে। এ ছাড়া জানে আরো হরেক রকমের জাদু। বয়স খুব কম বলে অনেকে বিশ্বাস করেই না যে ইলমোন সত্যি সত্যি এতগুলো জাদু জানে। যখন নিজ চোখে দেখে, তখন মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকে। এখন নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্টেজ শো করে ইলমোনের জাদুগুরু তার বাবা আশরাফ খন্দকারের সঙ্গে। ভদ্রলোক একজন জাদুশিল্পী। তিনি বলেন, ‘জাদু একটি শিল্প। জাদু দেখিয়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের অনুষ্ঠানে মানুষকে বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার উত্তরসূরি হিসেবেই ছেলেকে শিখিয়েছি। তবে জাদু তার পেশা হবে না। আশা করি, সে ভালোভাবে পড়াশোনা করে একজন ইঞ্জিনিয়ার হবে।’


মন্তব্য