kalerkantho


টিফিন আওয়ার

স্কুলের অদ্ভুত যত নিয়ম!

পৃথিবীর কিছু কিছু দেশের স্কুলে এমন সব অদ্ভুত নিয়মও প্রচলিত আছে, যেগুলো শুনলে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়! কোনোভাবেই বোঝা যায় না, সেগুলো কিভাবে শিক্ষার্থীদের জীবনের পাথেয় হয়ে উঠবে। তবে সত্যি বলতে কী, অদ্ভুত শোনালেও সেই নিয়মগুলোরও কোনো না কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ আছে। জানাচ্ছেন নাবীল অনুসূর্য

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



স্কুলের অদ্ভুত যত নিয়ম!

বেস্ট ফ্রেন্ড থাকতে নেই!

হ্যাঁ, ইংল্যান্ডের কোনো কোনো স্কুলে সত্যি সত্যিই কাউকে বেস্ট ফ্রেন্ড বানাতে নিষেধ করা হয়। অনেক ভালো একজন বন্ধু না বানিয়ে বরং উৎসাহিত করা হয় একদল ভালো বন্ধু বানানোর প্রতি। তাদের দাবি, অনেক বন্ধুর সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের মানসিক বৃদ্ধি ভালো হয়।

 

চুল রাঙানো চলবে না!

টোকিওর বেশির ভাগ স্কুলেই আছে এই নিয়ম। নিয়মটা খুব একটা অদ্ভুত শোনাচ্ছে না বটে, তবে এই নিয়ম পালন করার জন্য স্কুলগুলো কত দূর পর্যন্ত যায়, সেটা শুনলে বাড়াবাড়ির ব্যাপারটা বোঝা যাবে। কারো চুলের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তারা এমনকি অভিভাবককে ফোন করে সন্তানদের ছোটবেলার ছবি পর্যন্ত স্কুলে আনায়, যাতে সেই ছবি দেখে তারা নিশ্চিত হতে পারে, ওটাই সেই শিক্ষার্থীর চুলের আসল রং। বাড়াবাড়ির কারণও অবশ্য আছে। জাপানিরা সব সময় সামষ্টিক ঐক্যে বিশ্বাস করে। অর্থাৎ সবাইকে একই রকম হতে হবে। আর সেই শিক্ষার শুরুটা হয় স্কুল থেকেই। কাজেই কেউ চুল রাঙাবে আর কেউ রাঙাবে না, তা তো হতে পারে না!

 

লাল কালি আর নয়!

লাল কালির কলম ছাড়া কোনো শিক্ষককে কি কল্পনা করা যায়! তিনি হোমওয়ার্কের খাতা দেখবেন লাল কালি দিয়ে, পরীক্ষার খাতা লাল কালি দিয়ে কাটবেন। তাঁর ক্ষমতাই তো ওই লাল কালির কলমে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডের অনেক স্কুলেই শিক্ষকদের আর সে ক্ষমতা নেই। না, তাঁরা এখনো হোমওয়ার্কের খাতা দেখেন, পরীক্ষার খাতায় ঢেরা কাটেন। কিন্তু লাল কালি দিয়ে নয়। লাল কালি নাকি শিশুদের মানসিক বৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর। এই কালির ব্যবহারে তাদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়, মানসিক চাপ তৈরি হয়। লাল কালির বদলে তাই ওসব স্কুলে সবুজ, গোলাপি, হলুদ, বেগুনি আর নীল রঙের কলম ব্যবহার করা হয়।

হাত তোলা বারণ!

হাত তোলা বারণ—মানে আবার এমন নয় যে শিক্ষকদের কোনো প্রশ্নই করা যাবে না। ব্যাপারটা বরং উল্টো। শিক্ষকরা প্রশ্ন করলে যারা উত্তর পারে তারা যে ভীষণ আগ্রহ নিয়ে হাত তোলে, ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামশায়ারের স্যামওয়োর্থ চার্চ একাডেমিতে সেটাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্কুলের প্রিন্সিপালের ভাষ্য, এতে অল্প কিছু ছেলে-মেয়েই প্রতিদিন হাত তোলে, তারাই প্রতিদিন পড়া বলে। বাকিরা থেকে যায় বঞ্চিত। কাজেই কোনো হাত তোলাতুলি নেই। শিক্ষক পছন্দমতো শিক্ষার্থীদের দাঁড় করাবেন। তারাই তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেবে।

 

ডিওডোরেন্ট ভালো নয়!

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ফ্রিডম হাই স্কুলে এক্স ব্র্যান্ডের ডিওডোরেন্ট বডি স্প্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ ওই ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের কারণে সে স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পর্যন্ত নিতে হয়েছে। এমনটা অবশ্য আরো অনেক স্কুলের ক্ষেত্রেই হয়েছে। এর মধ্যে আছে মেডগার এভার্স কলেজ প্রিপারেটরি স্কুল ও ক্রাউন হাইটস স্কুল। এতে আবার ডিওডোরেন্টগুলোর পাশাপাশি অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীদেরও দোষ আছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো কিছুই যে ভালো নয়, এই পুরনো শিক্ষাটাই তারা ভুলে গিয়েছিল।

 

ঘুমানোর জন্য আধাঘণ্টা!

চীনে অনেক অদ্ভুত নিয়ম আছে বটে, তবে সেরা নিয়ম বোধ হয় এটাই—দুপুরবেলা আধাঘণ্টা ঘুমিয়ে নেওয়া যায়। ওখানকার স্কুলগুলোতে আছে এই নিয়ম। ছোট ক্লাসের ছেলে-মেয়েরা তাদের ডেস্কের ওপর ঘুমায়। সে জন্য এমনকি বালিশ-তোশকও সঙ্গে আনতে পারে। কিন্তু বড় ক্লাসে উঠলে ঘুমাতে হয় বসে বসেই। ঘুম না বলে ওটাকে তাই তন্দ্রা বলাই ভালো। এতে শরীর সতেজ হয়, মাথা নির্ভার হয়, ফলে পড়াশোনায় মনোযোগও বেশি দেওয়া যায়। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণাও তাদের এ রীতির পক্ষেই সাক্ষ্য দেয়।

 

গুনে গুনে বাথরুমে!

আমেরিকার শিকাগোর এভারগ্রিন হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল আবার ভীষণ কড়া। তিনি আবিষ্কার করলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসের মধ্যে টয়লেটে যাওয়ার নাম করে অহেতুক সময় নষ্ট করে। ব্যস, তিনি চটজলদি এর একটা সমাধানও দিয়ে দিলেন। এক সেমিস্টারে তিনবারের বেশি ক্লাসের মাঝখানে টয়লেটে যাওয়া যাবে না। যেতে হবে একেবারে ক্লাস শেষ করার পর।


মন্তব্য