kalerkantho


আশা ইউনিভার্সিটিতে স্বল্প খরচে উচ্চশিক্ষা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ‘আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’। এটির অস্থায়ী ক্যাম্পাস ঢাকার শ্যামলীতে, আর উত্তরায় সাড়ে সাত বিঘা জমিতে রয়েছে স্থায়ী ক্যাম্পাস। উন্নতমানের গবেষণাগার, মানসম্পন্ন শিক্ষক, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব অল্প খরচে উচ্চশিক্ষা নেওয়া যায়। ইউজিসি অনুমোদিত এই বিশ্ববিদ্যালয় ২৯ জানুয়ারি দ্বিতীয় সমাবর্তন করেছে। এটি ঘুরে এসে পাবলিক রিলেশনস অফিসার মো. মেহেদী হাসানের সহযোগিতায় বিশেষ আয়োজনে লিখেছেন আদিব মুমিন আরিফ

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আশা ইউনিভার্সিটিতে স্বল্প খরচে উচ্চশিক্ষা

২০০৬ সালের ২৬ মে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আর পাঠদান শুরু হয়েছিল পরের বছরের ১৯ মে। তখন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল মোট ৭৭১ জন। ১০ বছর পর এখানে সুযোগ-সুবিধা অনেক বেড়েছে। এখন আছেন মোট চার হাজার ২০০ ছাত্র-ছাত্রী। শুরু থেকেই আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের লক্ষ্য—‘স্বল্প খরচে উচ্চশিক্ষা’। ক্যাম্পাসটি আছে ঢাকার শ্যামলীর আশা টাওয়ারে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখন চারটি ফ্যাকাল্টি আছে। ‘ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস’-এর অধীনে চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ), এক বছরের রেগুলার ও এক্সিকিউটিভ মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) আছে। ফ্যাকাল্টি অব ল’র অধীনে চার বছরের এলএলবি ও এক বছরের এলএলএম ডিগ্রি দেওয়া হয়। ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের অধীনে ইংরেজিতে চার বছরের বিএ অনার্স, এক বছরের এমএ ইন ইংলিশ (লিটারেচার বা সাহিত্য) এবং এমএ ইন ইংলিশ ইন অ্যাপ্লাইড লিংগুস্টিকস অ্যান্ড ইএলটি ডিগ্রি দেওয়া হয়। ‘অ্যাপ্লাইড সোশিওলজি’ বিভাগের অধীনে চার বছরের বিএসএস (অনার্স) ডিগ্রি দেওয়া হয়। ‘ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অধীনে ফার্মেসি বিভাগে চার বছরের বিফার্ম (অনার্স), এক বছরের মাস্টার অব পাবলিক হেলথ (নিয়মিত ও ফ্রাইডে) ডিগ্রি দেওয়া হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানোর জন্য ৬২ জন স্থায়ী শিক্ষক আছেন। কর্মকর্তা আছেন ৪১ জন।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি বিভাগের লেখাপড়ার খরচই সামর্থ্যের মধ্যে আছে। যেমন—ইংরেজি বিভাগের চার বছরের অনার্স ডিগ্রির জন্য সেমিস্টার ও টিউশন ফিসহ মোট দুই লাখ ৮১ হাজার টাকা খরচ হয়। এলএলবি অনার্স পড়তে তিন লাখ ৩৮ হাজার টাকা খরচ হয়, বিবিএ করতে চার লাখ ৭৫ হাজার ৮০০ টাকা, বিএসএস ইন অ্যাপ্লাইড সোশিওলজি পড়তে এক লাখ ৯৯ হাজার ৭৫০ টাকা, ফার্মেসিতে পাঁচ লাখ ২৭ হাজার ৪১০ টাকা খরচ হয়। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তাঁদের পোষ্যদের টিউশন ফি শতভাগ মওকুফ করা হয়। একই পরিবারের ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী এবং আশা ও অন্যান্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ২০ শতাংশ ছাড় আছে। নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩০ শতাংশ এবং আদিবাসীদের জন্য ৩০ শতাংশ ছাড় আছে। পেশাজীবীদের জন্য ‘করপোরেট টিউশন ফি ওয়েভার’ নামে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা আছে। তাঁরা এক্সিকিউটিভ এমবিএতেও ভর্তি হতে পারেন। এক বছর মেয়াদি এলএলএম করতে পারেন। পাবলিক হেলথেও তাঁদের মাস্টার্স করার সুবিধা আছে। তা ছাড়া একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা একই প্রগ্রামে ভর্তি হলে তাঁরা মোট টিউশন ফির ওপরে ১৫ শতাংশ ছাড় পান। এসব সুবিধা ও ভালো মানের লেখাপড়ার জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বসে পড়ালেখা করছিলেন মোহাম্মদ ইমরান। তিনি ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এখানে ফার্মেসির সেমিস্টার ফি কম বলে ভর্তি হয়েছি।’ একই বিভাগে তাঁর সিনিয়র ষষ্ঠ সেমিস্টারের তানজিল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বিভাগের ল্যাবের সুযোগ-সুবিধা ভালো। শিক্ষকরাও যত্ন করে পড়ান। লাইব্রেরিটিও সমৃদ্ধ। ফলে এখানে পড়ে ভালো ফলাফলের সুযোগ আছে।’ এমনই একজন আশা আক্তার। তাঁর মা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা’য় পাঁচ বছর ধরে সদস্য বলে তিনি টিউশন ফিতে শতভাগ ওয়েভার নিয়ে মাত্র ১৫ হাজার টাকায় ভর্তি হয়েছেন। তিনি এখন পড়ালেখায় ভালো ফলাফলের সুবাদে ওয়েভার পেয়ে চলেছেন। প্রথম সেমিস্টারে ৩.৯৯ পেয়ে দ্বিতীয় সেমিস্টারে শতভাগ বৃত্তি পেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র সহকারী রেজিস্ট্রার ফয়জুর রহমান চৌধুরী জানালেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়ম করেছে, আশার দুই বছরের সদস্যদের ছেলে-মেয়েরা ৩০ শতাংশ, তিন বছরের সদস্যদের ছেলে-মেয়েরা ৫০ শতাংশ, চার বছরের সদস্যদের ছেলে-মেয়েরা ৮০ শতাংশ এবং পাঁচ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি দিনের সদস্যরা শতভাগ টিউশন ফি ফ্রি পাবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদেরও বৃত্তি দিই। এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে অনেক সুবিধা আছে। যেমন—বিবিএ করতে চার বছরে মোট চার লাখ ৭৫ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৪০০ টাকা চার বছরের বিবিএর টিউশন ফিতে তিনি শতভাগ ওয়েভার পাবেন। ১০০ শতাংশ ওয়েভার ধরে রাখলে তাঁকে শুধু এক লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা ফি দিতে হবে। এ ছাড়া এসএসসি ও এইচএসসিতে অতিরিক্ত বিষয়সহ জিপিএ ১০ পেলে তিনি ৫০ শতাংশ ওয়েভার পাবেন। জিপিএ ৯ পয়েন্ট পেলে ৪০ শতাংশ, ৮ পয়েন্ট পেলে ৩০ শতাংশ এবং ৭ পয়েন্ট পেলে ২০ শতাংশ ওয়েভার পাবেন।’

 

আছে যত সুবিধা

আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া, ব্রডব্যান্ড, ওয়াইফাই ইন্টারনেট সুবিধা, সুবিশাল ক্যাফেটেরিয়া ও সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো অনেক সুবিধা আছে। যেমন—ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবহারিকের জন্য পাঁচটি ল্যাব আছে। সেগুলো হলো—মেডিসিনাল কেমিস্ট্রি, ফিজিওলজিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি, মলিকুলার বায়োলজি ও ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি ল্যাব। এই গবেষণাগারগুলোর কো-অর্ডিনেটর আকবর হোসেন বলেন, ‘আমাদের গবেষণাগারগুলোতে নিয়মিত ছাত্র-শিক্ষকরা গবেষণা করেন। সেগুলো থেকে গবেষণালব্ধ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বছরে তিন থেকে চারটি গবেষণাপত্র সেন্টার ফর সোশিও ইকোনমিক রিসার্চে প্রকাশিত হয়।’ এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি কম্পিউটার ল্যাব আছে। জানা গেল, বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাব বা গবেষণাগারগুলোও ভালো মানের।

অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আছে। এটির মাধ্যমে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে প্রতি সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির যৌথ প্রতিনিধিদল প্রায়ই ক্লাসরুম ও গবেষণাগারগুলো পরিদর্শন করে। তারা পরীক্ষা পদ্ধতি মূল্যায়ন করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেসব নিয়ে বলতে গিয়ে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র লেকচারার মো. শাহনূর ইসলাম জানান, “প্রথম সেমিস্টারেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র-ছাত্রীর ইংরেজি দুর্বলতা কাটানোর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে বিশেষ ‘ইংরেজি’ কোর্স করতে হয়। প্রতিটি ফ্লোরেই ‘ফ্রি স্টাডি এরিয়া’ আছে। সেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা একত্রে বসে গ্রুপ স্টাডি করে। সব বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে শিক্ষা সফর করতে হয়। আমার বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরাই তো অনার্স শেষে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে নানা কম্পানিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর করে। এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছয় মাসের ইন্টার্ন করতে পাঠানো হয়।”

তেমনই একজন সুমাইয়া বিবিএতে পড়ছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে ইন্টার্নশিপ করছেন। বিভাগের লেখাপড়ার গল্প করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভাগে প্রতি সেমিস্টারেই প্রেজেন্টেশনসহ করপোরেট পরিচিতির মাধ্যমে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।’

কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু দাউদ জানালেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সব ছাত্র-ছাত্রীকে অনার্সের শেষ সেমিস্টারে ১০০ নম্বরের ব্যবহারিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। হিজড়াসহ যেকোনো বিশেষ কমিউনিটি নিয়ে মাঠ গবেষণাও করা হয়। সেগুলোর মাধ্যমে মানুষ ও সমাজ এবং সামাজিক জীবন সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভের সুযোগ পাওয়া যায়। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের স্থায়ী ক্যাম্পাস উত্তরায়। সেখানে সাড়ে সাত বিঘা জমিতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে। বর্তমানে প্রতিটি বিভাগ সেখানে সপ্তাহে একদিন ক্লাস করে। ধীরে ধীরে সব বিভাগ স্থানান্তর করা হবে। যাতায়াতের জন্য এরই মধ্যে নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

 



মন্তব্য