kalerkantho


চৌকস

জাহিনের ডুডলগুলো

দারুণ সব ডুডল আঁকে মুসাররাত আবির জাহিন। তার ডুডল আঁকিয়ে হয়ে ওঠার গল্প শোনাচ্ছে জুবায়ের ইবনে কামাল

৩১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জাহিনের ডুডলগুলো

আঁকিয়েদের সবাই যখন পোর্ট্রেট, স্কেচ বা কার্টুন নিয়ে ব্যস্ত, তখনই জাহিন সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয় নিয়ে ভাবছিল। যার নাম ডুডল। মূলত কোনো জায়গায় ইচ্ছামতো আঁকিবুঁকি করে ভরে ফেলাকেই ডুডল বলে। আর মাথায় চিন্তাটা আসার পর ডুডল আঁকাতে হাত পাকিয়ে ফেলে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী জাহিন। শুরুটা কিভাবে হলো, তা নিজেই বলল। ‘চারুকলায় পড়ুয়া এক আপুর থেকে নিজের পোর্ট্রেট চেয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, নিজে শিখে এঁকে নাও। তার পর থেকে জেদ চেপে গিয়েছিল; কিন্তু পোর্ট্রেট তো দূরের কথা, যেকোনো কিছু আঁকাতেই আমার হাত ছিল বাজে। শেষ পর্যন্ত যখন হাল ছেড়ে দেব, ঠিক তখনই একদিন ইন্সটাগ্রামে একটা ছবিতে চোখ আটকে গেল। ওই ছবির একটা সাদা বোর্ডের মাঝে কালো কালি দিয়ে হাবিজাবি ছোট ছোট কার্টুন আর দাগাদাগি করা। তবে দেখতে ভালোই লাগছিল। ছবির নিচে ইংরেজিতে লেখা ছিল ডুডল।’

আর সেখান থেকেই শুরু। তখনই জাহিন গুগলে সার্চ করে জানতে পারল, ডুডল মানে মনের অকপটে ইচ্ছামতো আঁকিবুঁকি করা। তবে সাধারণত এই আঁঁকিবুঁকির কারণে একটা কিছু দাঁড়িয়ে যায়। গুগলে বেশ কিছু ছবি দেখে জাহিন আবিষ্কার করল, সেগুলো তার খাতার শেষ পৃষ্ঠায় অন্যমনস্কভাবে আঁকাগুলোর মতোই। ডুডল আঁকায় মন দিল জাহিন। অনেকে হাসত, কেউ কেউ উত্সাহও দিত। কিন্তু আঁকা থামায়নি জাহিন। ‘ডুডল নিয়ে একটা ভালো লাগা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। নেট ঘেঁটে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত ডুডলগুলো দেখতাম। আর নিজে থেকে ডুডল আঁকার চেষ্টা করতাম। কদিন পরই দেখলাম, বেশ ভালোই আঁকতে পারছি।’ বলল জাহিন। সঙ্গে এও জানাল, ভিসোতকাকভেই নামের এক কম্বোডিয়ান লোকের ডুডল তার বেশ পছন্দ। এখন অবশ্য স্কুলের বান্ধবীরাও পছন্দ করছে জাহিনের ডুডল। তার আঁকা ডুডল নিয়ে তৈরি হয়েছে তাদের স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানের একটি ব্যাজ।

লেখালেখিতেও জাহিনের হাত বেশ পাকা। দেশের বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও জাতীয় দৈনিকে লিখছে নিয়মিত। জাহিনের ডুডল নিয়ে ইন্সটাগ্রামে একটি আইডিও রয়েছে। এমএস ডুডল (_msdoodle_) লিখে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে ওটা। পিইসি ও জেএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থী জাহিন বড় হয়ে সাংবাদিক হতে চায়।



মন্তব্য