kalerkantho


ক্যাম্পাসে উত্সব

জোসেফাইটদের সবুজ উত্সব

পৃথিবীটাকে ফের সবুজ করা হোক—এ আহ্বান নিয়ে ১৪-১৬ সেপ্টেম্বর সেন্ট জোসেফ হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো হয়ে গেল জোসেফাইট নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফেস্ট ২০১৭। ইভেন্টের ও পরিবেশ বিজয়ীদের খবর জানাচ্ছেন আফরা নাওমী

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জোসেফাইটদের সবুজ উত্সব

প্রকৃতি, পরিবেশ ও গাছ নিয়ে যে জোসেফাইটরা বেশ সোচ্চার, তা তাঁদের সবুজ ক্যাম্পাসে চোখ পড়লেই  বোঝা যায়। সবুজের সমারোহ ক্যাম্পাসজুড়ে। আর সবুজ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতেই প্রকৃতিবিষয়ক ক্লাব চালু করেছিলেন স্কুলটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। নাম জোসেফাইট ইকো আর্থ ক্লাব। প্রতিবছরই বিভিন্ন উত্সবের আয়োজন করে এ ক্লাব। এ বছরও ছিল বড় পরিসরের আয়োজন।

‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃতি, গাছপালা ও পরিবেশ সম্পর্কে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।’ বললেন, ইকো আর্থ ক্লাবের জয়েন্ট সেক্রেটারি দ্বাদশ শ্রেণিপড়ুয়া ইমামুন নূর।

অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিলিয়ে শতাধিক সদস্য এ ক্লাবের। ক্লাব ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে অংশ নিয়েছে রাজধানীর অন্যান্য স্কুল থেকে আসা প্রায় হাজার খানেক শিক্ষার্থী। আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয় প্রায় ৫০টি স্কুলে।

ইভেন্টে অংশ নেয় মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ঢাকা কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ওয়াইডাব্লিউসিএ, ঢাকা সিটি কলেজ, নটর ডেম কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ, শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজ, মাইলস্টোন কলেজ, হলিক্রস গার্লস হাই স্কুল, মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ,  ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজসহ আরো অনেক স্কুল ও কলেজ। উত্সব উদ্বোধন করেন ভাইস প্রিন্সিপাল ব্রাদার সুব্রত লিও রোজারিও সিএসই। উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি ব্রাদার ড. হ্যারল্ড বিজয় রড্রিগস সিএসই, বিশেষ অতিথি গ্রিন সেভারের প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি ও পর্বতারোহী মৃদুলা আমাতুন নূর।

উত্সবে ছিল ২০টি সেগমেন্ট—নেচার, আর্ট অ্যান্ড লাইফস্টাইল, ভূগোল, জ্যোতির্বিজ্ঞান, অ্যাডভেঞ্চার ও বায়োকেমিস্ট্রি, কুইজ অলিম্পিয়াড ও শর্ট ফিল্মসহ আরো কিছু। আকর্ষণীয় খেলা ছিল ট্রেজার হান্টিং। এ খেলায় ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়ানো ক্লু থেকে খুঁজে বের করতে হয় লুকিয়ে রাখা গুপ্তধন।

বায়োকেমিস্ট্রি ও নেচার অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন তৈরি করেছিল সেন্ট জোসেফ স্কুলেরই দশম শ্রেণিপড়ুয়া আয়মান ওয়াদুদ। সে-ই আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ থেকে প্রথম হয়েছিল।

ট্রি আইডেনটিফিকেশন প্রতিযোগিতায় প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি করে গাছ দিয়ে তার নাম জানতে চাওয়া হয়।

ট্রেজার হান্ট খেলায় চ্যাম্পিয়ন ইকবাল হোসেন গালিব, ওয়াসি তাহমিদ হোসেন, মুশফিকুর রহমান ও ইফতেখার জয়ের দল ডিআরএমসি হান্টারস। দলের ক্যাপ্টেন ইকবাল বলে, ‘প্রত্যেকটা রাউন্ডই খুব চালাকি করে বানানো ছিল। চারজন মিলে সব কয়টি পার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’

উত্সবে অংশ নেওয়া আইডিয়াল স্কুলের সামিয়া রহমান বলে, ‘প্রথমত কলেজটি খুব সুন্দর। প্রকৃতি নিয়ে উত্সবটিও চমত্কার হয়েছে। অংশ নিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।’

উত্সবের প্রজেক্ট ডিসপ্লে সেগমেন্টে পরিবেশবান্ধব ইট বানিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী আল নাহিয়ান নোমান ও সৈকত রহমান। শহীদ আনোয়ারা গার্লস কলেজের নবম শ্রেণির মিথিলা মাহজাবীন, সুমাইয়া ফারহানা, শামসিয়া মুনিরা প্রবলেম সলিউশন প্রেজেন্টেশনে দ্বিতীয় হয়েছে। তাদের বিষয় ছিল ডিপ্লেশন অব বায়োডাইভার্সিটি।

পিন পয়েন্ট অন ম্যাপে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সাদিত আল জারিফ প্রথম হয়ে খুব খুশি।

ওয়াইল্ডলাইফ বা বন্য প্রাণী নিয়ে একটি ওয়ার্কশপ করান ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন এলায়েন্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শাহরিয়ার সিজার রহমান। তিনি প্রাণিজগত্ ও বিভিন্ন বিপন্ন প্রাণী নিয়ে আলোচনা করেন। একটি ওয়ার্কশপ করান লিভ প্রতিষ্ঠানের দুই তরুণ প্রতিষ্ঠাতা ও মোটিভেশনাল স্পিকার ফাহিম হাসান নিহান ও মাশায়েদ হাসান সীমান্ত।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে ছিল ক্রেস্ট, সনদ ও একটি করে গাছ।



মন্তব্য