kalerkantho


ক্যাম্পাস সংবাদ

বিদ্যাদেবী সরস্বতী নিয়ে ফিরল ওরা

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিদ্যাদেবী সরস্বতী নিয়ে ফিরল ওরা

ছবি : ফিরোজ গাজী

১৭ জন একসঙ্গে গাইল, ‘ধন ধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা। ’ ওপারে গিয়ে শুনিয়ে এলো মুক্তিযুদ্ধের গল্প। দেখে এসেছে শিশুদের নাটক আর জেনেছে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার্থীরা কিভাবে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসে। এরপর সবার সঙ্গে গলা মিলিয়ে গাইল—‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি। ’ ভারতে যশোরের ১৭ স্কুলপড়ুয়ার এক অন্য রকম শিক্ষা সফরের খবর জানাচ্ছেন ফখরে আলম

 

যশোরের খ্যাতনামা তিনটি বিদ্যালয়ের বাছাই করা ১৭ শিক্ষার্থীর একটি দলকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভারতে শিক্ষা সফরের জন্য ব্যক্তি-উদ্যোগে পাঠিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। দেশে এমন উদ্যোগ এটাই প্রথম। ফলও পেল শিক্ষার্থীরা। দেশে ফেরার পরদিন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংবর্ধনা দেওয়া হয় তাদের। জেলা প্রশাসকের বাসভবন সাজানো হয়েছিল লাল, নীলসহ নানা রংয়ের বাতিতে। ছিল বাহারি ভোজ।

যশোরের কয়েকটি স্কুলে পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করা হয়েছিল ‘স্টুডেন্ট অব দ্য মান্থ’।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পর যশোর জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কালেক্টরেট স্কুলের ১৭ শিক্ষার্থীকে ভারত সফরের জন্য মনোনীত করা হয়। ১৭ জনের মধ্যে আটজন মেয়ে ও ৯ জন ছেলে। সঙ্গে ছিল সাতজন শিক্ষক। এই শিক্ষার্থীরা কলকাতার দমদম কিশোরী ভারতী উচ্চ বিদ্যাপীঠ ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বাখরাহাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় দুটি ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞতার গল্প বলে শিক্ষার্থীরা। সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী মারুফা বৃষ্টি, কালেক্টরেট স্কুলের ছাত্রী সামিয়া জামান ও জিলা স্কুলের ছাত্র শাফিন বলল, ‘‘কিশোরী ভারতী উচ্চ বিদ্যাপীঠের প্রথম দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে নাটক করে। তারা আমাদের নাটক করে দেখিয়েছে। বাখরাহাট বালিকা বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীই সাইকেল চালিয়ে আসে। বাংলাদেশ নিয়ে তাদের ধারণা বেশ বড়। আমাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে তারাও দুই বাংলার মধ্যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন গড়ার শপথ নিয়েছে। আমাদের সঙ্গে ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি’ গেয়েছে। তারপর আমাদের হাতে বিদ্যাদেবী সরস্বতী উপহার তুলে দিয়েছে। ’’ জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বলতে গেলে বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে কাজটি করেছি। তার পরও যশোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দেশে প্রথম আমি স্কুল শিক্ষার্থীদের বিদেশ এই সফরের ব্যবস্থা করলাম। এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এরপর অন্য স্কুলের সেরা শিক্ষার্থীরাও বিদেশ সফর করবে। শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা ও তাদের স্বপ্নের পৃথিবীকে আরো বড় করার জন্যই এই উদ্যোগ। ’ এই শিক্ষার্থীরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, জোড়াসাঁকো রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, মধুসূদন মঞ্চ, নন্দন, ইকো পার্ক, কলকাতা ফাইন আর্টসসহ আরো কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখেছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন লেডিস ক্লাবের সভাপতি রুনা লায়লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) পারভেজ হাসান, ম্যাগসেসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী নেত্রী অ্যাঞ্জেলা গোমেজ, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম আজম, কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুলতান আহম্মেদ, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক পারভেজ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডি এম শাহিদুজ্জামান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন আর রশীদ প্রমুখ।


মন্তব্য