kalerkantho


হলের নিশ্চিত জীবন

আইইউবিতে আছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও একমাত্র মেয়েদের হল ‘সায়মা হল’। এই হলের মেয়েদের লেখাপড়া, থাকা-খাওয়ার সব খরচ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়। হলটি নিয়ে লিখেছেন হিমেল হাসান

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘সায়মা হল’ বাংলাদেশের কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও একমাত্র মেয়েদের হল। আছে বসুন্ধরা ক্যাম্পাসের পাশেই।

চালু হয় ২০১৫ সালের জুনে। শুরুতে মাত্র আটজন ছাত্রী ছিলেন। তবে এখন আছেন ২১ জন। তাঁদের একজন খালেদা খানম। তিনি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন। হলজীবন নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি প্রথমেই বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিরাপত্তা। প্রতিটি রুমের সামনে একজন করে নারী নিরাপত্তাকর্মী আছেন। মূল ফটকে দারোয়ান ২৪ ঘণ্টাই থাকেন। রাত ৮টার মধ্যে হলে ফিরতে হয়। যাঁদের ঢাকায় কোনো অভিভাবক নেই, তাঁরা রাতে হলের বাইরে থাকতে পারেন না। ’ সায়মা হল নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি আরো জানালেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এই হলটি সব দিক থেকেই আলাদা। আমাদের চেয়ার-টেবিল, খাট—সবই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেয়। আছে বিশাল এক ডাইনিংরুম। টিভিরুমে বিরাট স্ক্রিনের এলইডি টিভিতে খবর ও অনুষ্ঠান  দেখি। ২৪ ঘণ্টাই ওয়াই-ফাই ও জেনারেটর আছে। লিফটও সর্বক্ষণ চালু থাকে। ’ তাঁর কাছে আরো  জানা গেল, তাঁদের জন্য আলাদা বাবুর্চি আছেন। হোস্টেল সুপার নিজের হাতে প্রতিদিন বাজার করেন। খাবারও তাই মানসম্পন্ন হয়।

লেখা-পড়ার বাইরে এখানে তাঁদের আলাদা এক জগৎ আছে। অবসরে তাঁরা একসঙ্গে আড্ডা দেন ও গল্প করেন। কারো জন্মদিন সবাই মিলে উদ্‌যাপন করেন। ছাদে বিভিন্ন উৎসব পালন করেন, কখনো নিজেরা রান্না করে খান।

৫২ সিটের সায়মা হলের ছাত্রীদের থাকা-খাওয়ার কোনো খরচ নেই। সব খরচই শহীদ খালেক ও মেজর সালেক বীর-উত্তম ট্রাস্ট থেকে দেওয়া হয়। পড়ালেখার খরচ জোগায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ছাত্রীদের অবশ্যই মেধাবী ও অসচ্ছল পরিবারের এবং ঢাকার বাইরের হতে হবে। তাদের আরো মানসম্পন্ন ও দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য প্রতি সপ্তাহে স্পোকেন ইংলিশ থেকে শুরু করে পেপার প্রেজেন্টেশনসহ নানা বিষয়ে গ্রুমিংয়ের আয়োজন করা হয়।


মন্তব্য