kalerkantho


জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা

হিমেল হাসান   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘িলিভ ইন ফিল্ড এক্সপেরিয়েন্স’ বাধ্যতামূলক একটি কোর্স। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকেই তিন ক্রেডিটের বা দুই সপ্তাহের এই কোর্সটি করতে হয়।

মাস্টার্সের এই কোর্সে তাঁদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হয়। মানিকগঞ্জ, বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট, সিলেট, ঠাকুরগাঁও ইত্যাদি এলাকার গ্রামগুলো ঘুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম দেখেন তাঁরা। সেই অফিসগুলোয় গিয়ে জানার চেষ্টা করেন, কিভাবে সাধারণ মানুষের জীবনমান বদলে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা গ্রামের গৃহবধূর উঠানে বসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন—আজ থেকে ১০ কি ২০ বছর আগেও কেমন ছিলেন? আর এখন সংস্থাগুলোর সাহায্য নিয়ে তিনি কেমন আছেন। নানা সমস্যার কথা বলেন তিনি, সেগুলোর সমাধানের গল্পও জানান। এভাবে কোনো অঞ্চলের মানুষের সমস্যা, সেগুলোর সমাধানের পদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে গবেষণামূলক কাজ করেন তাঁরা। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কোর্সের তথ্য-উপাত্তগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১৪ দিনের কোর্স হলেও পরের সেমিস্টারের পুরোটাজুড়েই এই ‘লিভ ইন ফিল্ড এক্সপেরিয়েন্স’ কোর্সের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয়, গবেষণাপত্র উপস্থাপন করতে হয়। কেন এই কোর্স চালু করা হলো—এই প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বললেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের বাস্তবজীবনের অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্যই এই কোর্সটি চালু করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিবিএ—যেকোনো বিষয়ের শিক্ষার্থীর জন্যই এই কোর্স বাধ্যতামূলক। ’ তিনি আরো বললেন, ‘আমাদের পরে আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এই কোর্সটি চালু করেছে। এটি ভালো উদ্যোগ। ’ কোর্সটির সফলতা নিয়ে তিনি জানালেন, এই কোর্সের মাধ্যমে মানুষের বাস্তবজীবনের সমস্যাগুলো আমরা চিহ্নিত করতে পারি এবং সেগুলো সমাধানের জন্য কার্যকর সুপারিশ প্রদান করা সম্ভব হয়।


মন্তব্য