kalerkantho


গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি গবেষণাকেন্দ্র

আইইউবিতে আছে বেশ কয়েকটি গবেষণাকেন্দ্র। নানা ধরনের গবেষণা করে তারা। সেগুলো নিয়ে লিখেছেন মীর হুযাইফা আল মামদুহ

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সেন্টার ফর সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ (সিএসএসআর)

শুধু বাংলাদেশই নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক নানা ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা করে এটি। কেন্দ্রটি এখন এই অঞ্চলের জনসংখ্যা, আবহাওয়া, উন্নয়ন কার্যক্রম, ইতিহাস, সংস্কৃতি, জাতিগত পরিচয়, বিশ্বায়ন ইত্যাদি নিয়ে কাজ করছে। এই সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণাগারটি ইউজিসির অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি এটি তাদের গবেষণাকর্মগুলো নিয়ে দুটি বই প্রকাশ করেছে—‘আইডেনটিটি অ্যান্ড গ্লোবালাইজড ওয়ার্ল্ড : ডাইমেনশন, ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ’ ও ‘মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল আইডেনটিটি : টেক্সট অ্যান্ড কনটেন্টস। ’

 

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিএডি)

এটি জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে ও দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন গবেষণাকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে তাদের কার্যক্রমে নেতৃত্বদান, এই অঞ্চলের জলবায়ুর পরিবর্তন ও সেটির প্রভাব বিশ্বদরবারে তুলে ধরে।   

 

নজরুল-আব্বাসউদ্দীন রিসার্চ সেন্টার

দেশের গানের দুই প্রধান পুরুষ কাজী নজরুল ইসলাম ও আব্বাসউদ্দীন আহমদের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করে এই সেন্টার। তাঁদের নিয়ে বই, গানের অ্যালবাম, জার্নাল প্রকাশ করে। তাঁদের সম্পর্কে তরুণদের জানানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত হয় সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, গান ও আলোচনা অনুষ্ঠান।   

 

বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট (বিএলআই)

বাংলাদেশে কাজ করা বিদেশি গবেষক, দূতাবাসের কর্মী, ছাত্র-ছাত্রীদের এখানে আমাদের ভাষা শেখানো হয়। সে জন্য শ্রেণিকক্ষ তো আছেই, অনলাইনেও কোর্স করা যায়। কোর্সগুলোর অন্যতম হলো, ফুলব্রাইট ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং প্রগ্রাম, ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ এরিয়া স্টাডিজ অ্যাওয়ার্ড (এফএলএএস), ক্রিটিক্যাল ল্যাঙ্গুয়েজ স্কলারশিপ (সিএলএস) ইত্যাদি।

 

দ্য সেন্টার ফর কগনিটিভ স্কিল এনহ্যান্সমেন্ট (সিসিএসই)

ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা ও কল্পনাশক্তির বিকাশে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে এই সেন্টার। এগুলোর মধ্যে আছে টুডি ও থ্রিডি গেম ডেভেলপমেন্ট, এনিম্যাশন কর্মশালা, জাভা প্রগ্রামিং কর্মশালা ইত্যাদি।

 

দি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড হেলথ (আইসিবিএইচ)

স্বাস্থ্যোন্নয়ন ও বায়োটেকনোলজি খাতে নব আবিষ্কার ও গবেষণা করে আইসিবিএইচ। সে জন্য বিশ্বখ্যাত হেইডেলবার্গ, ম্যাকমাস্টার, ভারমন্ট, ওয়াগনার বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও আইসিডিডিআরবি তাদের সাহায্য করে।

 

সেন্টার ফর আরএমজি স্টাডিজ (সিআরএমজিএস)

রেডিমেট গার্মেন্ট খাতের উন্নয়নে নানা গবেষণা করে, ব্যবসার মডেল তৈরি করে এবং সামাজিক দায়িত্বগুলো সম্পর্কে জানায়। মারচেনডাইজিংয়ের ওপর ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করে, ম্যানেজমেন্ট ও লিডারশিপের ওপর কোর্স করায়, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কে কর্মীদের সচেতন করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ম্যানেজারদের শুধু স্বল্পমেয়াদের ডিপ্লোমা কোর্সই করানো হয় না, বরং তাদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে উন্নত দেশের মানে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই সেন্টার থেকে নানা ধরনের উদ্দীপনামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়।        

 

দ্য সেন্টার ফর রিসার্চ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (সিআরইই)

শুধু গ্যাস নয়, অন্য কোনো বিকল্প জ্বালানির ওপর সব ধরনের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কাজ করে এই সেন্টার। এ জন্য তারা সভা-সেমিনারের মাধ্যমে কয়লা ও পারমাণবিক শক্তির নতুন ব্যবহার সম্পর্কে জানায়। বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সন্ধান করে, স্থানীয় ও আঞ্চলিক জ্বালানি শক্তিগুলোর ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করে।   

 

গ্রিন এনার্জি রিসার্চ সেন্টার

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধীনে প্রতিষ্ঠিত গবেষণাকেন্দ্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করে। এ ছাড়া যেসব জ্বালানি আমরা ব্যবহার করি, সেগুলোর কার্যকর ব্যবহারের জন্য নানা ধরনের প্রযুক্তি আবিষ্কার করে। এরই মধ্যে সেন্টার গ্রিড-টাই ইনভার্টার, ফ্রিকোয়েন্সি ডাইভার উদ্ভাবন করেছে।

 

সেন্টার ফর পেডাগজি (সিপি)

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত এই সেন্টার প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে ছাত্র-শিক্ষকদের মান উন্নয়ন ও তাঁদের বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদানের প্রচেষ্টা নেয়। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম বিনিময়ের মাধ্যমেও ছাত্র-শিক্ষকদের মান উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়। শিক্ষকরা যাতে বিশ্বমানের শিক্ষা দিতে পারেন, সে জন্য নানা ধরনের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা করা হয়।     

 

সেন্টার ফর হেলথ, পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিএইচপিডি)

উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের জন্য সেন্টার এসংক্রান্ত সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করে, গবেষণার পদ্ধতি নিয়ে স্বল্পমেয়াদি কোর্স করায়, গবেষণাপত্র প্রকাশ করে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষকদের নিয়ে গবেষণাকর্ম পরিচালনা করে। এরই মধ্যে হার্ভার্ড, ব্রাউন, ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো, আইসিডিডিআরবির সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা করেছে। তারা পরিকল্পনা কমিশন, বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএফপিএর সঙ্গে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করছে।


মন্তব্য