kalerkantho


দক্ষ পেশাজীবী গড়ে তোলে আইইউবি

ছাত্র-ছাত্রীদের কর্মজীবনের উপযোগী করে তোলার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা নেয় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। তাদের সেসব কার্যক্রম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে লিখেছেন হিমেল হাসান

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দক্ষ পেশাজীবী  গড়ে তোলে আইইউবি

বছর দুয়েক আগে পাস করেছেন তিনি। শেখ হাশমী রাফসানজানী এখন বাংলাদেশে গুগলের কান্ট্রি মার্কেটিং কনসালটেন্ট।

তার পরও সেই ক্যাম্পাস, নিজের সাফল্যের পেছনে প্রিয় আইইউবির অবদানের কথা ভুলতে পারেন না তিনি। সে কথাই বললেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসের জীবনটি দারুণ ছিল। বন্ধুরা সব একসঙ্গে লেখাপড়া করেছি, ঘুরেছি। আমার আজকের এই অবস্থানের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেক অবদান আছে। তাঁরা আমাদের লেখাপড়ার বাইরে বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা জোগাতেন। ফলে নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি, আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বিতর্ক করেছি। তাতে অনেকের সঙ্গে উঠা-বসা হয়েছে, নতুন যোগাযোগ হয়েছে। যুক্তি দিতে শিখেছি। সেগুলো কর্মক্ষেত্রেও কাজে লেগেছে। ফিন্যান্সের ছাত্র হিসেবে অনেক ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধান করেছি, প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছি। সেসব অভিজ্ঞতা কর্মক্ষেত্রে নানা সমস্যা সমাধানে অনেক কাজে দিচ্ছে। ’

তাঁর মতো ছাত্র গড়ে তোলাই এই বিশ্ববিদ্যালয়েরও লক্ষ্য। এখনকার সবচেয়ে প্রচলিত লিবারেল আর্টস মডেল অনুসারে ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে একজন শিক্ষার্থী শুধু লেখাপড়ায়ই ভালো হন না, ব্যক্তি ও কর্মজীবনের সব ক্ষেত্রেই তিনি দক্ষ হয়ে ওঠেন। এ কারণে প্রকৌশল বা ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্রকেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হয়। আর্টসের কোর্স তাঁকে পড়তে হয়। এখানেই ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর অনন্যতা।

ক্যাম্পাস ছেড়ে গেলেও যাতে সাবেক ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে, সে জন্য আছে আইইউবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। এটি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সাবেক ছাত্র-ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে এসে নানা কর্মশালায় অংশ নেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা বর্তমানদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। এভাবেই ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হন এখনকার ছাত্র-ছাত্রীরা।

এ ছাড়া তাঁরা যাতে ভালো প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করতে পারেন, সে জন্য ‘ক্যারিয়ার গাইডেন্স অ্যান্ড প্লেসমেন্ট সেন্টার’ আছে। সব বিভাগেরই শেষ সেমিস্টারের ছাত্র-ছাত্রীদের ইন্টার্ন করতে হয়। তাঁরা কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন, সেখানে কাজের ধারা কী হবে, সেন্টার—এসব পরামর্শ দেয়। এ ছাড়া যেকোনো বিভাগের যেকোনো বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীকেই ক্যারিয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। কিভাবে সিভি লিখতে হবে, চাকরির সাক্ষাৎকারের সময় যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে, সেসব পরামর্শ নিয়ে এখানে নিয়মিত কর্মশালা হয়। সেন্টারের সহকারী পরিচালক শারমীন ইসলাম বলেন, ‘প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে এসে আমরা নানা ধরনের কর্মশালা করি। সেগুলোতে তাঁরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন, নানা পরামর্শ দেন। এ ছাড়া আমরা জব ফেয়ারের আয়োজন করি। ফলে চাকরি নিয়েই ছাত্র-ছাত্রীরা ক্যাম্পাস ছাড়তে পারেন। ’

শুধু চাকরিই নয়, উচ্চতর লেখাপড়ায় সাহায্য করার জন্য হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড, স্ট্যানফোর্ড, কলম্বিয়া, জন হপকিন্স, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তিয়াগো, বার্কলেসহ বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইউবির শিক্ষা কার্যক্রম বিনিময় চুক্তি আছে। এ বিষয়ে বলতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক কে এইচ আমিনুল হক বলেন, ‘বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষাচুক্তির আওতায় সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা শিক্ষকরা এখানে আসছেন, বিশ্বখ্যাত গবেষকরা আমাদের ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে গবেষণা করছেন। গবেষণা কার্যক্রমে বেশি জোর দেওয়া হয় বলে এ ধরনের কার্যক্রমই তাঁদের সঙ্গে আমাদের ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চতর শিক্ষা নেয়। ফলে আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্বমান লাভ করেন। ’

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে ছয়টি স্কুল—স্কুল অব বিজনেস, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স, স্কুল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস, স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেস ও স্কুল অব পাবলিক হেলথ। স্কুলগুলোর অধীনে প্রায় ২০টি বিভাগ আছে। বিবিএ, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভাগগুলো তো আছেই, আরো আছে মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের মতো আধুনিক বিভাগ। এসব বিভাগে ছয় হাজারের বেশি ছাত্র-ছাত্রী পড়ছেন। আছেন সাড়ে তিন শর বেশি শিক্ষক। শিক্ষকদের অনেকেই উত্তর আমেরিকার বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। এ ছাড়া এখানে পদার্থবিজ্ঞান, গণিতের মতো তত্ত্বীয় বিষয়ে স্নাতকে পড়ানো হয়।

এ ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আছে চারটি ফ্লোরের মোট সাড়ে ২২ হাজার বর্গফুটের বিশাল লাইব্রেরি। সেখানে সাড়ে ৪০০ ছাত্র-ছাত্রী একসঙ্গে পড়তে পারেন। ২৭ হাজার বই আছে। সেগুলোর মধ্যে হাজারখানেক মুক্তিযুদ্ধের বই। আর অনলাইন লাইব্রেরিতে আছে ২২ হাজার দেশি-বিদেশি জার্নাল। সপ্তাহের সাত দিনই লাইব্রেরি খোলা থাকে।


মন্তব্য