kalerkantho


গণিতে আছেন মেতে

এম এ নাছের ভূঁইয়া   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গণিতে আছেন মেতে

রীতা গণিতে বরাবরই ভালো। এ নিয়ে তাঁর অনেক গল্প আছে।

এইচএসসি পরীক্ষায় ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে গণিতের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলেছিলেন। খাতা জমা দেওয়ার পর পরীক্ষক খাতাটি উল্টেপাল্টে দেখে তারপর তাঁকে পরীক্ষার হল থেকে বেরোনোর অনুমতি দিয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল, মেডিক্যালে পড়বেন। সেখানে সুযোগ হলো না। তবে দমে যাননি। ২০০৮-০৯ সেশনে ভর্তি হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সুযোগ পেলেন গণিতে। বড় বোনের নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে ক্যাম্পাসে আসতে বেশ কষ্ট হতো। তার পরও নিয়মিত ক্লাস করেছেন। ক্লাসে বসেই ক্লাস লেকচার পড়ে ফেলতেন। নিয়মিত সেমিনারে লেখাপড়া করেছেন। বাসে বসে দিনের পড়া দিনেই শেষ করে ফেলতেন। প্রথম সেমিস্টারেই সবাইকে চমকে দিয়ে সবচেয়ে বেশি সিজিপিএ পেলেন। তবে অনেক খাটাখাটুনি করেও অনার্সে দ্বিতীয় হলেন তিনি। রীতা আক্তারের সিজিপিএ ছিল ৩.৯০। এরপর আরো মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করলেন। মাস্টার্সে চারের মধ্যে চার পেয়ে সবাইকে চমকে দিলেন। ফলে বিভাগে প্রথমবারের মতো চালু করা এএফ মুজিবুর রহমান স্বর্ণপদক লাভ করলেন মুন্সীগঞ্জের এই মেয়ে।

তাঁর মতো আরেক সেরা ছাত্র জাকির। তবে অন্যদের মতো লেখাপড়া আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মেতে থাকার সুযোগ কোনো দিন হয়নি জাকিরের। ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়েছে। দিনমজুর বাবার পক্ষে ৯ ছেলে-মেয়ের বিশাল সংসার চালানো সম্ভব নয়। তার পরও লেখাপড়া করবেন বলে ঘর ছেড়েছেন তিনি। অন্যের বাড়িতে লজিং থেকে পড়েছেন। সেই যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষকতা শুরু করেছেন, সেটি আজও থামেনি। তবে পড়ালেখায় কোনো দিন ছেদ পড়তে দেননি জাকির হোসেন। ভোলার এক অজপাড়াগাঁয়ের ছেলে জাকিরের পরীক্ষার ফল বরাবরই ভালো। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে মেধাবৃত্তি পেয়েছেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে পেয়েছেন জিপিএ ৫। তাই শিক্ষকরাও এই কৃতী ছাত্রকে সব সময় সহযোগিতা করেছেন। স্কুলের বেতন, প্রাইভেট পড়ার খরচ দিতে হয়নি তাঁকে। কলেজের শিক্ষকদের দেওয়া টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং করেছেন। সেই দিনগুলোতেও টিউশনি করেছেন রাত ১০টা পর্যন্ত। তারপর মেসে ফিরে এসে পড়েছেন।

ছোটবেলা থেকেই গণিত ভালো লাগে বলে রসায়নে সুযোগ পেলেও ভর্তি হলেন গণিতে। জাকির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। টিউশনি করে তাঁকে লেখাপড়া, থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাড় করতে হয়েছে। তার পরও কোনো দিন ক্লাস মিস করেননি, সামনের সারিতে বসে খাতায় লেকচার তুলেছেন। বাসায় গিয়ে আবার সেগুলো রিভিশন দিয়েছেন। রেফারেন্স বই থেকে নোট তৈরি করেছেন। কোনো কিছু না বুঝলে বা কোনো সমস্যা হলে বিভাগের অধ্যাপক ড. পেয়ার আহমেদ ও ড. রেজাউল করিমের কাছে পরামর্শ নিয়েছেন। এ ছাড়া অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতাও পেয়েছেন অনেক। এভাবে পড়ালেখা করে ২০০৯-১০ সেশনে গণিত বিভাগের সর্বোচ্চ জিপিএ ৩.৯২ লাভ করেছেন তিনি। এত ভালো ফলের রহস্য কী—এ প্রশ্নের জবাবে জাকির হেসে বলেন, ‘দিনের পড়া দিনেই শেষ করেছি। আর পরীক্ষার ফাঁকে যে সময়গুলো পেয়েছি, তখন মন দিয়ে পড়েছি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘মুখস্থ করে নয়, সূত্র মাথায় রেখে গাণিতিক সমস্যার সমাধান করলে ফল ভালো হয়। ’ এখনো তাঁর মাস্টার্সের ফল প্রকাশিত হয়নি। এরই মধ্যে তিনি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (আইইউবি) গণিত বিভাগে শিক্ষকতা করছেন।


মন্তব্য